• এশিয়া কাপ ২০১৬
  • " />

     

    ২২ গজের সেলুলয়েড : 'ফ্লাই মাহমুদউল্লাহ ফ্লাই'

    ২২ গজের সেলুলয়েড : 'ফ্লাই মাহমুদউল্লাহ ফ্লাই'    

    ওয়েল লেফট, তামিম

    আগের বলে রানটা পূর্ণ করতে পড়িমড়ি ছুটেছিলেন সৌম্য, জাদেজার থ্রো স্ট্যাম্প মিস করে লাগলো তাঁর শরীরেই। নেহরার পরের বলটা সোজা খেললেন সৌম্য, সোজা ওপাশে দাঁড়ানো তামিম বরাবর! তামিম নীচু হলেন সময়মতোই, পিঠের ওপর দিয়ে বল সোজা বাউন্ডারি! আরেকটু হলেই তামিম ‘আউট’ হয়ে যেতেন মাঠ থেকেই, পরের ওভারে বুমরাহর বলে এলবিডাব্লিউ হওয়ার আগেই!

     

    মিস জাদেজা মিস

    ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট থেকে জাদেজার থ্রোটা স্ট্যাম্পে লাগলে সৌম্যের ইনিংসটা শেষ হয়ে যেতে পারতো তখনোই। পরের ওভারে জাদেজার হাত থেকে বাঁচলেন তামিম, এবার পয়েন্ট থেকে এসেছিল থ্রো। তামিমের ওপাশে ছিলেন সাব্বির। এগারতম ওভারে বাঁচলেন সেই সাব্বিরই, মিড-অফ থেকে সরাসরি স্ট্যাম্প ভাঙ্গতে ব্যর্থ হলেন সেই জাদেজাই! ইনিংসে অবশ্য একটি রান-আউট হলো, কোহলি-ধোনীর যুগলবন্দীতে ফিরলেন মুশফিকুর রহীম, জাদেজার ওভারেই!

     

    ফ্লাই মাহমুদউল্লাহ ফ্লাই

    ১১৬.৬৬, ১৩৩.৩৩, ১৯১.৬৬, ১৪৬.৬৬, ২৫৩.৮৪- এশিয়া কাপে মাহমুদউল্লাহর স্ট্রাইক রেট। ফাইনালে যখন নামলেন, ১১.৪ ওভারে ৭৫ রানেই নেই ৫ উইকেট। পরের ২০ বলে এলো ৪৫ রান, মাহমুদউল্লাহর ১৩ বলে ৩৩ রানের ওই ইনিংসের ওপর ভর দিয়েই তো! পান্ডিয়ার এক ওভারে এলো ২১ রান, বাংলাদেশ পেল লড়াই করার পুঁজি। সব তো ওই ‘উড়ন্ত’ মাহমুদউল্লাহর কল্যাণেই!  

     

    সৌম্য ইন দ্য স্লিপ

    আরব আমিরাতের সঙ্গে ছেড়েছিলেন রোহান মুস্তাফার ক্যাচ। দ্বিতীয় স্লিপেই। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই সৌম্য আবার ছাড়লেন, এবার দীনেশ চান্ডিমালকে। দু'বারই দুর্ভাগা বোলার ছিলেন তাসকিন আহমেদ! তবে ফাইনালে আল-আমিনকে ‘দুর্ভাগা’ বানাননি সৌম্য, রোহিতের ক্যাচটা নিলেন ঠিকভাবেই। টুর্নামেন্টের ৫ ম্যাচে চারবারই নিজের প্রথম ওভারে উইকেট নিলেন আল-আমিন।

     

    তিন ‘সুযোগ’ আর এক ওভার

    প্রথম বলেই ‘এজ’, তবে স্লিপ নেই যে কোনও! চতুর্থ বলটা মিড-অফকে ফাঁকি দিতে পারলো অল্প দূরত্ব রেখেই। ষষ্ঠ বলে আবার ‘এজ’, স্লিপও ছিল। তবে বল গেল স্লিপ আর কিপারকে দুইদিকে রেখে, মাঝ দিয়ে! আবু হায়দার নিজেকে অভাগা ভাবতেই পারেন, তিনটি সুযোগ সৃষ্টি করেও সে ওভারে যে তাঁকে গুণতে হলো ১৪ রান!

     

    ব্যাকফুটে ব্যাটসম্যান, ব্যাকফুটে বাংলাদেশ

    আবু হায়দারের ওভারের পরের ওভার। বোলার সাকিব আল হাসান। প্রথম বলে কোহলি ব্যাকফুটে, মিড-উইকেট দিয়ে চার। তৃতীয় বলে ধাওয়ান ব্যাকফুটে, এবার লেটকাটে চার। ষষ্ঠ বলে আবার ধাওয়ান, আবার ব্যাকফুটে, এবার চার মিডউইকেট আর স্কয়ার লেগের মাঝ দিয়ে। ব্যাকফুটের তিন চার বাংলাদেশকে ঠেলে দিল আরও ব্যাকফুটে! সেই যে গেল, ফ্রন্টফুটে আর আসা হলো না বাংলাদেশের!

     

    বড্ড দেরী

    কখনও ক্যাচ ধরতে গিয়ে চার হয়ে গেল বল, ফিল্ডিং মিস হলো একটুর জন্য। সুযোগ কাজে লাগানো গেল না একটাও। 'হাফ-চান্স' নিজেদের করে নিতে পারলো না বাংলাদেশ। সৌম্য অবশেষে পয়েন্টে ধরলেন অসাধারণ এক ক্যাচ। শিখর ধাওয়ানের রান তখন ৬০, ম্যাচও তো ভারতের হাতে! 'অসাধারণ' হতে তাই বড্ড দেরী করে ফেললেন সৌম্যরা, ফাইনালটাও তাই করে নেয়া হলো না নিজেদের!