• বিপিএল
  • " />

     

    সাকিব ফিরলেন সাকিবের বেশেই, বরিশালের আশা নিভুনিভু

    সাকিব ফিরলেন সাকিবের বেশেই, বরিশালের আশা নিভুনিভু    

    বিপিএল ২০২৪
    ১ম ম্যাচ (টস - ঢাকা/বোলিং)
    রংপুর রাইডার্স - ১৭৫/৪, ২০ ওভার (বাবর ৪৭, রনি ৩৯, সাকিব ৩৪, মোসাদ্দেক ২/৩০, সানি ১/২৬ সাব্বির ১/৫)
    দুর্দান্ত ঢাকা - ১১৫, ১৮ ওভার (নাঈম ৪৪, ইরফান ২১, তাসকিন ১৫, সাকিব ৩/১৬, ইরশাদ ২/১৭, হাসান ২/২০)
    ফলাফল - রংপুর ৬০ রানে জয়ী

    ২য় ম্যাচ (টস - সিলেট/বোলিং)
    চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স - ১৪৫/৫, ২০ ওভার (ব্রুস ৫০*, ব্রাউন ৩৮, দীপু ১৫, ইমরান ২/৩১, তাইজুল ১/২১, সাইফউদ্দিন ১/২৪)
    ফরচুন বরিশাল - ১২৯/৮, ২০ ওভার (তামিম ৪৯, সাইফউদ্দিন ৩০*, শেহজাদ ১৬, শহিদুল ৩/১৩, আল-আমিন ২/৩১, বিলাল ১/২১)  
    ফলাফল - চট্টগ্রাম ১৬ রানে জয়ী


     

    ব্যাটে-বলে সেই চিরচেনা সাকিব

    আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিককে জবাব দিলেন, সাংবাদিক চশমা চোখে যা দেখেন তার চেয়ে এখনও ভালো দেখছেন সাকিব। কথাটা মাঠে প্রমাণ করতেও যেন উদগ্রীব ছিলেন। সাকিবকে নিয়ে পুরো বিপিএল জুড়েই কম কথা হয়নি; বিপিএলের ম্যাচের চেয়ে সাকিবের চোখের সমস্যা নিয়েই যেন আগ্রহ বেশি। সেসবকে একপাশে রেখে হুট করেই জ্বলে উঠলেন আজ। নকআউট ঘনিয়ে আসছে, সেই সুবাস মেখেই যেন নড়েচড়ে বসলেন তিনি।

    প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে আজ আবারও রান পেয়েছেন বাবর আজম। বাবর রয়েসয়ে খেললে অন্য প্রান্তে নিজের সহজাত খেলাটা খেলে ২৪ বলে ৩৯ রান করে নিজের দায়িত্বটা ঠিকঠাক পালন করেছিলেন রনি তালুকদার। তবে বাবর সেই অর্থে হাত খুলতে না পারলে সাকিব খুলে দেন রংপুরের রাস্তা। বাবর ৪৩ বলে ৪৭ রান করে থামলেও রংপুরের স্কোরবোর্ডে চাপ পড়েনি সাকিবের কারণেই। ২০ বলে ৩৪ রানের দারুণ ইনিংসে তিনটা ছয় মেরে যেন দেখালেন বলটা তিনি ভালোই দেখছেন। আর বল হাতে তো অনেকদিন ধরেই ভালো ফর্মে আছেন। আজ হ্যাটট্রিকের সুযোগও তৈরি করেছিলেন। এমন দিনে তাই ঢাকা পাত্তাও পায়নি। মাহেদীর সাথে জুটি বেঁধে সাকিব আজ যেন বার্তাই দিয়ে রাখলেন শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে।

    বরিশালের ভাগ্যে কী আছে?

    টানা দুই জয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও আজ আবারও পা হড়কাল বরিশাল। চট্টগ্রামকে নিয়ে আসর শুরুর আগে খুব একটা কথা না হলেও প্রতি মুহূর্তেই নিজেদের প্রমাণ করে যাচ্ছে দলটা। বরিশালের নকআউটের আশা ক্ষীণ করে আজও অলরাউন্ড এক পারফরম্যান্স দেখাল চট্টগ্রাম। অথচ চেপে ধরার সুযোগ কিন্তু পেয়েছিল বরিশাল। তবে ব্রুস-ব্রাউনের জুটিটাকে পেয়ে বসতে দিয়ে সেই অর্থে আক্রমণাত্মক কোনও ফিল্ডিং বা অভিনব পরিকল্পনা দেখা যায়নি। সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ব্রাউন ৩৭ করে বিদায় নিলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গিয়েছেন ব্রুস। ফিফটিটা এসেছে ৪০ বলে, তবে দিনশেষে সেটাই কার্যকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    হয়তবা সেটা হত না বরিশালের অদ্ভুত ব্যাটিং না হলে। লক্ষ্য বিশাল নয় এটা ঠিক। তবে মুশফিক যখন ফিরলেন তখন দলের স্কোরবোর্ড বলছে ১১.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬৪ রান। সে সত্ত্বেও টিকে থাকা তামিম ইকবালের হাত খোলার কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। ৪৬ বলে ৪৯ রানের একটা কিম্ভূতকিমাকার ইনিংসে ম্যাচে বরিশাল ছিলই না সেই অর্থে। ১৬ রানের পরাজয়টা মুলত সাইফউদ্দিনের ১৮ বলে ৩০* রানের ক্যামিওর সুবাদে। ফিরেই বল হাতে দারুণ দিন কাটিয়ে ব্যাট হাতেও জ্বলে উঠেছিলেন সাইফ, তবে কাজে আসেনি কোনোটাই।

    রানতাড়ায় অদ্ভুত অ্যাপ্রোচ: প্রসঙ্গ নাঈম, তামিম

    লক্ষ্য ১৭৬, সেখানে প্রথম ৪ ওভারে ঢাকার রান ৪! নাঈম শেখকে স্ট্রাইক রেট নিয়ে ক্যারিয়ারে কম কথা শুনতে হয়নি; আজ আবারও মনে হল সেটা যুক্তি সঙ্গত কারণেই। নিজে ঠিকই পরে ফেরার আগে ৩১ বলে ৪৪ রান করেছেন। তবে ক্রমাগত রান না নেওয়ার চেষ্টা করে অন্য প্রান্তে যেই চাপ সৃষ্টি করেছেন, তার কারণেই অন্য প্রান্তে সুবিধা করতে পারেননি সাব্বির, আইয়ুব বা ফর্মে থাকা রস। এমন অ্যাপ্রোচে পাঁচ ওভারের মধ্যেই যেন ঢাকার ভাগ্য লেখা হয়ে গিয়েছিল।

    ঠিক তেমনটাও দেখা গেল পরের ম্যাচেও। ম্যাচ শেষ তামিম পিচ নিয়ে অভিযোগ করলেন। মিরপুরের পিচ খালি চোখে দেখেও কখনও রানপ্রসবা মনে হয় না। তবে ওয়ানডে গতিতে ব্যাটিংয়ের মতও জীর্ণ উইকেট যে আজ ছিল না সাইফের শেষদিকের ব্যাটিংটাই তার প্রমাণ। শহিদুল ভালো লাইনে বল করেছেন অবশ্যই। তবে স্ট্রাইক পরিবর্তন করারও কোনও প্রচ্ছন্ন চেষ্টা একজন অভিজ্ঞ ব্যাটার দেখাননি। এটাই যেন বাংলাদেশি ব্যাটারদের সমস্যা। বিপিএল জুড়েই পাওয়ার হিটিং তো বটেই, অ্যাপ্রোচেও যেন বিদেশিদের সাথে বাংলাদেশের ব্যাটারদের বেশ তফাৎ।