• ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ান
  • " />

     

    নেইমার-ইকার্দির শেষ মুহূর্তের গোলে হাঁপ ছেড়ে বাঁচল পিএসজি

    নেইমার-ইকার্দির শেষ মুহূর্তের গোলে হাঁপ ছেড়ে বাঁচল পিএসজি    

    ম্যাচ শেষ হতে বাকি ছিল আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড। তখনই এমবাপের এক ক্রসে মাথা লাগিয়ে ইকার্দি বল পাঠিয়ে দেন জালে। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও তাই ২-১ গোলে ম্যাচটা জিতে নেয় পচেত্তিনোর শিষ্যরা। এর আগে পেনাল্টি থেকে গোল করে নেইমার সমতায় ফিরিয়েছিলেন পিএসজিকে। পাকেতা তারও আগে গোল করে এগিয়ে দিয়েছিলেন অলিম্পিক লিঁওকে। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাদের ফিরতে হয়েছে খালি হাতেই।

    বার্সেলোনা বাদে অন্য কোন ক্লাবের জার্সি গায়ে মেসিকে গোল করতে দেখেনি ফুটবল। পিএসজির জার্সি গায়ে আজকে অবশ্য বেশ কয়েকবার গোলের কাছে গিয়েও ফিরে এসেছেন তিনি। শুরুর দিকেই লিঁওর বিপক্ষে আজকের ম্যাচে পেয়ে গিয়েছিলেন একটা দারুণ সুযোগ। ডি মারিয়ার দুর্দান্ত এক ক্রস বুক দিয়ে রিসিভ করেছিলেন, কিন্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগেই হাজির লিঁও ডিফেন্ডাররা, মেসির তাই শটই নেওয়া হয়নি। 

    আরেকবার শট নিয়েছিলেন, কিন্ত বল জালে জড়াতে হয়েছেন ব্যর্থ। সেটির বিল্ডআপটার সূচনা করেছিলেন মেসিই। দারুণভাবে ক্রসে বল বাড়িয়েছিলেন বাঁ পাশে নেইমারের দিকে, এরপর নেইমার সামনে এগিয়ে ডিবক্সে বাঁ দিক থেকে ভিতরে ঢুকার সময় ব্যাকহিল পাসে বল পিছনে ঠেলে দিয়েছেন মেসির উদ্দেশ্যে, কিন্ত মেসি পারেননি লিঁও গোলরক্ষক লোপেসকে পরাস্ত করতে। অবশ্য এরপর একবার মেসির নেওয়া ফ্রিকিকে লোপেসের দর্শক বনে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। লোপেস তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলেনই, কিন্ত মেসির দুর্ভাগ্য, সেবার বাঁধা হয়ে আসে ক্রসবার। তাঁর বাঁ পায়ের বাঁক খাওয়া শট বাঁক খেতে খেতে বারে লেগে গিয়ে চলে যায় বাইরে। মেসি গোল পান না তাই। প্রথমার্ধ শেষ হয়, পিএসজিও বিরতিতে গেছে গোলবিহীন। 

    মেসি, নেইমার, এমবাপে- এই তিন ত্রয়ীর সাথে আক্রমণভাগে ডি মারিয়া মিলে সুযোগ তৈরি করেছেন, কিন্ত বল শেষমেশ জাড়ে জড়াতে পারেননি কেউই। পারেনি অলিম্পিক লিঁওর খেলোয়াড়েরাও, অবশ্য বেশ কয়েকবার ভালো সুযোগ তৈরি করে তারা পিএসজির জন্য হুমকির কারণই হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। তবে শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধ শেষে দুদল বিরতিতে গেছে ০-০ স্কোরলাইনে। প্রথম অর্ধে কোন গোলের দেখা না মিললেও গোল আসতে যে খুব বেশি দেরি নেই, সে ইঙ্গিত দিচ্ছিলো দুদলই। এরপর ৫৪ মিনিটে শেষমেশ এসে যায় ম্যাচের প্রথম গোল। ডান পাশ থেকে আসা লম্বা বল বাঁ পাশে থাকা ইকাম্বি পেয়ে ক্রস করেছেন, এরপর পাকেতা বল পেয়ে দুর্দান্তভাবে বাঁ পায়ের শটে বল পাঠিয়ে দিয়েছেন ডোন্নারুমার জালে। 

    পিছিয়ে পড়া পিএসজি গোলের জন্য এরপর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে। প্রথমার্ধে উত্তেজনার কমতি ছিল না, দ্বিতীয়ার্ধে তা বেড়ে যায় আরও। দ্বিতীয়ার্ধে সেভাবে খুব বেশি পরিস্কার সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও গোলের দেখা পেয়েই যায় পিএসজি। ডিবক্সে লিঁও ডিফেন্ডার গুস্তোর ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি আদায় করেই নেন নেইমার। পেনাল্টি থেকে পাওয়া তাঁর গোলে এরপর সমতায় ফিরে পিএসজি। অন্যদিকে অলিম্পিক লিঁওর ফুটবলাররাও সুযোগ পেলেই আক্রমণে উঠার চেষ্টা করে গেছেন। তবে এক পয়েন্ট নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারলেও তাদের খুব বেশি আক্ষেপ হয়তো থাকতো না। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তারা যখন মাঠ ছেড়েছে, তখন হতাশাই ভর করেছিলো তাদের উপর। 

    যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটেই যে ইকার্দির গোলে জিতে যায় পিএসজি। বাঁ প্রান্ত থেকে এমবাপের অসামান্য এক ক্রসে খুঁজে নিয়েছিল ইকার্দিকে, পিএসজির এই স্ট্রাইকার এরপর তা জালে জড়িয়ে দিতে কোনও ভুল করেননি। উত্তেজনাপুর্ণ এক ম্যাচের শেষ মুহুর্তে তাঁর সে জয়সুচক গোলের পর উল্লাসে ফেটে পড়ে পিএসজি সমর্থকেরা। হারতে বসা সে ম্যাচ পিএসজি জিতে নেয় ২-১ গোলে, লিগ ওয়ানের এ মৌসুমে পিএসজির এটি ছিল টানা ষষ্ঠ জয়।