• ইউরোপা লিগ
  • " />

     

    ইউরোপা জিতেই চ্যাম্পিয়নস লিগে ইউনাইটেড

    একটা সময় দু দলের মধ্যে টক্করটা হত সমানে সমানে। তবে এখন যেন দু দলের মাঝে ব্যবধানটা আকাশ-পাতাল। আয়াক্সের পুরো স্কোয়াডের সম্মলিত মূল্য যেখানে মাত্র ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড, সেখানে এক পগবাকে কিনতেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড খরচ করেছে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড। শেষ যেবার আয়াক্সকে কোনো ইউরোপীয়ান প্রতিযোগীতার ফাইনালে দেখা গিয়েছিল, তখন বর্তমান স্কোয়াডের অনেকের জন্মই হয়নি! আবেগঘন, ঐতিহাসিক এক ফাইনাল থেকে অবশ্য খালি হাতেই ফিরতে হল আয়াক্সকে। অন্যদিকে ইউরোপা লিগ জিতেই আগামী মৌসুমে ইউসিএল খেলার ‘মাস্টারপ্ল্যান’- সফল হল মরিনহোর ইউনাইটেডের। স্টকহোমের ফ্রেন্ডস অ্যারেনাতে তরুণ আয়াক্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে অধরা ইউরোপা লিগটাও ঘরে তুললো ‘রেড ডেভিল’রা।

    ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে ম্যানচেস্টারে বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করে উভয় দল। এরপর থেকেই ‘ম্যানচেস্টার! ম্যানচেস্টার!!’ গর্জনে প্রকম্পিত হতে থাকে স্টকহোমের বাতাস। পজেশন, গোলের সুযোগ- কেতাবী সব পরিসংখ্যানে আয়াক্স এগিয়ে থাকলেও গোলের সূচনাটা করেছিল ইউনাইটেডই।

    “আমি কখনো একটা টাকার বস্তাকে গোল করতে দেখিনি, যেমনটা ক্রুইফ বলতেন”- কিছুদিন আগে বেফাঁস এক মন্তব্য করে বেশ আলোচিত হয়েছিলেন আয়াক্সের ১৭-বছর বয়সী ডিফেন্ডার মাথিয়াস ডি লিট। সরাসরি না বললেও ইউরোপীয়ান প্রতিযোগীতার ফাইনালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের কথাটা যে পগবাকে নিয়েই বলা, তা নিয়ে অবশ্য সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। ডি লিটের মুখে কুলুপ এঁটে দেওয়ার সংকল্প নিয়েই যেন মাঠে নেমেছিলেন পগবা। যথাযথ উত্তরটা দিতে সময় নিলেন মাত্র ১৮ মিনিট। বক্সের বাইরে থেকে তার বাঁ পায়ের শট ডেভিডসন সানচেজের পায়ে লেগে আয়াক্সের জালে ঢুকে পড়ে। বল জালে প্রবেশ করতেই মাথিয়াসের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করেই উদযাপনে মেতে ওঠেন সর্বকালের সবচেয়ে দামী ফুটবলার। ইউনাইটেডের জার্সিতে এবারই প্রথম টানা দুই ম্যাচে গোল পেলেন পগবা।


    পগবার গোলে শিরোপার সুবাস পেতে থাকা ইউনাইটেডের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিখিতারইয়ান। ৪৮ মিনিটে কর্ণার থেকে স্মলিংয়ের হেডে বল পান এই আর্মেনিয়ান। বল পেয়েই ‘ওভারহেড’ শটে চলতি ইউরোপা লিগে নিজের ৬ষ্ঠ গোল করেন তিনি। গোলের পর আয়াক্সের তরুণ তুর্কিদের শূণ্য দৃষ্টিই বলে দিচ্ছিল, প্রায় দুই দশক পর ইউরোপীয়ান প্রতিযোগীতার ফাইনাল থেকে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে তাদের। শেষ বাঁশি পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা করেও ইউনাইটেডের রক্ষণ ভেদ করতে পারেননি ডলবার্গ, ইউনেসরা। ম্যাচশেষে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সতীর্থদের সাথে উদযাপনে যোগ দেন ইব্রাহিমোভিচ। স্বদেশে ফাইনাল খেলতে না পারার আক্ষেপটা তাই খুব একটা হতাশ করলো না এই স্ট্রাইকারকে। প্রথম কোচ হিসেবে অন্তত দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ইউরোপার কীর্তিও হয়ে গেল মরিনহোর। 

    ইউনাইটেডের ইউরোপা লিগ জয়ে আগামী চ্যাম্পিয়নস লিগ মৌসুমে ইংল্যান্ড থেকে পাঁচটি দলের অংশ নেওয়া নিশ্চিত হলো। ইউসিএলে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় কি রিয়ালকে ফিরিয়ে দেবেন ডি গেয়া? গ্রিয়েজম্যান, হামেসদের ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাটাও কি আরো জোরালো হয়ে গেল?

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন