• ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ সিরিজ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    সে এক মিরাজ আছে...

    সে এক মিরাজ আছে, কেবলই লাবণ্য ধরে।

     

    সেই অনুর্ধ্ব-১৪ পর্যায়ে সেরা ক্রিকেটার হওয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজের নাম শোনা যাচ্ছিল সংবাদমাধ্যমে। যুবাদের হয়ে বল-ব্যাট ও অধিনায়কত্বে ক্ষুরধার মস্তিষ্কের প্রমাণ দেয়া শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে নামের আগে জুটে গিয়েছিল ‘আগামীর তারকা’। সেটা যে ফ্লুক নয় তা প্রমাণের জন্য ক্রিকেটের কুলীনতম ফরম্যাটকেই বেছে নিয়েছেন মিরাজ। প্রচণ্ড আগমনী নিনাদে চোখ কপালে তুলে দিয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বের।  সাদা পোশাকে এমনভাবে ঝলসে উঠেছেন যে অভিষেক সিরিজেই প্রবল প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হয়েছেন ম্যান অব দ্য সিরিজ।

    দুই টেস্টে ১৯ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে দুই টেস্টের সিরিজে সর্বোচ্চ। ইংলিশ টপ অর্ডার বড় বড় নামে ঠাসা। পৃথিবীর যে কোনো বোলারের শিরদাঁড়ায় ভয়ের শীতল স্রোত বইয়ে দেয়ার জন্য নামগুলো যথেষ্ট। অথচ অভিষিক্ত এক ১৯ বছরের তরুণের সামনে তাঁরাই ভেঙ্গে পড়লো তাসের ঘরের মতো। সিরিজ শুরুর আগে মিরাজের বয়স ছিল আঠার। এই সেই বয়স যাকে কবি সুকান্ত বলেছিলেন ভীষণ দুঃসাহসের। এতো বড় সিরিজে কীভাবে স্নায়ুচাপ সামলেছেন এই সদ্য কৈশোর পেরোনো তরুণ? ম্যান অব দ্য সিরিজ ঘোষিত হওয়ার পর চোখে-মুখে বল্গাহীন আত্মবিশ্বাস ফুটিয়ে মিরাজ বলেছেন নার্ভাস হওয়ার সুযোগই পাননি। মহীরূহের মতো তাঁকে মাঠে সমর্থন করে গেছেন সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহরা। সে কারণে ভয়-ডরের তোয়াক্কা না করে নিজেকে উজাড় করে দিতে পেরেছেন সর্বস্ব দিয়ে।

    কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার ক্ল্যারি গ্রিমেট ও ভারতের নরেন্দ্র হিরওয়ানির পর মিরাজই প্রথম স্পিনার যিনি ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টেস্টে  তিনবার পাঁচ উইকেট নিয়েছেন । একটা জায়গায় খুলনার তরুণের কীর্তিটা আরো বড় কারণ পূর্বসূরী দুজনই ছিলেন লেগ স্পিনার। মিরাজ প্রথম অফ স্পিনার হিসেবে তাঁদের কাতারে এসে দাঁড়িয়েছেন।

    ম্যাচে দশ উইকেট নেয়া পঞ্চম কনিষ্ঠতম বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ। এই তালিকার শীর্ষে আছেন এনামুল হক জুনিয়র। অন্যরা হলেন ওয়াসিম আকরাম, লক্ষণ শিবরামাকৃষ্ণাণ ও ওয়াকার ইউনিস।

    ব্যাট-বলে সমান পারদর্শী বলে মিরাজকে আদর করে ডাকা হচ্ছিল ‘আগামীর সাকিব’। বল হাতে ইতিমধ্যে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। এবার ব্যাট হাতে মিরাজকে আবিষ্কারের পালা। তাহলেই এমন অনেক জয় দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের পায়ে লুটাবে।


     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন