• আইপিএল ২০২৪
  • " />

     

    দাপুটে জয়ে কলকাতার তৃতীয় শিরোপা

    দাপুটে জয়ে কলকাতার তৃতীয় শিরোপা    

    ফাইনাল, কলকাতা নাইট রাইডার্স-সানরাইজার্স হায়দরাবাদ- (টস-হায়দরাবাদ/ব্যাটিং)
    সানরাইজার্স হায়দরাবাদ - ১১৩, ১৮.৩ ওভার  (কামিন্স ২৪, মার্করাম ২০, ক্লাসেন ১৬, রাসেল ৩/১৯, স্টার্ক ২/১৪, রানা ২/২৪)
    কলকাতা নাইট রাইডার্স - ১১৪/২, ১০.৩ ওভার (ভেঙ্কটেশ ৫২*, গুরবাজ ৩৯, কামিন্স ১/১৮, শাহবাজ ১/২২)
    ফলাফল - কলকাতা ৮ উইকেটে জয়ী


     

    আইপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় হলেন, ২৪.৭৫ কোটি মূল্যমান নিয়ে কথায় কথায় খোটা কম হজম করেননি। তবে আসল সময়ে ঠিকই জ্বলে উঠে মিচেল স্টার্ক প্রমাণ করলেন কেন তাকে পেতে এতো মরিয়া ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। দুর্দান্ত এক ওপেনিং স্পেলে যেন ম্যাচের ভাগ্যটাই লিখে ফেলেছিলেন। পরে মৌসুম জুড়েই দারুণ খেলতে থাকা হার্শিত রানা, আন্দ্রে রাসেলদের বিধ্বংসী স্পেলে হায়দরাবাদকে মামুলি সংগ্রহেই গুটিয়ে দিয়ে ভেঙ্কটেশ আইয়ার ম্যাচ শেষ করেছেন তড়িঘড়ি করে। তাতেই কলকাতা যেন হেসেখেলে জিতে গেল তাদের তৃতীয় আইপিএল শিরোপা।

    ১১৪ রানের লক্ষ্যে খুব একটা কাঠখড় পোড়াতে হয়নি তাদের। এদিন সুনীল নারাইন তাণ্ডব চালাতে পারেননি। ছয় মেরে কামিন্সের পরের বলেই থেমেছিলেন। সেখান থেকে রহমানউল্লাহ গুরবাজ রয়েসয়ে খেললেও ভেঙ্কটেশ রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছিলেন। যেন দ্রুত শিরোপা ছুঁয়ে দেখতে তর সইছে না আর! পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে নটরাজনকে তিন চার, এক ছয় মেরে ২০ রান তুলেছিলেন; পাওয়ারপ্লেতেই কলকাতা পেয়ে যায় ৭২ রান। গুরবাজকে ৩৯ রানে শাহবাজ থামালেও ২৬ বলে ৫২* রানে অপরাজিত থেকে ৫৭ বল হাতে রেখেই দলের শিরোপা ছুঁয়ে দেখার অপেক্ষার অবসান ঘটান ভেঙ্কটেশ।

    এর আগে স্টার্ককে এড়ানোর জন্য হেড এদিন স্ট্রাইক না নিলেও নিজের কারিশমা দেখাতে সময় নেননি এই অস্ট্রেলিয়ান পেসার। প্রথম ওভারেই তর্কসাপেক্ষে মৌসুমের সেরা বলে উপড়ে ফেলেন অভিষেকের স্টাম্প। দুর্দান্ত সেই আউটসুঙ্গারে অভিষেক হতভম্ব হলে পরের ওভারে বৈভব অরোরার প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হেড নিজেও। স্টার্কের স্পেলে খাবি খাওয়ার পর তার শিকার হয়ে ত্রিপাঠি ফিরলে বিপদে পড়ে যায় হায়দরাবাদ। পাওয়ারপ্লের ঠিক পরের ওভারেই হার্শিতের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে রেড্ডি ফিরলে সেখান থেকে ফিরে আসতে পারেনি তারা।

    আশার জায়গা ছিলেন যে দুজন দক্ষিণ আফ্রিকান - সেই ক্লাসেন বা মার্করাম কেউই জ্বলে উঠতে পারেননি। দুজনেই শতরানের নিচের স্ট্রাইক রেটে খেলে ফিরেছিলেন। হার্শিতের সাথে যোগ দিয়ে পরে রাসেলও দুর্ধর্ষ বোলিং করতে থাকলে হায়দরাবাদের কেউ বলতে গেলে আর হাত খোলার সুযোগ পাননি। ৯০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসার পর শেষদিকে ১৯ বলে ২৪ রান করে কামিন্স কেবল দলীয় রানটা শতরানের ওপারেই নিতে পেরেছেন। মামুলি সেই লক্ষ্য উৎরিয়ে নয় বছর পর শিরোপা ঘরে তুলতে কলকাতার তাই খুব একটা ঝক্কি পোহাতে হয়নি।