• রিও অলিম্পিক ২০১৬
  • " />

     

    'জিমন্যাস্টিকসের ফেলপস' এবং একজন উচিমুরা

    রিওর জিমন্যাস্টিকস অ্যারেনায় খেলছেন জাপানি জিমন্যাস্ট কোহেই উচিমুরা। ইউক্রেনের ভারনিয়াভের সাথে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তাছাড়া বাছাই পর্বটাও খুব একটা ভালো হয়নি তাঁর। গ্যালারির এক কোণায় বসে ছেলের জন্য গলা ফাটিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁর মা। তবে ছেলের রুটিন গেম দেখতে ভয় লাগে শুকো উচিমুরার; প্ল্যাকার্ডের পিছনেই তাই চোখ ঢাকেন। এরপর হঠাৎ ঘোষণা এলো, ০.০০৯ পয়েন্ট ব্যবধানে ইভেন্টের স্বর্ণ জিতেছেন কোহেই উচিমুরা। ছেলের এমন সাফল্যের কথা শুনেই রীতিমত ‘বেঁহুশ’ হয়ে যান শুকো!

    কোহেই উচিমুরা রিও অলিম্পিকের অল-অ্যারাউন্ড ইভেন্টে স্বর্ণ জিতে গড়েছেন বিশ্ব রেকর্ড। স্বদেশী সাওয়াও কাতোর পর এই ইভেন্টে টানা দুই অলিম্পিকে স্বর্ণ জেতার রেকর্ড শুধুই তাঁর। তাঁর হাত ধরেই এবার দলগত ইভেন্টেরও স্বর্ণ জিতেছে জাপান। তাছাড়া গত আট বছর ধরেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের স্বর্ণপদকের মালিক ‘কিং কোহেই’ উচিমুরা। ২৭ বছর বয়সী এই জাপানিকে অনেকেই মানছেন সর্বকালের সেরা জিমন্যাস্ট হিসেবে। ব্যক্তিগত ইভেন্টে তাঁর কাছে হেরে যাওয়া ইউক্রেনিয়ান ভারনিয়াভের কাছে তিনি ‘কিংবদন্তি’। অন্যদিকে ব্রোঞ্জ পাওয়া ম্যাট হুইটলকের ‘আদর্শ’-ও তো তিনিই!

    কোহেই উচিমুরাকে অনেকেই যেমন কিংবদন্তি হিসেবে মানছেন, তেমনি কেউ কেউ আবার তুলনা করছেন উসাইন বোল্ট কিংবা মাইকেল ফেলপসের সাথে। তবে লাজুক স্বভাবের এই জাপানি এমন তুলনা মানতে নারাজ। এমনকি নিজেকে সর্বকালের সেরা জিমন্যাস্টও মনে করেন না তিনি। তাঁর কাছে সেরা ‘৯২ এর বার্সেলোনা অলিম্পিকে ছয় স্বর্ণ জেতা বেলারুশ জিমন্যাস্ট ভাইট্যালি শেরবো। ফেলপস কিংবা বোল্টের সাথে তুলনার ব্যাপারে তাঁর মত, “মাইকেল ফেলপস, উসাইন বোল্ট; এদের নাম বিশ্বের সবাই জানে। কিন্তু কোহেই উচিমুরা, এটা আবার কে?”

     


    নিজেকে বোল্ট-ফেলপসদের সাথে তুলনা করতে না চাইলেও সাফল্যের দিক থেকে তিনিও কোন অংশে কম নন। গত আট বছর ধরে জিমন্যাস্টিকসের বিশ্বসেরার সব পদকই জিতেছেন তিনি। সাফল্যে তিনি জিমন্যাস্টিকসের ঠিক ততটাই উঁচুতে, যতটা সুইমিংপুলের জন্য মাইকেল ফেলপস এবং স্প্রিন্টের জন্য উসাইন বোল্ট। তবে খ্যাতি নিয়ে মাথা ঘামান না উচিমুরা; বরং নিজেকে লুকিয়ে রাখতেই পছন্দ তাঁর। তাঁর দুই সন্তানের নামটাও প্রকাশ করেননি কখনো। তাছাড়া গত বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে জেতার পর সাংবাদিকদের জবরদস্তিতেই ছয় আঙ্গুল তুলে ছবি তুলেছিলেন এই জিমন্যাস্ট।

    'কিং কোহেই'র বাবা-মা দু’জনই ছিলেন জিমন্যাস্ট। বাবার জিমেই শুরু জিমন্যাস্টিকসের পথচলা। মাত্র ছয় বছর বয়সেই জীবনের প্রথম কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেন তিনি; হয়েছিলেন সবার শেষ। তাছাড়া তাঁর বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে ব্যাক হ্যান্ডস্প্রিং শিখতে সবচেয়ে বেশি সময়ও নিয়েছিলেন। তবে দমে যান নি ছোট্ট উচিমুরা; জিমন্যাস্টিকসকেই বানিয়ে ফেলেন নিজের ধ্যানজ্ঞান। নোটবুকে নতুন নতুন সব স্কিল এঁকে বাসার ট্রাম্পোলাইনে অনুশীলন করতেন সেগুলো। ধীরে ধীরে কোহেই এমনভাবে জিমন্যাস্টিকসের প্রেমে পড়ে যে, ফার্স্ট গ্রেডে একদিন ভুল করে ফ্লোর অনুশীলন মিস করায় কেঁদেই ফেলেছিলেন তিনি।

    মাত্র ১৫ বছর বয়সে উচিমুরা জিমন্যাস্টিকসের জন্য বাড়ি ছেড়ে পাড়ি জমান টোকিওতে। এরপরের গল্পটা শুধুই বিশ্বসেরা হয়ে উঠার। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে অল-অ্যারাউন্ড ইভেন্টে রুপা জিতেন কোহেই। তারপর জিমন্যাস্টিকসের বড় আসরের কোনোটিতেই আর কখনো সোনা হাতছাড়া হয় নি তাঁর। অলিম্পিকে দুইটি আর বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের ছয় স্বর্ণ জমা পড়েছে উচিমুরার শোকেজে। ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিক পর্যন্ত খেলতে চান বিশ্বসেরা এই জিমন্যাস্ট। ততদিনে জিমন্যাস্টিকসকে বিশ্বের কাছে সাঁতার ও স্প্রিন্টের মত জনপ্রিয় করাই তাঁর স্বপ্ন। তারপর হয়ত বোল্ট, ফেলপসদের মত অলিম্পিক কিংবদন্তিদের কাতারে তাঁর নাম দেখলে সংকোচ বোধ করবেন না জাপানের এই ‘সুপারম্যান!

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন