• বাংলাদেশ-আফগানিস্তান
  • " />

     

    ২২ গজের সেলুলয়েড : 'অনাহুত ‘অতিথি’ আর মোশাররফের অপেক্ষা

    দীর্ঘ অপেক্ষা ক্ষীণ অপেক্ষা

    আট বছর ২০০ দিন। ওয়ানডেতে নিজের দ্বিতীয় উইকেটটা নিতে মোশাররফ হোসেনকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। নওরোজ মংগলকে এলবিডাব্লিউ করে সে অপেক্ষার অবসান ঘটালেন। দুই বল পরই পেলেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় উইকেট! আট বছর ২০০ দিনের অপেক্ষার ‘যন্ত্রণা’ কি ভুলতে পারলেন মোশাররফ?



     

    শাহজাদ ‘শূন্য’

    একুশতম ওভারের প্রথম বল। রহমত শাহর বলে তামিম ফ্লিক করতে গিয়ে পারলেন না, শাহজাদ আবেদন করলেন। আম্পায়ার শরাফউদ্দৌলা উলটো দিলেন ওয়াইড! আটত্রিশতম ওভার। আবার রহমত শাহ। এবার ব্যাটসম্যান সাকিব। আবার শাহজাদের আবেদন, আবার ওয়াইড। পার্থক্য, এবার আম্পায়ার শামসুদ্দীন।

    দ্বিতীয় ওয়ানডের মতো এবারও আফগানিস্তানের ইনিংস শুরু করলেন মোহাম্মদ নবী। তামিম ইকবাল ছয় বলে এক রানও নিতে পারলেন না। বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুর ওভারটাও হলো মেডেন। বোলার মাশরাফি, ব্যাটসম্যান শাহজাদ। তামিম শেষ পর্যন্ত ১১৮ রান করেছিলেন, শাহজাদ আটকে রইলেন ওই শূন্যতেই!

     

    ‘সংক্ষিপ্ত’ মাশরাফি

    লাইন-লেংথের নিয়ন্ত্রণ, সঙ্গে সুইং, কাটার। মাশরাফি তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পুরস্কার পেয়েছিলেন দ্বিতীয় ওভারেই। কিন্তু মাশরাফি আর চোট নামটা যখন সমার্থক, তখন মাশরাফি বল করতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যাবেন, এটাই যেন কঠোর এক নিয়তি। মাশরাফি আবার উঠে বল করলেন, এক ওভারের জন্য উঠে গেলেন। একাদশ ওভারে বোলিং করতে এলেন, তবে স্বাভাবিকের চেয়ে সংক্ষিপ্ত রান-আপে। তিন ওভার বল করলেন, উঠে গেলেন এরপর।


     

    ভজঘট

    মাশরাফি সুইপের চেষ্টা করেছিলেন, বল গেল মিড-অফে। রান নিতে গেলেন, ফেরত পাঠালেন মাহমুদউল্লাহ। দুই-তৃতীয়াংশ দূরত্ব আসতে পেরেছিলেন মাশরাফি, কিন্তু বোলার দাওলাত জাদরান যে বলটাই ধরতে পারলেন না। ওভারথ্রোতে উলটো এলো এক রান। পরের বলে আবার ব্যাটসম্যানদের ভুল বোঝাবুঝি, মাশরাফি দুই রান নিতে চাইলেন বলে। থ্রো এলো বোলার প্রান্তে, তিনি থ্রো করলেন স্ট্রাইকার প্রান্তে। স্ট্যাম্প মিস করলো সে থ্রো, মিস করলেন উইকেটকিপারও! ওভারথ্রোতে এলো আরও চার রান!


     

    অনাহুত ‘অতিথি’

    ২৯তম ওভারের খেলা চলছে তখন। তৃতীয় বলটা করতে যাচ্ছেন তাসকিন, আম্পায়ার আটকালেন তখন তাঁকে। কী ব্যাপার! মাঠে ঢুকে পড়েছেন এক দর্শক, শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ডের পাশের গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড থেকে ছুটে এসেছেন এক দর্শক। মিড-অনে ফিল্ডিং করছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। দর্শক এসেছেন তাঁর কাছেই। শুরুতে ভড়কে গিয়েছিলেন অধিনায়ক নিজেও, পরে সামলে নিয়েছেন নিজেকে, এমনকি নিরাপত্তাকর্মীদেরকেও বলছিলেন, ব্যাপারটা ‘স্বাভাবিক’ভাবে নিতে।


     

    ‘বাঁ হাতের খেল!’

    ১৯৯৮ সাল, হায়দ্রাবাদ। বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে জয়। ব্যাটে হিরো এক বাঁহাতি, মোহাম্মদ রফিক। ওপেনিংয়ে নেমে ৭৭ রান, বল হাতেও তিনিই সেরা। নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। ২০১৬, মিরপুর। বাংলাদেশের শততম জয়। ব্যাটিংয়ে সেরা তামিম ইকবাল, করেছেন ১১৭ রান। বোলিংয়ে মোশাররফ হোসাইন, নিয়েছেন তিন উইকেট! দুজনই বাঁহাতি!

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন