• বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকা
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    যত কান্ড হ্যাট-ট্রিকে!

    'অমর' ম্যাথিউস 

    সেন্ট কিলডার হয়ে ১৮টি গোল ছিল তাঁর, ১৯০৭ মৌসুমে। ভিক্টোরিয়ার এ ক্লাবের হয়ে সেবার ১২টি ম্যাচ খেলেছিলেন জিমি ম্যাথিউস। গোলসংখ্যার চেয়েও ম্যাথিউসের টেস্ট উইকেট দুইটি কম, ১৬টি। একদিনেই এর ছয়টি পেয়েছিলেন এ লেগস্পিনার। ছয়টি উইকেটের মাঝে ছিল দুইটি হ্যাটট্রিক! টেস্ট ইতিহাসের এখন পর্যন্ত একই টেস্টের দুই ইনিংসে হ্যাটট্রিক পাওয়া একমাত্র বোলার ম্যাথিউস। ১৯১২ সালে ক্রিকেটের প্রথম বহুজাতিক সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের শেষ তিন ব্যাটসম্যানকে প্রথমে আউট করেছিলেন ম্যাথিউস। ফলো-অনে সেদিনই ব্যাট করতে নেমেছিল আফ্রিকা, এবার ছয় থেকে আট নম্বরকে আউট করলেন। দুইবারই শেষ উইকেটটা ছিল টমি ওয়ার্ডের, স্বাভাবিকভাবেই একই দিনে ‘কিং পেয়ার’ এর ‘স্বাদ’ পেয়েছিলেন আফ্রিকান উইকেটকিপার! ম্যাথিউস সে সফরের পর আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বয়স থাকলেও খেলেননি প্রথম শ্রেণির ম্যাচও। এরপর কিউরেটর হয়েছিলেন উইলিয়ামসটাউনে, সে কাজই করেছিলেন দীর্ঘদিন!

     



    চারে চার, মালিঙ্গার! 

    গায়ানায় ‘প্রায়’ মিইয়ে গেছে ম্যাচের সকল উত্তেজনা। শন পোলককে বোল্ড করে লাসিথ মালিংগার হাসিটাই বলছিল, উইকেটটার তেমন কোনো অর্থ নেই! ৩১ বলে দরকার ৪ রান, দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে তখনও ৪ উইকেট! অ্যান্ড্রু হল ইয়র্কারটা ঠেকাতে গিয়েছিলেন, উঠে গেল বল। মালিংগা পরের বলেও পেলেন উইকেট। হঠাৎ পাওয়া আনন্দে হাসিটা বিস্তৃত হলো একটু, গায়ানায় ফিরলো উত্তেজনা! মাঝে এক ওভার চলে গেল, হলো এক রান। মালিঙ্গা এলেন আবার, সামনে সুযোগ হ্যাট-ট্রিকের। সামনে আবার থিতু হওয়া ব্যাটসম্যান জ্যাক ক্যালিস, ব্যাট করছেন ৮৬ রানে। ব্লক হোলের বলটা ক্যালিস ড্রাইভ করতে গিয়ে পেছনে সাঙ্গাকারার হাতে ক্যাচ দিলেন। মালিংগা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাট-ট্রিক আনন্দে মাতলেন খানিক বাদেই! গায়ানার উত্তেজনা তখন বেড়েছে আরও, মরা ম্যাচে ফিরেছে প্রাণ! এনটিনি এলেন, মালিংগার ইয়র্কারের জবাব পেলেন না কোনো! এবার শ্রীলঙ্কান পেসার মাতলেন বাঁধনহারা উল্লাসে, উড়তে চাইলেন পাখির মতো! চার বলে চার উইকেটের আনন্দ তো এমনই হওয়ার কথা! তখনও জয় থেকে তিন রান দূরে আফ্রিকা, দীর্ঘ তিনটি রান! সে ওভারে শেষ ব্যাটসম্যান লাঙ্গেভেল্ট নিলেন এক রান, চামিন্দা ভাসের পরের ওভারটা দিলেন মেডেন। রবিন পিটারসন স্ট্রাইকে এলেন, বেরসিকের মতো তাঁর আউটসাইডেজটা হলো চার। ওই মালিংগার বলেই!

     

    আলবার্ট এডুইন ট্রট 
     

    এক ইনিংসে দুই হ্যাট-ট্রিক, দুইটি 'আক্ষেপ'! 

    আলবার্ট এডুইন ট্রট বেঁচেছিলেন ৪১ বছর। খেলেছিলেন ৩৭৫টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। তিনি ব্যাট করতেন, তিনি বল করতেন। খেলা ছাড়ার পর করেছিলেন আম্পায়ারিং-ও। খেলেছিলেন ভিক্টোরিয়ার হয়ে, আবার মিডলসেক্সের হয়েও। পাঁচ টেস্টের তিনটি খেলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে, পরের দুইটি আবার ইংল্যান্ডের হয়ে! এই বহুমুখী ট্রটের হ্যাট-ট্রিকের রেকর্ডটাও তাই অন্যরকম। একই ইনিংসেই দুইটি হ্যাট-ট্রিক, এর মধ্যে আবার একটি ‘ডাবল’ : চার বলে চার উইকেট! মিডলসেক্সের হয়ে লর্ডসে সমারসেটের হয়ে প্রথমে ‘ডাবল’ হ্যাটট্রিক, পরে হ্যাটট্রিক করে হ্যাটট্রিকের ‘ডাবল’ পূর্ণ করেছিলেন ট্রট! নির্বাচকরা তবুও ক্যারিয়ারজুড়েই উপেক্ষা করে গিয়েছেন ট্রটকে, পাঁচ টেস্টেই তাই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আটকে গিয়েছিল তাঁর। ক্রিকেটের মতো মদ, জুয়াও ভালবাসতেন খুব। শরীর মানছিল না বলে চল্লিশ বছরেই তাই অবসর নিয়েছিলেন, হয়েছিলেন আম্পায়ার। তবে ক্রিকেট আঁকড়ে দুনিয়ায় বেশীদিন থাকতে পারেননি। ভাড়া নেয়া এক রুমের অ্যাপার্টমেন্টে যখন ট্রট আত্মহত্যা করেন, লন্ড্রির টিকেটের পেছনে লেখা তাঁর উইলটা পাওয়া গিয়েছিল। চার পাউন্ড আর একটা আলমিরার উত্তরাধিকার তিনি দিয়ে গিয়েছিলেন বাড়িওয়ালিকে।

    ট্রট মারা যাওয়ার প্রায় ৪৯ বছর পর জোগিন্দর রাও নামের এক ভারতীয় বোলার ‘প্রায়’ ছুঁয়েছিলেন তাঁর কীর্তি! রঞ্জি ট্রফিতে নিজের অভিষেক ম্যাচেই জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে হ্যাট-ট্রিক পেয়েছিলেন রাও। পরের ম্যাচে উত্তর পাঞ্জাবের সঙ্গে আবার হ্যাট-ট্রিক করলেন। সে ইনিংসেই করলেন আরেকটি হ্যাট-ট্রিক। পাঁচ বলের মধ্যে চার উইকেট নিয়েছিলেন এর মধ্যে, তবে টানা চার উইকেট পাওয়া হয়নি ট্রটের মতো। দুই ইনিংসে তাই তিনটি হ্যাট-ট্রিক হয়েছিল রাওয়ের! 

    ট্রট তবুও পাঁচটি টেস্ট খেলেছিলেন, রাও তাঁর ডাবল হ্যাট-ট্রিকের পরে আর ক্রিকেটই খেলেছেন তিনবার! ভারতীয় সার্ভিসের এ বোলার এরপরই প্যারাসুট দূর্ঘটনায় পড়েন, বাকী জীবনটা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েই কাটে তাঁর।

    ট্রট আর রাওকে শুধু দুই দুইটি হ্যাট-ট্রিকের রেকর্ডই এক সুতোয় গাঁথেনি, ক্যারিয়ার বা জীবনের শেষেও মিল ছিল দুজনের! 



     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন