• " />

     

    ক্যারিবিয়দের যিনি সুতোয় গেঁথেছিলেন...

    ক্যারিবিয়দের যিনি সুতোয় গেঁথেছিলেন...    


    ১.

    একদিকে মা চলে গেছেন নিউইয়র্কে, অন্যদিকে সাগর-প্রিয় বাবা পড়ে থাকেন সমুদ্র নিয়ে। ঘুরে বেড়ান সৈকতে, উপভোগ করেন বালুকাবেলার সৌন্দর্য। সৌন্দর্য-সত্ত্বা ছিল তাঁরও। তবে একাকী নয়, সেটা ছিল সবাইকে একসাথে করে তাতেই উপভোগে মাতো। সেজন্যেই কি না, নিঃসঙ্গ-মন পালাতে চাইল, পিতৃভূমি থেকে। শৈশব, কৈশোর, বন্ধু সব যেখানে, সেখান থেকে তিনি চলে গেলেন, বড় যন্ত্রণা নিয়ে। সবকিছু ছেড়ে কেবলমাত্র ভালোবাসার ক্রিকেট সঙ্গী করে বার্বাডোজ ছেড়ে, পাড়ি জমালেন জ্যামাইকায়। জীবনটাকে নতুন করে শুরু করবেন বলে।

     ২.

    কতো কাল-ক্ষণ কবে যে মহাকালের অন্দরে হারিয়ে যায়, কতো শত স্মৃতি যে বিস্মৃতি হয়ে তলিয়ে যায়, কে তার খবর রাখে! এক একটি ক্ষণ গড়িয়ে যায়। আর মহাকাল জানিয়ে দেয়, আরেকটু অতীত হয়ে গেলে তুমি, আরেকটু ধূসর হয়ে গেলে তুমি। আরেকটু ভারি হলো মহাকালের স্মৃতির ভাগাড়। কিন্তু যাদের কর্মের তরী সোনা দিয়ে মোড়ানো, কাল-কালান্তর পেরিয়ে ধ্রুব সত্যের মতো, তাঁরা বেঁচে থাকেন চিরকাল। তাদের কর্মের ‘সোনার তরী’ তাদের এগিয়ে নিয়ে যায় তরতর করে অমরত্বের পথে, যেখানে মহাকালের ভাগাড়ের দাঁত বসানোর কোনো সাধ্য নেই। ক্রিকেট-মানবতার মহান সন্তান, ‘স্যার ফ্র্যাংক মোরটাইমার ম্যাগলিনি ওরেল’ , সংক্ষেপে ‘স্যার ফ্র্যাংক ওরেল’ ছিলেন তেমনই একজন। তাই মাত্র ৪৩ বছর বয়সে ল্যুকেমিয়ায় জীবনাবসান সত্ত্বেও, তাঁর কীর্তি ও কৃতিত্বে, বিশ্ব মানবতার ইতিহাসের পাতায় তিনি ঠাঁই নিয়েছেন, দেশ-কাল-গন্ডী পেরিয়ে।

    ৩.

     নতুন জীবনের নব সূচনা পেতে খুব একটা বেশী সময় লাগেনি তাঁর। জ্যামাইকায় বছর না ঘুরতেই ডাক পড়লো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলে। ঘরোয়া ক্রিকেটে বছর কয়েক ধরেই রানের ফোয়ারা ছুটিয়ে জোরালো করেছিলেন, জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির দাবী। তাই ডাক পাওয়াটা সময়ের ব্যাপারই ছিল। আশৈশব বন্ধু এভারটন উইকস ও ক্লাইড ওয়ালকটকে পেলেন সতীর্থ হিসেবে। পরবর্তী এক দশকের ক্যারিবীয়ান ক্রিকেটের মিডল অর্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তার সমাপ্তিও বুঝি তখনি ঘটে গেল। শুরুর দিকে ওয়ালকট-উইকসের তুলনায় বেশী ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়ে ছিলেন তিনিই। একসাথে খেলা টেস্টগুলোর পরিসংখ্যানও তাকেই এগিয়ে রাখে। 

    ব্যাটসম্যান

    ম্যাচ

    রান

    গড়

    ১০০

    ৫০

    ফ্র্যাংক ওরেল

    ২৯

    ২৪৪৩

    ৫১.৯৭

    ০৭

    ১০

    ক্লাইড ওয়ালকট

    ২৯

    ২২৯০

    ৪৮.৭৮

    ০৯

    ০৮

    এভারটন উইকস

    ২৯

    ২৩১৪

    ৪৭.২২

    ০৬

    ১২

               থ্রী ডব্লিউজের একসাথে খেলা ম্যাচগুলো।

     

    ব্যাটসম্যান

    ম্যাচ

    রান

    গড়

    ১০০

    ৫০

    ফ্র্যাংক ওরেল

    ৫১

    ৩৮৬০

    ৪৯.৪৮

    ০৯

    ২২

    ক্লাইড ওয়ালকট

    ৪৪

    ৩৭৯৮

    ৫৬.৬৮

    ১৫

    ১৪

    এভারটন উইকস

    ৪৮

    ৪৪৫৫

    ৫৮.৬১

    ১৫

    ১৯

                   ক্যারিয়ার শেষের পরিসংখ্যান।

     

    তাঁর সাথে অন্যদের পার্থক্যটা ‘অকাট্য’ হয়ে ধরা দিয়েছিল ঠিক সে সময়ে, যখন তিনি ব্যাটসম্যানশীপের গড়-পরিসংখ্যানে, অবনমনের দিকে ধাবিত হচ্ছিলেন। অথচ ওয়ালকট-উইকস যখন অবসরে যাচ্ছিলেন তখনও স্যার ওরেল ৩২ টেস্টে ৫৯.৪৮ গড় নিয়ে সাড়ম্বরে তাঁর ব্যাটসম্যান-সত্ত্বার মাহাত্ন্য ঘোষণা করছিলেন। ক্যারিয়ার শেষে গড় বিবেচনায় তিনি খানিকটা পিছিয়ে পড়লেও, অমরত্বের পথে কিন্তু এগিয়ে গিয়েছিলেন অনেকদূর।

     ৪. পুঁচকে একটা দল, অভিজাত টেস্ট আঙিনায় যারা সবে হাঁটতে শিখেছে সেই পাকিস্তানই কি না, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দিল! স্বদেশের মাটিতে ইংলিশদের আধিপত্যের কাছেও হার মানতে হলো। হচ্ছেটা কি ক্যারিবীয়ান ক্রিকেটে? আলেক্সান্ডারের অধীনে খেলছে ওরেল? এ কেমন তামাশা? পুরো ক্যারিবীয়ান জুড়ে যেন ঝড় উঠল, বন্ধ করো এসব। নেতা বদলাও। শ্বেতাঙ্গ হটাও, কৃষ্ণাঙ্গ আনো। আলেক্সান্ডার নয়, ওরেলকে চাই। ক্রিকেট নিয়ন্ত্রকরাও বুঝলেন, সময়ের দাবী। ফ্র্যাংক ওরেল হলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম কৃষ্ণকায় অধিনায়ক, ৩৭ ছুঁইছুঁই বয়সে! ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায়, ওরেলকে দেয়া হলো, ক্রিকেট দুনিয়ার অন্যতম কঠিন দায়িত্ব। একাট্টা করতে হবে, ভিন্ন ভিন্ন দেশের মানুষগুলোকে। উদ্বুদ্ধ করতে হবে ক্যারিবীয়ান ক্রিকেটের ঐক্যের মহান ঐতিহ্যে।

     ৫.

     অস্ট্রেলিয়ার সাথে কখনো সিরিজ জেতেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নেতৃত্বের প্রথম অভিযাত্রায় ফ্র্যাংক ওরেল পেলেন সেই অস্ট্রেলিয়াকেই। দলের সদস্যদের বলে দিলেন, “আমরা ওদের মতো ব্যাট করতে পারি, বল করতে পারি। এবং ফিল্ডিং, হ্যাঁ ফিল্ডিংটাও আমরা করতে পারি। কিন্তু কথা হচ্ছে, জিততে হলে আমাদের একটা দল হয়ে খেলতে হবে। চলতে হবে একটা পরিবারের মতো।” দলের প্রত্যেকটি সদস্যের প্রতি তাঁর রইলো সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টি, কেউ যেন উপেক্ষিত না থাকে, কেউ যেন নিজেকে অবহেলিত মনে না করে। এবং সব ক্রিকেটারদের বলে দিলেন, কিছুতেই খেলোয়াড়ী চেতনার সাথে আপোস করা যাবে না। দর্শক হাঙ্গামা, থ্রোয়িং মহামারী ও নেতিবাচক মানসিকতায় বিপর্যস্ত ক্রিকেটের পৃথিবীতে, স্যার ওরেল তাঁর দলকে দীক্ষা দিয়েছিলেন মানবতা, মনুষত্ব ও ক্রিকেটের মহান চেতনায় উজ্জ্বীবিত হতে। ‘চূড়ান্ত ভদ্রতার মোড়কে সর্বোচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ উপহার দিতে। একবার আম্পায়ারের এক সিদ্ধান্ত গ্যারি সোবার্সের একটুও মনোঃপূত হলো না। তবুও তর্কে গেলেন না তিনি। মেনে নিলেন বিচারকের রায়। সেই যে অধিনায়ক বলে দিয়েছেন, আম্পায়ারের একটা সিদ্ধান্তে তোমার ব্যাটসম্যানশীপ কমে যাবে না, দক্ষতা আর প্রতিভাও কোথাও হারাবে না। কিন্তু আম্পায়ারের সাথে বিতন্ডতায় জড়ালে হারাবে ক্রিকেটীয় চেতনা। কিছুতেই ওই চেতনার সাথে আপোষ করা যাবে না! ভুল হলে ভুল, তা-ই সই। নীল হার্ভে সেজন্যেই হয়তো বলেছেন, “ওরেল এমন একজন খেলোয়াড়, যার খেলা দেখার জন্য অনেকটা পথ পাড়ি দেয়া যায়।”

     

     ৬

     মোট পনেরো টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যার বারোটিই দিয়েছিল ফলাফল। একটি হয়েছিল টাই, আর বাকী দুটি ড্র হয়েছিল এক উইকেট দূরত্বে! ব্রিসবেনে প্রথম টেস্টে, বেনোকে খেলতে গিয়ে বুঝেছিলেন, এ-কে খেলার উপরই নির্ভর করছে সিরিজের গতিপথ। সোবার্সকে আগলে রেখে তিনি বেনোকে এমনভাবে খেললেন, যেন বেনোকে খেলা কতই না সহজ! মাঠে তাঁর উপস্থিতির প্রতিটি মিনিটে, তাঁর খেলা প্রতিটি বল-এ এমন এক বার্তা ছিল, যা দলকে সঞ্জীবনী সুধায় জাগিয়ে তুলেছিল। অপরাজেয় মানসিকতায় বলীয়ান হয়ে, অদম্য লড়াইয়ের প্রস্তুতিটাও বুঝি তখনই সারা হয়ে গিয়েছিল। নইলে ফোস্কা পড়া পা’য়ে অমন বোলিং কিভাবে করেছিলেন স্যার ওয়েসলি হল? সর্বকালের শ্রেষ্ঠ আনন্দদায়ী এক সিরিজ শেষে যখন ফিরছিলেন মেলবোর্নবাসী বিরহী কন্ঠে সুর তুলেছিল, “ফর হি ইজ এ জলি গুড ফেলো।” এই ‘হি’টা কে তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে? সিডনীর টেলিগ্রাফ শিরোনাম দিয়েছিল, “দে লস্ট দ্য সিরিজ বাট দে ওন অস্ট্রেলিয়া।” ক্রিকেটীয় চেতনার সাথে আপোস না করার যে শিক্ষা স্যার ওরেল তাঁর শিষ্যদের দিয়েছিলেন, তার হাতে হাতে প্রমাণ মিললো যেন! কে না জানে, এক-দু’টো ম্যাচ-সিরিজ জয়ের চেয়েও, মানুষের হৃদয়-জয় ঢের বেশী অর্থ বহন করে!

     

    ৭.

     প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সময়, গ্রিফিথের লাফিয়ে উঠা একটি বল ভারতীয়-দলনায়ক নরি কনট্রাকটরকে ঠেলে দিল জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হলো। তাকে বাঁচাতে তখন অনেক রক্তের দরকার। কে দেবেন রক্ত? কার সাথে মিলবে রক্তের গ্রুপ? রক্তদাতা তিনজন ভারতীয় ক্রিকেটার পাওয়া গেলেও, পর্যাপ্ত হলো না তা। তাহলে? মানবতাবাদী, পূণ্য-আত্না স্যার ফ্র্যাংক ওরেলের সাথে মিলে গেল রক্তের গ্রুপ। তিনি রক্ত দিলেন, সেবারের মতো বেঁচে গেলেন নরি কনট্রাকটর। সেই রক্তের ঋণ আজও ভোলেনি ভারতীয় ক্রিকেট মহল। সেই মহানুভবতার স্বীকৃতির স্বরুপ ক্রিকেট এ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল, প্রতি বছর ৩রা ফেব্রুয়ারীকে ‘স্যার ফ্র্যাংক ওরেল দিবস’ হিসেবে পালন করে। ভারতের বিপক্ষে পাঁচটি টেস্টই জিতেছিল তাঁর দল, নিজেও রানে ফিরেছিলেন। তবুও বিলেত-সফরে ওরেলের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল কেউ কেউ। ওরেলের শুভাকাঙ্খী, প্রখ্যাত ক্রিকেট লিখিয়ে সিআরএল জেমসও বলেছিলেন, “ওরেলের আর কিছু দেয়ার নেই এই দলে। ওরেলের আর কিছু অর্জনের নেই। কিন্তু হারানোর আছে অনেক কিছুই।” ওরেল বিশ্বাস করতেন, দলে তাকে দরকার আছে। ছোটো ছোটো ছেলেগুলো সবে শক্ত জমিনে দাঁড়াতে শিখেছে। তিনি সেই শক্ত জমিনে তাদের চলতে না শিখিয়ে, স্বার্থপরের মতো চলে যেতে পারেন না। কানহাই-সোবার্সের চাপান-উতোর স্তিমিত হয়ে এসেছে কিছুটা, ওরা বুঝতে শিখছে ক্যারিবীয়ানের ঐক্য ও ঐতিহ্য। দলে আরো কিছুটা সময় তাকে দরকার। নিজের জন্য না হোক, দলের জন্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য, ক্যারিবীয়ানের ক্রিকেটের জন্য, তিনি খেলবেন। বিলেত-সফরেও ঠিকই জয় তুলে নিয়েছিল তাঁর দল। প্রথমবারের উইজডেন ট্রফিটাও ক্যারিবিয়ানের ক্রিকেট পাগল মানুষদের জন্য বয়ে এনেছিলেন সুদূর ইউরোপ থেকে। তারপরই সাদা পোশাকটাকে ভাঁজ করে চিরতরে ট্র্যাংকে তুলে রেখেছিলেন।

     ব্রিসবেনের গ্যাবা থেকে লন্ডনের দ্য ওভাল, পনেরো টেস্ট আর তিন বছরের অধিনায়কত্ব-কালে একটা শিক্ষাই তাঁর শিষ্যদের দিতে চেয়েছিলেন, ক্রিকেটের চেয়েও বড় ক্রিকেটীয় চেতনা। মানুষের চেয়েও বড় মনুষত্ব। তাই এসবের সাথে কখনোই আপোস করা যাবে না। যদি হারো, তা-ই সই। কিন্তু ছল-চাতুরী, প্রতারণার আশ্রয় কিছুতেই নেবে না। ইতিহাস স্বাক্ষী, তাঁর শিক্ষা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল তাঁর উত্তরসূরীরা। কূশলী নেতৃত্ব, দূরদর্শি চিন্তা-ভাবনা, আর মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে স্যার ওরেল, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দিয়ে গিয়েছিলেন সর্বজয়ী হওয়ার মহামন্ত্র। খেলোয়াড়ী চেতনার মহা-উত্তাপ হৃদয়ে ধারণের যে ক্রিকেট-শিক্ষা তিনি দিয়েছিলেন, সেই শিক্ষায় দীক্ষা নিয়েই সোবার্স-কানহাই হয়ে এসেছেন লয়েড-ভিভ, লারা-ওয়ালশ, স্যামি-হোল্ডাররা।

    ৯.

     একদিকে যখন তাঁর ক্রিকেট-ক্যারিয়ারের অস্তাচল। অন্যদিকে ক্যারিবীয়ান দ্বীপপুঞ্জে তখন উদিত হচ্ছে স্বাধীনতার সোনালী সূর্য। কর্তব্যের ডাক শুনছেন সেখানেও। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে, হয়েছিলেন জ্যামাইকার প্রথম স্বাধীন সংসদের নির্বাচিত সংসদ। ক্রিকেটের বৃত্তাকার সবুজ মাঠ থেকে রাজনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপট পর্যন্ত, যেখানেই কর্তব্যের ডাক শুনেছেন, সেখানেই তিনি হাজির ছিলেন। তাঁর সুমহান চরিত্রের শ্বেত-শুভ্র স্পর্শে ধন্য করেছেন, তাঁর চারপাশ।

     ১০. 

    শোষক শ্রেণীর প্রভাবে যুগ-যুগান্তরের হীনমন্যতা, শোষণ-শৃংখলের বেড়াজাল, অন্যায়ভাবে দমিয়ে রাখার যত চেষ্টা, সংস্কারের নামে যত কুসংস্কার সবকিছুকে দুমড়ে-মুচড়ে, আপন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন সর্বকালের সর্বজন শ্রদ্বেয়, সর্বজন মান্য একজন ব্যক্তিত্বে। কাল, বর্ণ, গোত্র, দেশ, জ্ঞাতি, ক্ষেত্র পেরিয়ে ‘মহৎ-প্রাণ’ স্যার ফ্র্যাংক ওরেল ছুঁয়েছিলেন মহাকালের মহা উচ্চতা। মানবতা ও মনুষত্ব্যের মহোত্তম সংগীত গেয়ে, মহাকালের বিশাল ক্যানভাস রাঙিয়ে ছিলেন, তাঁর রঙে। হয়েছিলেন একজন কালজয়ী, ক্রিকেট-মানবতার মহান সন্তান।