• বঙ্গবন্ধু বিপিএল ২০২২
  • " />

     

    মৃত্যুঞ্জয়ের 'মারণ-ছোবল' কাটিয়ে 'সুপারম্যান সাকিব', 'মিস্ট্রি-মুজিবে' বরিশালের তিনে তিন

    মৃত্যুঞ্জয়ের 'মারণ-ছোবল' কাটিয়ে 'সুপারম্যান সাকিব', 'মিস্ট্রি-মুজিবে' বরিশালের তিনে তিন    

    খুলনা টাইগার্স-ফরচুন বরিশাল, চট্টগ্রাম (টস-বরিশাল/ব্যাটিং)
    ফরচুন বরিশাল- ১৪৯, ১৯.১ ওভার (সাকিব ৫০, শান্ত ২৮, গেইল ২৫,মৃত্যুঞ্জয় ৪/১২, শরিফুল ২/৯, আফিফ ১/১৬)
    চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স- ১৩৫, ১৯.৪ ওভার (আফিফ ৩৯, শামীম ২৯, মিরাজ ২৬*, মুজিব ৩/৯, সাকিব ৩/২৩, রানা ২/২১)
    ফলাফল: ফরচুন বরিশাল ১৪ রানে জয়ী

     

    যেই বরিশাল ঢাকা পর্ব শেষে ছিল পয়েন্ট তালিকার তলানির দিকে তারাই এখন শীর্ষে। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান যখন জ্বলে উঠেছেন তখন বরিশাল যে শীর্ষে থাকবে তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। আরও একদিন ব্যাটে-বলে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন; সাথে মুজিব-উর-রহমান জুজুতে চট্টগ্রামকে পর্যুদস্ত করে চট্টগ্রামে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে বরিশাল।

    সাকিব আল হাসান: একমেবাদ্বিতীয়ম

    জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এসেই সাকিব নিজেকে ফিরে পেয়েছেন। আর সাকিব যেদিন সাকিব হয়ে ওঠেন সেদিন প্রতিপক্ষের আত্মসমর্পণ ছাড়া অন্য কিছু তেমন দেখাও যায় না। গত ম্যাচের পর এই ম্যাচেও অলরাউন্ড সাকিবে তাই কুপোকাত চট্টগ্রাম। মিরাজ-চাঞ্চল্যে এলোমেলো চট্টগ্রাম এই ম্যাচে নিজেদের গুছিয়ে উঠেছিল। ম্যাচের প্রথমার্ধে বরিশালকে ১৪৯ রানে বেঁধে ফেলে তারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেছিল। কিন্তু ঐযে, দিনটা তো সাকিবের।

    উইকেটে আসলেন ৭ম ওভারে; ৪৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বরিশাল তখন ধুঁকছে। ইনিংস মেরামতের জন্যই সাকিব কিছুটা সময় নেন। ১৪তম ওভারের পর ২৪ বলে ২৯ রানে থাকা সাকিব গিয়ার পাল্টানোর জন্য বেছে নেন নাসুম আহমেদকে। ১৫তম ওই ওভারে তিনটি ছয় মারেন সাকিব; ওভারে আসে ২১ রান। এক ওভার পরেই ৩০ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পরের বলেই সাকিব ফিরে গেলে বরিশাল এরপরের ৫ উইকেট হারায় মাত্র ১৭ রানে।

    বল হাতে অবশ্য পেয়েছেন যোগ্য সহযোগিতা। মুজিবের কিপটে স্পেলে সাকিব পেয়েছেন আক্রমণাত্মক বোলিং করার সুযোগ। ৭০ রান করে উইকেটে জমে যাওয়া আফিফ-শামীম জুটি ভাঙেন সাকিব। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এরপর নাঈম ইসলামকে রানের খাতা খোলার সুযোগই দেননি; শেষের দিকে আক্রমণে যাওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকা চ্যাডউইক ওয়ালটনকেও এসে ফেরান তিনি। ইনিংসের পুরোটা জুড়েই তাই ছিলেন সাকিব।

    দুর্বার মৃত্যুঞ্জয়

    মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী এদিন হয়ত ম্যাচ জেতাতে পারেননি। কিন্তু সুযোগটা তৈরি করেছিলেন বল হাতে আরও একটি অসাধারণ দিন কাটিয়ে। বরিশালকে ধসিয়ে দিতে সময় নিয়েছেন মোটে ২ ওভার। ফিফটি করে ইনিংস বড় করার আগেই সাকিবকে ফিরিয়ে তিনি এন দেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু। ১৯তম ওভারে এসে তো এদিন আবারও তৈরি করেছিলেন হ্যাটট্রিকের সুযোগ। হ্যাটট্রিক না পেলেও তিন উইকেট নিয়ে ওই ওভারেই গুঁটিয়ে দিয়েছেন বরিশালের ইনিংস। নুরুল হাসানকে প্রথম বলেই অসাধারণ ফিরতি ক্যাচে ফেরান তিনি। এক বল পরেই টানা দুই বলে কাটার আর ওয়াইড ইয়র্কারে ফেরান ইরফান শুক্কুর ও মুজিবকে। ২ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে আক্ষরিক অর্থেই ধসিয়ে দিয়েছিলেন বরিশালের লোয়ার অর্ডার।

    মুজিব-রহস্য

    মুজিবের রহস্যময়ী বোলিংয়ের সুরাহা করতে পারেনি চট্টগ্রাম। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা উইল জ্যাকস প্রথম ওভারেই তার কাছে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফেরেন, ওভারটাও হয় উইকেট মেইডেন। পাওয়ারপ্লেতে দুই ওভার করে মোটে ৩ রান দেওয়ার পর ১৪তম ওভারে আসেন নিজের কোটা পূর্ণ করতে। জ্যাকসের পর চট্টগ্রামের লোয়ার মিডল অর্ডারের স্তম্ভ বেনি হাওয়েলকেও ফেরান তিনি। আসরে প্রথমবারের মত নেমে আকবর আলী ফিরে যান তার পরের বলেই। ওই ওভারেই কার্যত ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার পর মুজিবের বোলিং ফিগার বলছিল: ৪-১-৯-৩! এরপর সাকিবের সাথে ব্রাভো ও রান ২টি করে উইকেট তুলে নিয়ে তার এই প্রচেষ্টা বিফলে যেতে দেননি।