• ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ সিরিজ
  • " />

     

    ইংলিশ স্পিনাররা 'তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক'

    বাংলাদেশের কাছে ঢাকা টেস্টে পরাজয়ের পর পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলতে ভারত সফরে গিয়েছে ইংল্যান্ড। কিন্তু সেখানে ইংল্যান্ডের খুব একটা সম্ভাবনা দেখছেন না সাবেক ইংল্যান্ড স্পিনার গ্রায়েম সোয়ান। বাংলাদেশে ইংলিশ স্পিনারদের সাদামাটা পারফরম্যান্সের পর ইসিবির ওপর ভীষণ চটেছেন সাবেক এই অফ স্পিনার। বলেছেন ইংল্যান্ডে স্পিনারদের দেখা হয় ‘তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক’ হিসেবে।

    ২০১২ সালে ইংল্যান্ডের ভারত সফরে এসেছিল ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়। সে সিরিজের চার টেস্টে কুড়ি উইকেট নিয়ে জয়ের মূল ভিত গড়েছিলেন অফ স্পিনার গ্রায়েম সোয়ান। কিন্তু ৯ নভেম্বর রাজকোটে শুরু হতে যাওয়া টেস্ট সিরিজে সেবারের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা খুব ক্ষীণই দেখছেন তিনি। কারণ আদিল রশিদ, মঈন আলী ও গ্যারেথ ব্যাটিদের সাদামাটা বোলিং কোহলি-রাহানেদের কতটা ভোগাবে তা নিয়ে তাঁর সন্দেহ আছে।

    সেজন্য বোলারদের নয়, তিনি দায় দেখছেন ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের।দায় দেখছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেট সংস্কৃতির, “আমাদের দেশে স্পিনকে গুরুত্ব দেয়া হয় না। কিন্তু যখন আমরা উপমহাদেশে যাই, তখন আমাদের দলে মানসম্পন্ন স্পিনার নেই বলে সমালোচনা করা হয়।” এরপরই স্পিনারদের প্রতি বোর্ডের মনোভাবকে তুলোধুনো করেছেন তিনি, “আমাদের দারুণ একটা দল আছে। দারুণ কিছু ক্রিকেটার আছে। কিন্তু তারপরও আমরা ভারতে হারবো কুড়ি বছরের পুরনো একটা ভুলের জন্য। বিকলাঙ্গের মতো আমরা স্পিনারদের তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখি।”

    চট্টগ্রাম টেস্টে এক চুলের জন্য বেঁচে গেলেও ঢাকা টেস্টে শেষ রক্ষা হয়নি ইংল্যান্ডের। বাংলাদেশের কাছে হেরে যেতে হয়েছে ১০৮ রানে। ১৯ বছরের তরুণ মেহেদী হাসান মিরাজ এই সিরিজে নিয়েছেন মোট ১২ উইকেট। এ ঘটনাকেই ইসিবির ঘুম ভাঙানোর মন্ত্র করা উচিৎ বলে মনে করেন সোয়ান, “কাগজে-কলমে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বাজে দুটি টেস্ট দলের একটি। কিন্তু তারা এই সিরিজটা ঘিরে নিখুঁত পরিকল্পনা করেছিল। তারা জানতো কীভাবে খেললে আমাদের হারানো যাবে। এজন্যই তারা একটা টার্নিং পিচে ১৮ বছর বয়সী একটা ছেলেকে খেলিয়েছিল।”

    নিজেদের ক্রিকেট সংস্কৃতির ওপর বিরক্ত সোয়ান এরপর ক্রিকেটকর্তাদের সমালোচনা করার জন্য বেছে নিয়েছেন কড়া ভাষা, “এরপরও যদি ওপরে বসে থাকা কর্তাদের ঘুম না ভাঙে তাহলে তারা মাথামোটা। ব্ল্যাকাডারের (জনপ্রিয় ব্রিটিশ টিভি সিরিজ) ওই বিখ্যাত সংলাপের মতো, “যদি কোনো কিছুই কাজ না করে তাহলে মাথামোটার মতো সবকিছু অগ্রাহ্য করার প্রবণতা আমাদের পথ দেখাবে।”

    মেহেদীদের মতো স্পিনার ইংল্যান্ডে কেন উঠে আসছে না, সে প্রসঙ্গে সোয়ান বলেছেন, “বাংলাদেশ বা ভারতে একজন ১৮ বছর বয়সী স্পিনার ম্যাচে যত ওভার বোলিংয়ের সুযোগ পায় ইংল্যান্ডে ২৮ বছর বয়সী স্পিনারও তা পায় না। এই ছেলেগুলো ১১/১২ বছর বয়স থেকেই দিনে ৩০ ওভার বল করে। কারণ সেখানে কন্ডিশনটাই এমন যে আপনি সারাদিন পেস বল করতে পারবেন না। এই জন্যই তারা স্পিন ভালো খেলে ও ভালো স্পিন বল করে। এটা অনেকটা পিয়ানো বাজানোর মতো। যদি ১৫ বছর ধরে বাজান, তাহলে দারুণ কিছু সুর তুলতে পারবেন।”


     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন