• ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২
  • " />

     

    রক্ষণের দৃঢ়তার মহড়া, ছন্দময় পাসিংয়ের পসরায় শেষ ষোলতে ব্রাজিল

    রক্ষণের দৃঢ়তার মহড়া, ছন্দময় পাসিংয়ের পসরায় শেষ ষোলতে ব্রাজিল    

    ব্রাজিল ১:০ সুইজারল্যান্ড


     

    বিশ্বকাপটা ব্রাজিল শুরু করেছিল আপন ছন্দেই। তবে আজকের প্রতিপক্ষ নিয়ে তো ব্রাজিলের গলায় কাটা একটা ছিলই। এর আগে যে কখনই সুইজারল্যান্ডকে বিশ্বকাপে হারায়নি ব্রাজিল। সেই ধারা ছেদ করে ব্রাজিল জায়গা করে নিল শেষ ষোলোতে। দারুণ এক খেলার ধারাবাহিকতায় বক্সের মাঝে কাসেমিরোর জোরাল ফিনিশে এক গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ব্রাজিল। সেই সাথে সেলেসাওরা গড়ল অবিশ্বাস্য এক রেকর্ড - ১৯৯৮ বিসশকাপে ফ্রান্সের পর এই প্রথম কোনও দল শেষ ষোল নিশ্চিত করল নিজেদের গোল মুখে প্রতিপক্ষকে একটিও গোল প্রচেষ্টার সুযোগ না দিয়ে।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করেছিল ব্রাজিল। বেশ কয়েকবার লুকাস পাকেতা-রিচার্লিসনের সংযোগ, আবার দুই উইংয়ে রাফিনিয়া, ভিনিসিয়ুসের কারিশমা সুইসদের বিপদে ফেলেছিল। ৩১ মিনিটের মাথায় এডার মিলিতাওয়ের সাথে বল দেওয়া নেওয়া করে দূরপাল্লার এক শট নিয়েও সমারকে পরাস্ত করতে পারেননি রাফিনিয়া। প্রথমার্ধটা তাই সুইসরা সমানে সমানে লড়াই করে বেঁধে রাখে ব্রাজিলকে। 

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পাকেতার জায়গায় রদ্রিগো নামলে খেলা পায় ভিন্ন মাত্রা। সেই সাথে প্রথমার্ধে মাত্র একটা শট নেওয়া সুইসরাও আক্রমণের ধারা প্রখর করার চেষ্টা করে। সেটার সুযোগ নিয়ে ৫৭ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে পায়ের পাতার মাথা দিয়ে বক্সের মাঝে আগুয়ান রিচার্লিসনের দিকে বল বাড়ালেও সেবার পা লাগাতে পারেননি তিনি। তবে ৬৪ মিনিটে সেই ভিনিসিয়ুস খুঁজে পেয়েছিলেন সুইসদের জাল। ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে সুকৌশলে বেরিয়ে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় সমারের প্রহরার তোয়াক্কা না করে গোল বের করেছিলেন। তবে সেই গোলের আগে দুটি পাসের মাঝে একটি পাস রিচার্লিসন অফসাইড থেকে এসে বল নেওয়ার চেষ্টা করায় বাতিল হয় সেই গোল।

    গোলের দেখা পেতে ব্রাজিল এরপর মাঠে নামায় অ্যান্টনি, জেসুসদের মত ফরওয়ার্ডদের। সেটারই ধারাবাহিকতায় ৮৩ মিনিটে গোলের দেখা পেয়ে যায় ব্রাজিল। বক্সের বাইরে থেকে ভিনিসিয়ুস রদ্রিগোর দিকে পাস বাড়ালে বক্সের বাঁ প্রান্তে জায়গা বানিয়ে নেওয়া কাসেমিরোর দিকে আলতো টোকায় বল বাড়িয়ে দেন রদ্রিগো। সেখান থেকে সরাসরি জোরাল এক ভলিতে সমারকে কোনও সুযোগ দেননি কাসেমিরো। সামনে থাকা আকানজির হাতে সেই শট সামান্য ছুঁয়ে সেই গোলার গতি কমেনি বিন্দুমাত্র। কাসেমিরোর প্রথম বিশ্বকাপ গোলের পর ব্রাজিল আরও বেশ কয়েকবার সুইস রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়ালেও সন্তুষ্ট থেকেছে ওই এক গোল নিয়েই। শেষ ষোল নিশ্চিত করা ব্রাজিল তাই এই ম্যাচের পর থাকবে ফুরফুরে মেজাজে।