• ক্রিকেট, অন্যান্য
  • " />

     

    টেইলরের স্পট ফিক্সিং স্বীকারোক্তি: যেভাবে জড়িয়ে গেলেন ব্ল্যাকমেইলারদের জালে

    টেইলরের স্পট ফিক্সিং স্বীকারোক্তি: যেভাবে জড়িয়ে গেলেন ব্ল্যাকমেইলারদের জালে    

    ফিক্সিংয়ের প্রস্তাবনা পেয়ে আইসিসিকে অবহিত না করায়, কয়েক বছরের নিষেধাজ্ঞা পেতে যাচ্ছেন ব্রেন্ডন টেইলর। টুইটারে চার পৃষ্ঠার এক বিবৃতিতে তা নিজেই জানিয়েছেন জিম্বাবুয়ের সাবেক এই অধিনায়ক।

    ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়ে আইসিসিকে জানাতে চার মাস দেরি করেছেন টেইলর। মূলত এ কারণেই তার ওপর নেমে আসতে যাচ্ছে নিষেধাজ্ঞার খড়গ। এই ব্যাপারে টেলর জানিয়েছেন, নিজের পরিবারকে রক্ষা করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি। টেলরের দাবি অনুযায়ী, প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিনি। 

    টুইটারে টেইলর জানান, ‘আইসিসিকে জানাতে চার মাস সময় লেগেছে আমার। আমি জানি অনেক দেরি করে ফেলেছি। এর নেপথ্যে ছিল আমার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার ভাবনা। আইসিসিকে আমি নিজে থেকেই সব জানিয়েছি। আশা করছি আইসিসিও আমার এই ব্যাপারটি বুঝবে।’ 

    ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালের অক্টোবরে। জিম্বাবুয়েতে এক  টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট চালুর ব্যাপারে আলোচনা করতে টেইলরকে নৈশভোজের প্রস্তাব দেন এক ভারতীয় ব্যবসায়ী। ভারতে অনুষ্ঠিত সেই নৈশভোজে উপস্থিত হয়ে কোকেইনও গ্রহণ করেন টেলর। টেলরের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই দৃশ্য গোপন ক্যামেরাতে ধারণ করে পরবর্তীতে তাকে চাপে ফেলা হয়।

    টুইটারে এই প্রসঙ্গে টেইলর বলেন, ‘২০১৯ সালে অক্টোবরের শেষদিকে এক ভারতীয় ব্যবসায়ী জিম্বাবুয়েতে এক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ব্যাপারে কথা বলতে আমাকে অনুরোধ করেন। যদি টুর্নামেন্ট চালু হয়, তাহলে আমি ১৫ হাজার ডলারও পাব বলে জানান তিনি। 

    তেমন সতর্ক ছিলাম না তখন, অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সময়টাও ভালো যাচ্ছিল না। প্রায় ছয় মাস জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড আমাদের বেতন দেয়নি। বুঝতেও পারছিলাম না, জিম্বাবুয়ে ভবিষ্যতে আদৌ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে থাকবে কিনা। তাই বাধ্য হয়েই ভারতে সেই নৈশভোজে যোগ দিই। সেখানে আমাকে কোকেইন নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হলে, বোকার মতো আমি তা সেবনও করি। পেটে অস্বস্তি বোধ করার পর টের পাই, ওই ব্যবসায়ী আমার সাথে কীভাবে খেলেছেন।’

    পরদিন সকালে টেইলরের হোটেলরুমে পাঁচজন সঙ্গীসহ উপস্থিত হয়ে তাকে একটি ভিডিও দেখান সেই ব্যবসায়ী। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, কোকেইন সেবন করছেন টেলর।

    কোণঠাসা হয়ে পড়া সেই সময়টা টেইলর বর্ণনা করেছেন এভাবে, ‘কোকেইন সেবনের ভিডিও দেখিয়ে তারা আমাকে বলে, আন্তর্জাতিক ম্যাচে স্পট ফিক্সিং না করলে এই ভিডিও তারা বাইরে প্রকাশ করে দিবে। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি।  আমাকে ১৫ হাজার ডলার দেয়া হয় তখনই। ফিক্সিংয়ে সাহায্য করলে আরো ২০ হাজার ডলার দেয়ার কথাও তারা জানায়। বাধ্য হয়েই তখন অর্থ গ্রহণ করি। আমার সামনে ‘না’ বলার উপায় ছিল না। কারণ কোনোরকম ভারত ছেড়ে চলে যাওয়াই আমার উদ্দেশ্য।’

    সেই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ নিলেও, কখনো ফিক্সিংয়ে জড়াননি বলে জানান টেইলর। টুইটারে লিখেছেন, ‘কোনো ধরণের ন্যাক্স ফিক্সিংয়ে এখন পর্যন্ত জড়িত ছিলাম না। আমি আর যাই হই না কেন, প্রতারক না। ক্রিকেট নামের সুন্দর এই খেলাটির প্রতি আমার ভালোবাসা সবকিছুরই ঊর্ধ্বে।’

    এই বিষয়ে আইসিসির কাছ থেকে এখনো কোনো বিবৃতি আসেনি। তবে সূত্র অনুযায়ী টেইলরের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে আকসু। নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে খুব জলদিই। যদিও টুইটারে টেইলরের এই স্বীকারোক্তি আকসু আমলে নিবে কিনা তা সময়ই বলে দিবে। তবে টেইলর বলেছেন, যে শাস্তিই দেয়া হোক না কেন; তিনি তা মাথা পেতে নেবেন।