• ফিরে দেখা বিশ্বকাপ
  • " />

     

    কেমন গেল ফ্রান্সের বিশ্বজয়ের চার বছর?

    কেমন গেল ফ্রান্সের বিশ্বজয়ের চার বছর?    

    ১৯৯৮ সালে দিদিয়ের দেশম-জিনেদিন জিদান-ক্রিস্টিয়ান কারেম্বুরা ফ্রান্সকে জিতিয়েছিলেন প্রথম বিশ্বকাপ। ঘরের মাঠে জেতা সেই বিশ্বকাপের পর কেটে গিয়েছিল ২০ বছর। ২০০৬ সালে ফাইনালও খেলেছিল তবুও জিদানদের জেতা হয়নি আরেকটি বিশ্বকাপ। ২০০৬ বিশ্বকাপে ইতালির কাছে ফ্রান্স হেরেছিল টাইব্রেকারে। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০১৮ সালে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলেছিল ফ্রান্স। ক্রোয়েশিয়াক্রে ৪-২ গোল হারিয়ে এসেছিল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। গত ১৫ জুলাই চার বছর পূর্ণ হলো ফ্রান্সের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার।

    ফ্রান্সের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের চার বছর পূর্তিতে ফিরে দেখা যাক, কেমন ছিল বিশ্বকাপজয়ী সদস্যদের গত এক বছরের পারফরম্যান্স।

     

    বিশ্বকাপের গত আসরে চার গোল করা কিলিয়ান এমবাপে সর্বশেষ মৌসুমে ছিলেন দুরন্ত ফর্মে।পিএসজির হয়ে ৪৬ ম্যাচে ৩৯ গোলের সাথে করেছেন ২৬টি অ্যাসিস্ট। জাতীয় দলের জার্সিতে নেশন্স লিগ আর প্রীতি ম্যাচে মিলিয়ে ৫ ম্যাচে ৩ গোল আর ১ অ্যাসিস্ট। 

    গত মৌসুমে বার্সেলোনা আর অ্যাটলেটিকো মিলিয়ে মাত্র ৮ গোল করেছেন  আতোয়া গ্রিজমান। ম্যাচ খেলেছেন মোট ৩৮টি। এই ৩৮ ম্যাচে ৭টি অ্যাসিস্ট ছিল তার। ফ্রান্সের জার্সিতে ৬ ম্যাচে গোল না পেলেও দুই গোলে রেখেছেন অবদান। স্ট্রাইকার অলিভিয়ের জিরু এসি মিলানের হয়ে খেলেছেন মোট ৩৮ ম্যাচ। ১৪ গোলের সাথে আছে  ৪ অ্যাসিস্ট। গত মৌসুমে খেলা দুইটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে করেছেন দুই গোল।

     

    মাঠের পারফর্ম্যান্সের চেয়ে ইনজুরির সংবাদের জন্যই আলোচনায় বেশি ছিলেন উসমান ডেম্বেলে। গত মৌসুমের বেশিরভাগই তার কেটেছে সাইডবেঞ্চে বসে। জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি এক ম্যাচও। বার্সেলোনার জার্সিতে   সব মিলিয়ে খেলেছেন মাত্র ৩২ ম্যাচ। গত মৌসুমে  তার অ্যাসিস্ট আছে ১৩টি। ডেম্বেলের মতো ইনজুরির কারণে বাইরে ছিলেন পল পগবাও। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ২৬ ম্যাচ খেলে  ১ গোল আর ৯ অ্যাসিস্ট এই মিডফিল্ডারের। মাতৃভূমির হয়ে খেলেছেন সেবার মাত্র ২ ম্যাচ। সেখানে কোনো গোল নেই, আছে একটি অ্যাসিস্ট। 

     

    যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলেন ব্লেইস মাতুইদি। সেখানে ৩২ ম্যাচ তার একটি করে গোল আর অ্যাসিস্ট আছে গত মৌসুমে। তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি একটিও। ফ্রান্স আর চেলসির মিডফিল্ডের অন্যতম ভরসা এন’গোলো কন্তে। সেন্ট্রাল কিংবা ডিফেন্সিভ; তাকে দেখা যায় দুই মিডফিল্ডারের ভূমিকাতেই। গত মৌসুমে চেলসির হয়ে নিজে করেছেন ২ গোল, করিয়েছেন আরও ৫ গোল। এদিকে জাতীয় দলের হয়ে কেবল এক ম্যাচ খেলেছেন। 

     

    হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে গত মৌসুমের বেশিরভাগ মাঠের বাইরে ছিলেন রাফায়েল ভারান। তবুও ম্যান ইউনাইটেড়ের হয়ে খেলেছেন মোট ২৮ ম্যাচ। সেখানে তার ক্লিনশিট ছিল ৪টি। জাতীয় দলের হয়ে দুই ম্যাচে একটি ক্লিনশিট। স্যামুয়েল উমতিতির দিকে তাকালে ফ্রান্স আর বার্সার ভক্তরা হতাশই হবেন। মৌসুমের পুরোটাই কাটিয়েছেন ইনজুরি নিয়ে। খেলেছেন মাত্র এক ম্যাচ। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সিতে কোনো ম্যাচই খেলতে পারেননি।

     

    গত মৌসুমে বায়ার্নের জার্সিতে বেঞ্জামিন পাভার্ড খেলেছেন মোট ৩৬ ম্যাচ। গোল না পেলেও এই রাইটব্যাক করেছেন দুই অ্যাসিস্ট।ক্লিনশিট রেখেছেন ১৩ ম্যাচে। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার ও নেশন্স লিগ মিলিয়ে ৬ ম্যাচে আছে দুই ক্লিনশিট। গত মৌসুমে ৪১ ম্যাচে ২ গোল আর ১ অ্যাসিস্টের সাথে প্রেসনেল কিম্পেম্বের ক্লিনশিট ১৪টি। তবে ফ্রান্সের জার্সিতে খানিকটা বিবর্ণই ছিলেন তিনি। ৬ ম্যাচে মাত্র ১ টি ক্লিনশিট।

    কেমন গেল ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হুগো লরিসের গত এক বছর? টটেনহামের এই গোলরক্ষক ৩৯০০ মিনিট খেলে ৪৭ গোল হজম করলেও ক্লিনশিট রেখেছেন ১৬ ম্যাচে; গত ইপিএলের তৃতীয় সর্বোচ্চ। অবশ্য ফ্রান্সের জার্সিতে সাত ম্যাচ খেলে গোল হজম করেননি কেবল এক ম্যাচে।