• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ডাগ আউটের ঝাঁঝ-অ্যানফিল্ডের তাপে চার গোল খেয়ে বাড়ি ফিরল আরতেতার আর্সেনাল

    ডাগ আউটের ঝাঁঝ-অ্যানফিল্ডের তাপে চার গোল খেয়ে বাড়ি ফিরল আরতেতার আর্সেনাল    

    রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। ক্লপের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা হলো; চিৎকার করে বললেন ‘উচ্ছন্নে যেতে’। কিন্তু কী লাভ হলো তাতে? ডাগআউটে আরতেতার মেজাজটা তাই আর খেলায় নিয়ে আসা হয়নি গানারদের। দ্বিতীয়ার্ধে আচমকা ঝড়ের তাসের ঘরের মতো চুরমার হলো তাই আর্সেনালের ডিফেন্স, আরতেতার উচ্চাভিলাসী ট্যাকটিক্স; আর চুরমার হলো আর্সেনালের টানা দশ ম্যাচ না হারার সাময়িক রেকর্ডটাও; ক্লপের লিভারপুলের কাছে ৪-০ গোলে উড়ে গিয়ে তাই আরতেতার আর্সেনালের সাফল্যটা এখন শুধুই অতীত সুখস্মৃতি।

    উচ্চাভিলাসী বলা এই কারণে যে লিভারপুলের সঙ্গে টক্কর দিয়ে হাই ব্যাকলাইন নিয়ে খেলার সাহস দেখানোটা নিশ্চয়ই বাহবা দেখানোর বিষয়। সে টোটকা অবশ্য শুধুই গানারদের বিষিয়ে দিয়েছে; সালাহ-জটা-মানে ত্রয়ী দ্বিতীয়ার্ধে রীতিমত ছেলেখেলা করেছেন বেন হোয়াইট-গ্যাব্রিয়েল-নুনো তাভেরেসদের সঙ্গে। বল পজেশন ধরে রেখে খেলাটা কোনভাবেই করতে পারেনি আর্সেনালের ব্যাকলাইন আর দুইজন হোল্ডিং মিডফিল্ডার। উলটো বিপজ্জনক জায়গায় বল খুঁইয়েছেন, ভুলের পরিণাম গুনেছেন গোল খেয়ে। 

    তবে ম্যাচে নাটক যা হবার, তা হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের ত্রিশ মিনিটের মাথায়। একত্রিশ মিনিট থেকে শুরু করে পরবর্তী পাঁচ মিনিট যা হলো, তাতেই ম্যাচের পারদ একেবারে উঁচুতে। বল দখলে নেওয়ার জন্য সাদিও মানে ও তাকেহিরো তোমিয়াসুর একসঙ্গে লাফিয়ে ওঠাটা মোটেও বড় কোন বিষয় ছিল না। বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াল আর্সেনালের বিপক্ষে ফাউল ডাকায়। তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন আরতেতা; হাত ছুঁড়ে-বুলি আউরে ছুটে গেলেন ক্লপের দিকে তেড়ে। ক্লপও শান্ত ছিলেন না; রীতিমত দুইজনের দুই সহযোগী ধরে থেকে সম্ভাব্য মারামারি এড়িয়েছেন। দুইজনের ঠোঁটের নড়ন দেখে বোঝা গেল, গালি দিতেও খুব একটা ভদ্রতা করেননি। ফলাফল- ম্যাচের প্রথম দুইটি হলুদ কাডে নাম উঠলো দুই ম্যানেজারের।

    তবে মানসিকভাবে যে আরতেতা এই বিবাদে পরাস্ত হয়ে যাবেন, তাও আবার মিনিট তিনেকের মাঝেই- সেটা হয়তো ভাবেননি। বক্সের ঠিক বাইরে মানেকে ফাউল করে ফেসে যান গ্যাব্রিয়েল। ঠাণ্ডা মাথায় ট্রেন্ট আলেক্সজান্ডার-আরনল্ডের বাকানো ফ্রি-কিক, তার চাইতেও ঠাণ্ডা মাথায় সাদিও মানের হেডে ফিনিশিং- প্রথম গোলে শেষ পাঁচ মিনিটের চলমান ‘থ্রিলিং’ নাটকীয়তা।

    এরপরের অংশটুকু শুধুই লিভারপুলের রাজত্ব। মাঠ দাপিয়ে, পোস্ট বাড়িয়ে, ডিফেন্স নাচিয়ে শুধু আক্রমণে গেছে ক্লপের লিভারপুল। ববি ফিরমিনো নেই, তাতেও কিছু হয়নি। তার কাজটা ঠিকই সেরেছেন মানে-জোটা দুইজন মিলে। দ্বিতীয়ার্ধে জোটাও দেখালেন তার ঠাণ্ডা মাথার নমুনা। তাভেরেস ব্যাক লাইন থেকে বল সামনে পাস করতে গিয়ে আর কাউকে দেখেননি, সোজা পাঠিয়ে দিলেন বক্সের বাইরে ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে থাকা জোটার দিকেই। জোটা বল নিয়ে ঢুকলেন, বেন হোয়াইট চেষ্টা করলেন স্লাইড ট্যাকলে বল কেড়ে নিতে- কাজ হলো না। টমিয়াসু এলেন, তাকেও কাটালেন। র‍্যামসডেল একটা শেষ চেষ্টা করলেন, তাকেও নিরাশ করে শূন্য জালে জোটার গোল। 

    এখান থেকে আর ম্যাচে ফেরেনি আর্সেনাল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ঠিক এক মাস আগে সালাহ ঝড়ে যেভাবে উড়ে গিয়েছিল, ঠিক সেভাবেই বাতাসে ভেসে গেল আর্সেনালের গেইম প্ল্যান। তৃতীয় গোল যে আরোও নান্দনিক, যার মূল নায়ক অল রেডের আক্রমণের তিন ত্রয়ী। হাই লাইনের ডিফেন্সকে আরোও বের করে এনে জোটা বল বাড়ালেন মানের দিকে। মানেকে আটকানোর আগেই তার ক্রস সালাহ’র কাছে। উড়ন্ত বল সালাহ’র পায়ে এসে উড়ে গেল জালের দিকে, র‍্যামসডেলও উড়লেন- তবে ভুল দিকে, অবশ্য করার কিছু ছিল না। তিন নম্বর গোলের পর জোটাকে উঠিয়ে ক্লপ নামালেন মিনামিনোকে। বেঞ্চ থেকে নামার ৪৮ সেকেন্ডের মাথাতেই চতুর্থ গোলটা করে ম্যাচটাকে সেখানেই শেষ করে দেন তিনি। 

    তবে চেষ্টা করে গিয়েছিলেন অ্যারন র‍্যামসডেল। মৌসুম শুরুর আগেই যিনি রেলিগেটেড হয়ে গিয়েছিলেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের সঙ্গে, কিংবা আগের মৌসুমে বোর্নমাউথের সঙ্গে। আর্সেনাল তাকে ২৫ মিলিয়ন দিয়ে কেনায় চোখ কপালে তুলেছিলেন অনেকে। সবাইকে অবশ্য ভুল প্রমাণ করেছেন শেষ কয়েক ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়েই, আজও পোস্টে ছিলেন দেয়াল হয়ে। সালাহ’র একটা শট যেভাবে ঠেকিয়েছেন, তার চেয়েও প্রশংসা পেয়েছেন যে রিফ্লেক্সে বল দূরে ঠেলে দিয়েছিলেন সালাহ’র কাছ থেকে। একেবারে শূন্য পরিমাণ জায়গা থেকে জোটার বল ক্লিয়ার করেছেন, আঘাত পেয়েছেন বুকেও। কিন্তু এত অনবদ্যতা দেখানোর ফলাফলটা হয়ে রইল শূন্যতেই, ঠিক ম্যাচে আর্সেনালের করা গোল সংখ্যার মত। আর শূন্য, গোমড়া মুখ নিয়েই অ্যানফিল্ড থেকে বাড়ি ফিরতে হলো আরতেতাকে। তবে, ক্লপ যে এবার ইপিএলের ট্রফির জন্য ছেড়ে কথা মোটেও কইবেন না- সে বার্তা যেন আবারও দেওয়া হয়ে গেল।