• বিপিএল
  • " />

     

    জয়ের খাতায় সিলেটের নাম ওঠার দিনে কুমিল্লার 'চ্যাম্পিয়ন' পারফরম্যান্স

    জয়ের খাতায় সিলেটের নাম ওঠার দিনে কুমিল্লার 'চ্যাম্পিয়ন' পারফরম্যান্স    

    বিপিএল ২০২৪
    ১ম ম্যাচ (টস - ঢাকা/বোলিং)
    সিলেট স্ট্রাইকার্স - ১৪২/৮, ২০ ওভার (মিঠুন ৫৯, সামিত ৩২, আরিফুল ২১, শরিফুল ৪/২৪, সানি ২/২৩, তাসকিন ১/১৯)
    দুর্দান্ত ঢাকা - ১২৭/৯, ২০ ওভার (তাসকিন ২৭*, রস ২০, সাইফ ১৭, এনগারাভা ৪/৩০, রাজা ২/৪১, হাওয়েল ১/১৬)
    ফলাফল - সিলেট ১৫ রানে জয়ী

    ২য় ম্যাচ (টস - কুমিল্লা/বোলিং)
    চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স - ৭২, ১৬.২ ওভার (ব্রুস ২৭, নাজিবউল্লাহ ১১, তানভীর ৪/১৩, আলিস ২/১৪, রেইফার ১/৪)
    কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস - ৭৩/৩, ৯.২ ওভার (হৃদয় ৩১, রিজওয়ান ১৬*, জিয়াউর ১/১২, আল-আমিন ১/১৯)  
    ফলাফল - কুমিল্লা ৭ উইকেটে জয়ী


     

    সিলেটেই স্ট্রাইকারদের আঘাত

    অবশেষে জয়ের খাতা খুলল সিলেট। মাশরাফি দায়িত্বে অব্যাহতি দেওয়ার পরের ম্যাচেই এলো জয়; সেটাকে নেহায়েত কাকতালীয় বলা নাও যেতে পারে। তবে লড়াকু পুঁজি নিয়ে উজ্জীবিত বোলিং দেখালেন আজ সিলেটের বোলাররা। ঢাকার ব্যাটাররাও অবশ্য বাজে শট খেলায় কম যাননি। তেমনটা করেছিলেন সিলেটের টপ অর্ডার ব্যাটাররাও। তবে খাপছাড়া সেসব শট খেলতে বরং বাধ্য করেছিলেন শরিফুল। মেঘলা আকাশের পূর্ণ সুযোগ নিয়ে বল ঘোরাতে থাকলেন। আর তাতে হ্যাটট্রিকের সুযোগও তৈরি করেছিলেন। তবে এবার সেটা পাওয়া না হলেও নিজের প্রথম দুই ওভারেই তিন উইকেট নিয়ে ফেলেছিলেন এই  বাঁহাতি পেসার। অবশ্য সেখান থেকেই দলের হাল ধরেন নতুন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন, সাথে সামিত পাটেল ইনিংস মেরামতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। কোনও পর্যায়েই সামিত হাত খুলতে না পারলেও একটু আলো ফুটতেই কাদির, নাঈবদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন মিঠুন। ৪৬ বলে ৫৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ এক ইনিংস খেলে ভিতটা গড়েছিলেন অধিনায়ক নিজেই। তবে আসল কাজটা করেছেন মাত্র ৯ বল খেলা আরিফুল। ৩ ছয়ের দারুণ প্রদর্শনীতে ২১ রান তুলে আরিফুলই মূলত ১৪০+ সংগ্রহটা এনে দিয়েছেন, শরিফুলের চতুর্থ শিকার হয়ে থামার আগে।

    আবহাওয়া কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন থাকায় পেসাররা যে পরের অর্ধেও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে সেটা আঁচ করা যাচ্ছিল, তাই হল। দুই ওপেনারকেই বাড়ি পাথিয়ে রিচার্ড এনগারাভা বার্তা দিয়ে দিলেন কাজটা আজ সহজ হবে না ঢাকার জন্য। এরপর হাওয়েলের মিডিয়াম পেস, আর সামিত, নাঈমের ঘূর্ণিতে কোনও পর্যায়েই ঢাকা সুবিধা করে উঠতে পারেনি। স্কোরবোর্ড দেখে মনে হতে পারে ঢাকা বোধহয় লড়াই করেছে, আদৌতে তার কিছুই হয়নি। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে যখন ঢাকার নবম উইকেট যায় তখনও দলের রান মোটে ৯২! শেষদিকে রাজার ওপর চড়াও হয়ে তাসকিন ১১ বলে ২৭* রানের ঝড় না তুললে সিলেটের রান রেটটাও বাড়তে পারত আরও।

     

    দিশেহারা চট্টগ্রাম, দাপুটে কুমিল্লা

    দিনের দ্বিতীয় ম্যাচটার মত একপেশে ম্যাচ মনে হয় এই আসরে একটাও হয়নি। খুলনা এর আগে একটা ম্যাচে ১০ উইকেটে জয় পেয়েছে বটে, তবে ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলেনি তারাও, যেটা আজ করল কুমিল্লা। সেই 'স্পিন টু উইন' মন্ত্রেই আবারও প্রতিপক্ষদের ঘায়েল করল তারা। তানভীর-আলিস জুটি ক্রমেই যেন আরও ভয়ংকর হয়েই উঠছেন। তানভীরের কোনও প্রশ্নের উত্তর বের করতে পারেনি আজ চট্টগ্রাম ব্যাটাররা। দুই প্রান্ত থেকেই ব্যাটারদের দম ফেলার কোনও সুযোগ না দিয়ে এই স্পিন জুটি ঘূর্ণিজাল বিছিয়ে বসলে এক প্রান্ত আগলে খেলার চেষ্টা করছিলেন টম ব্রুস। তবে সেই তানভীরের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে তিনি ফিরলে তাসের ঘরের মত দলটার ব্যাটিং লাইনআপের গুটিয়ে যাওয়া রুখতে পারেনি কেউ। তানভীরের ৪ উইকেটের সাথে আলিসের দুর্দান্ত স্পেলে চট্টগ্রাম আসরের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের লজ্জায় পড়ে। ৭৩ রানের মামুলি লক্ষেও অবশ্য কুমিল্লার মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দ্রুত দুই উইকেট পড়লেও তাওহিদ হৃদয়ের ১৩ বলে ৩১ রানের ঝড়ে দশ ওভারের মধ্যেই ম্যাচ গুছিয়ে ফেলেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

     

    শঙ্কা ছিল সিলেটকে নিয়ে, শঙ্কা এখনও আছে লিটনকে নিয়ে

    এক জয়েই সিলেট সব শঙ্কা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে এমনটা ভাবার কারণ নেই। স্কোরবোর্ড না বললেও সিলেটের জয়টা আজ দাপুটেই ছিল। তবে উন্নতির জায়গা এখনও থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে ডেথ বোলিংটা আজও ছিল শঙ্কাদায়ক, আরও একবার ওপেনাররা ব্যর্থ হয়েছেন। তবে জয় থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাসটা খোঁজার চেষ্টা করবে তারা। যেই চেষ্টাটা করার সুযোগ নেই লিটনের। আরও একবার ব্যর্থ কুমিল্লা অধিনায়ক। দুর্বিষহ এক বিপিএল কাটানো লিটন যেন শুরুতে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসছেন প্রতিদিন। রাতের ম্যাচে কুমিল্লা হয়ত স্পিন-মন্ত্র জপে পার পাচ্ছে, তবে আসর যত গড়াবে ওপেনারের এরকম ক্রমাগত ব্যর্থতা দলকে তত ভোগাবে। তার আত্মবিশ্বাসটাও যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে সেটা আজকের আউট থেকেই বোঝা যেতে পারে। অফ স্টাম্পের বাইরের বল পাওয়ারপ্লেতে লিটন বেশীরভাগ সময়েই চেষ্টা করেন টাইমিং করার। তবে আজ যেন মনের সব ক্রোধ ঝাড়তে চাইলেন বলের ওপর। চোখ জলজল করে উঠেছিল বাজে বল পেয়ে, তবে মাথাটা ঠাণ্ডা রাখতে পারেননি। সজোরে ব্যাট চালাতে গিয়েই টাইমিং করতে না পেরে শর্ট থার্ড ম্যানে থাকা তামিমের কাছে ক্যাচ দিয়ে মোটে ২ রানে ফিরেছেন। লিটনকে তাই নিজের ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নিজের সাথে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইটাও জিততে হবে।