• ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ সিরিজ
  • " />

     

    ২২ গজের সেলুলয়েড : 'কাল-সুইপ' আর তাসকিন-বাটলারের 'ক্ষোভ'

    ২২ গজের সেলুলয়েড : 'কাল-সুইপ' আর তাসকিন-বাটলারের 'ক্ষোভ'    

    নিস্ফলা চেষ্টা!

    আদিল রাশিদের ফুলটসটা মিডউইকেটে মারলেন মুশফিকুর রহিম। প্রথমে ‘স্লাইড’ করলেন জেমস ভিনস, হাত দিয়ে বলটা রাখার চেষ্টা করলেন বাউন্ডারির ভেতরে। যুতসই হলো না, এবার ঝাঁপ দিলেন বদলি ফিল্ডার স্যাম বিলিংস। সফল হলেন তিনি। তবে ভিনসের চেষ্টাটাই যে ব্যর্থ ছিল, বল যখন তাঁর হাতে লাগে, তিনি ছুঁয়েছিলেন সীমানারেখা। বৃথা ভিনসের চেষ্টা, বৃথা তাই বিলিংসের চেষ্টাও!

     

    ‘কাল-সুইপ’

    রাশিদের বলে সুইপ করলেন মাহমুদউল্লাহ। টপ-এজ হলো, তবে ফিল্ডারের ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকলো তা। পরের বলে টার্ন ছিল একটু কম, মাহমুদউল্লাহ আবার সুইপ করতে গেলেন, এবার প্যাডল সুইপ। মিস করে গেলেন। আউট দিলেন আম্পায়ার। নিজের উপর প্রচন্ড হতাশা থেকে কিংবা হয়তো নিশ্চিতই জানতেন আউটই হয়েছেন, নিলেন না রিভিউ। ড্রেসিংরুম থেকে ‘নির্দেশনা’ এলো, মাহমুদউল্লাহ রিভিউ নিলেন। বাঁচতে পারলেন না অবশ্য, সুইপটাই যে কাল হলো তাঁর!

     

    দিশেহারা  

    মঈন আলির বলটায় বাউন্স ছিল, ছিল টার্ন। নাসির খেলতে পারলেন না ঠিকমতো, শরীরে লেগে সামনে পড়লো। আবার ঘুরলো বল, এবার গেল পেছনের দিকে। দিশেহারা নাসির কিছুক্ষণ খুঁজে বেড়ালেন বল!

    এবার ওকসের বল। শর্ট বলটা টেনিসের শটের মতো করে খেললেন মাশরাফি, বল গেল লং অনে। মাশরাফি বলটা খুঁজছিলেন ফাইন লেগে! দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন ফিল্ডার জনি বেইরস্টোও; এতোটাই যে, মিসই করলেন বলটা!

     

    ডাকেটের ডাক

    আগের ম্যাচে দুই বেন, স্টোকস ও ডাকেট মিলে গড়েছিলেন ১৫৩ রানের জুটি। নামের প্রথমাংশ একই, এমন ব্যাটসম্যানদের অবশ্য এটিই ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ জুটি নয়। সে রেকর্ড দুই অ্যান্ড্রুর, স্ট্রাউস ও ফ্লিনটফের জুটিটা ছিল ২২৬ রানের। এবারও স্টোকস ও ডাকেট মিলে জুটি গড়ার সুযোগ পেলেন, তবে ডাকেট ‘ডাক’ মারায় জুটি হলো শূন্য রানের!



     

    দিকবদল, জার্সিবদল

    দ্বিতীয় ওভারের শেষ বল। জ্যাসন রয় খেললেন সোজা, নন-স্ট্রাইকে দাঁড়ানো জেমস ভিনসের ব্যাটে লেগে দিক পরিবর্তন করলো বলটা। ক্ষণিকের জন্য ‘ধোঁকা’ খেলেন মাহমুদউল্লাহ, শেষপর্যন্ত বলটা ধরলেন ঠিকঠাকই। এরপরের পরিবর্তনটা অবশ্য আর বলের গতিপথ নয়, জার্সির। ২২তম ওভার শেষে মাঠেই জার্সিটা পরিবর্তন করে নিলেন সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশ সহ-অধিনায়ক এদিন বোধহয় ঘেমেছিলেন একটু বেশিই!


     

    অতি-তৎপর তামিম

    ১৬তম ওভারের চতুর্থ বল। শফিউলকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে খেললেন বাটলার। রান হলো না। মিড-অনে ছিলেন তামিম, বেশ কিছুক্ষণ ইশারা করছিলেন থ্রো করার জন্য। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টের ফিল্ডার থ্রো করলেন, বল স্ট্যাম্পে লাগলো না। আফসোসে পুড়লেন তামিম, নন-স্ট্রাইকে জনি বেইরস্টো বোধহয় ক্রিজের বাইরেই ছিলেন! তবে ততক্ষণে বল ‘ডেড’ হয়েছে কিনা, সেটা অবশ্য জানা গেল না।



     

    তাসকিন-বাটলারের 'ক্ষোভ'

    জস বাটলারের এলবিডাব্লিউয়ের আবেদনটা পক্ষে গেল না তাসকিনের। ‘ক্ষোভ’টা ঝাড়লেন তখনোই, আম্পায়ার শরাফউদ্দৌলার ওপর। মাশরাফি রিভিউ নিলেন, আউট হলেন বাটলার। এবার বাটলারের সংগে লেগে গেল মাহমুদউল্লাহর। শান্ত করলেন দুই আম্পায়ার। বাটলার গেলেন, এলেন উইলি। আবার তাসকিন, আবার এলবিডাব্লিউয়ের আবেদন। আবার সাড়া দিলেন না শরাফউদ্দৌলা, তাসকিনের ‘ক্ষোভ’টা আবার ঝড়ে পড়লো। মাশরাফিকে রিভিউ নিতে বাধ্য করলেন, এবার সঠিক প্রমাণিত হলেন আম্পায়ারই!