• রিও অলিম্পিক ২০১৬
  • " />

     

    নেইমারের পায়েই ইতিহাস গড়ল ব্রাজিল

    ফুটবলটা তাদের পায়েই ফুল হয়ে ফুটে। ফুটবলই ধর্ম সাম্বার দেশে। অথচ এতদিন অলিম্পিক ফুটবলে স্বর্ণ ছিল না ব্রাজিলের। অবশেষে নিজেদের মাঠেই অপেক্ষাটা শেষ হল সেলেকাওদের। রোনালদো-রোনালদিনহো-রোমারিও-জিকো-পেলেরা যা পারেননি, নেইমাররাই করে দেখালেন মারাকানাতে সেটা। জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতন অলিম্পিক ফুটবলের স্বর্ণপদক পেল ব্রাজিল।

    টাইব্রেকারে নিজেদের প্রথম চারটি শটে দু'দলই গোল পেলেও জার্মানির হয়ে পঞ্চম কিকটি মিস করেন নিলস পিটারসন। ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক ওয়েভারটন অসাধারণ দৃঢ়তায় পিটারসনের কিকটি ঠেকিয়ে দিয়ে মঞ্চ প্রস্তুত করে দেন নেইমারের জন্য! শেষ কিক থেকে গোল করেই ব্রাজিলকে সোনার হাসি উপহার দেন নেইমার!

     



    অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার আগে খেলা শেষ হয় ১-১ গোলে। সেখানেও ছিল নেইমারের অবদান। ২৭ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে অসাধারণ এক গোল করে ব্রাজিলকে প্রথমে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডই। গোল হজমের পর জার্মানি ম্যাচে ফিরে আসার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। তাদের দুইটি শট বারে চুমু খেয়ে ফিরেও আসে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে জার্মান অধিনায়ক ম্যাক্স মায়ার গোল করে মারাকানার অভিশাপটাই যেন ব্রাজিলকে মনে করে দিয়েছিলেন! গ্যালারীর চাপা উত্তেজনাটা মাঠে ভালোই টের পাচ্ছিল সেলেকাওরা।

    ম্যাচে সমতা আসার পর বাকি সময় জুড়ে ব্রাজিলের দাপটই ছিল বেশি। কিন্তু বারবার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল জার্মান রক্ষণ দুর্গ। এর মধ্যে আবার একটি পেনাল্টিও পেয়ে যেতে পারত ব্রাজিল। রেফারি অবশ্য সাড়া দেননি ব্রাজিলের সেই আবেদনে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা অমীমাংসিত থাকলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। দুই দলই তখন কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করে খেললে আরও কঠিন হয়ে যায় সোনা জয়ের লড়াই। শেষে টাইব্রেকারেই নিষ্পত্তি হয় ম্যাচের।


    ফুটবলের সবরকম শিরোপা থাকলেও ব্রাজিল-জার্মানি কোনো দলেরই ছিল না অলিম্পিকে সোনা জয়ের ইতিহাস (অবশ্য ১৯৭৬ অলিম্পিকে পূর্ব জার্মানি পেয়েছিল অলিম্পিক সোনা)। মারাকানার ফাইনালের আগে আবার ফিরে আসছিল ২০১৪ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের সেই দুঃসহ স্মৃতিও। অনেকের মতেই আজকের ম্যাচটা ছিল জার্মানির বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রতিশোধ নেবার সুযোগ! ব্রাজিল কোচ বরাবরই 'প্রতিশোধ' শব্দটা অস্বীকার করে আসলেও, জার্মানির সাথে ফাইনালে জিতে বড় একটা চাপই নামালেন বুক থেকে। 

    ব্রাজিলের ইতিহাস গড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদানটা নেইমারেরই। কোপা আমেরিকা সেন্টানারিওতে অংশ নেননি নিজের দেশে অলিম্পিকে অংশ নেবেন বলে। এতদিনের ব্রাজিলের অধরা স্বপ্নটা পূরণ হল নেইমারের হাত ধরেই। পুরো টুর্ণামেন্টে দারুণ খেলে ফাইনালেও অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ব্রাজিলের ফুটবলের সোনালি দিনের আভাস এনে দিলেন নেইমারই! 

    অভিনন্দন, ব্রাজিল! 

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন