• ফুটবল

৯০ নয়, ৬০ মিনিটে হবে ফুটবল ম্যাচ!

পোস্টটি ১১০৯১ বার পঠিত হয়েছে

ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফবি) দেয়া নতুন সুপারিশে ৯০ মিনিটের ম্যাচ কমিয়ে ৬০ মিনিটে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ৪৫ মিনিটের বদলে আধ ঘন্টা পার হলেই বিরতিতে যাবে দুই দল। নতুন এই পদ্ধতিতে বল খেলার বাইরে গেলেই থেমে যাবে রেফারির ঘড়ি।  ফ্রি কিক থেকে বল পাস না দিয়ে নিজেই কাটিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন খেলোয়াড়রা- খেলার সময় কমানোর সাথে এমন নিয়ম চালুর জন্যও বলা হয়েছে নতুন এই প্রস্তাবে। 

আইএফআইবির ওই প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে একটি ফুটবল ম্যাচে গড়ে ৬০ মিনিটের মতো খেলা হয়। বাকি সময় বিভিন্ন কারণে বন্ধই  থাকে খেলা। নতুন এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে ফুটবলের খারাপ দিকগুলো কমিয়ে আনার কথা। বিশেষ করে ম্যাচে এগিয়ে থাকা দলের সময় নষ্ট করার কৌশল এড়াতেই নেয়া হতে পারে এমন সিদ্ধান্ত।

নতুন নিয়মে খেলাচলাকালীন রেফারির হাত ঘড়ির সাথে সংযোগ থাকবে স্টেডিয়ামে থাকা ঘড়ির। প্রতিবার বল খেলার বাইরে গেলেই থেমে যাবে সেই ঘড়ি। আবার খেলা শুরু হলে নড়বে ঘড়ির কাটা। এভাবে ৬০ মিনিট পর শেষ হবে একটি ফুটবল ম্যাচ।

এক নজরে প্রস্তাবিত নতুন নিয়মগুলোঃ

* রেফারির ঘড়ির সাথে সংযোগ থাকবে স্টেডিয়ামে স্থাপিত ঘড়ির।

* গতিশীল বলেই নেয়া যাবে ফ্রি কিক।

* যে পাশ থেকে বল গোললাইন অতিক্রম করবে, সে পাশ থেকেই নিতে হবে গোলকিক।

* হাত দিয়ে গোল করলে বা ঠেকিয়ে দিলে- দুই ক্ষেত্রেই খেলোয়াড়কে পেতে হবে লাল কার্ড।

* ব্যাকপাস অথবা থ্রো-ইন, হাত দিয়ে ধরলেই গোলকিপারের বিরুদ্ধে বাজানো হবে পেনাল্টির বাঁশি। বর্তমানে এই পরিস্থিতিতে ফ্রি কিক দেয়া হয় প্রতিপক্ষ দলকে।

* কর্নার ও ফ্রি কিক থেকে অন্য কাউকে পাস না দিয়েও নিজেই একাধিক বার পায়ে বল ছোঁয়াতে পারবেন খেলোয়াড়রা। 

* বিরতির বাঁশি হোক বা খেলা শেষের বাঁশিই হোক- রেফারি কেবলমাত্র বল মাঠের বাইরে গেলেই ফু দিতে পারবেন নিজের বাঁশিতে। 

* পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় আর কোনো সুযোগ থাকবে না রিবাউন্ডে বা ফিরতি বলে। খেলা থেমে যাবে ওখানেই। গোলকিক থেকে আবার শুরু হবে খেলা।  

* নিশ্চিত গোল হতে যাওয়া বল হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দিলেও সেটাকে গোল হিসেবে ঘোষণা করতে পারবেন রেফারি।

আজগুবি সব প্রস্তাব শুনে চোখ মাথায় চড়ে বসতে পারে আপনার। ফুটবলের নিয়মনীতি পরিবর্তন করার এরা কারা? এমন প্রশ্ন মাথায় আসাও অস্বাভাবিক নয়। 'আইএফবি' জিনিসটাই বা কি? কী কাজ তাঁদের?

ফিফা ও ব্রিটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দলভুক্ত দেশগুলোই আইএফবিএর মেম্বার। এই সংস্থাটিই ফুটবলের বিভিন্ন নিয়মনীতি প্রণয়ন করে আসছে সেই ১৮৮৬ সাল থেকেই। আইএফবি এর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর  সাবেক ব্রিটিশ রেফারি ডেভিড এলিরেয় নতুন দেয়া এই প্রস্তাব সম্পর্কে মন্তব্য করে জানিয়েছেন- " রেফারি, প্লেয়ার, কোচ, দর্শক- সবার ভেতর সম্প্রীতি বাড়ুক। খেলোয়াড়দের আচরণ আরও ভালো হোক। বিশেষ করে ম্যাচ অফিসিয়ালদের সাথে। সবাই এমনটায় চায়। মাঠের খেলার সময়টা আরও বাড়িয়ে, ফুটবলের সৌন্দর্য ও আকর্ষণ বাড়াতেই আসলে নতুন এই প্রস্তাবনা"।


আইএফবির দেয়া নতুন এই প্রস্তাবের কতগুলো আলোর মুখ দেখবে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন। সেগুলো ফিফা কতৃক সবুজ সংকেত পেলেও মাঠের খেলায় আলোর মুখ দেখতে সময় লাগবে আরও অনেকদিন। তবে মাঠের খেলার সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য অবশ্য আলাদা নিয়ম সুপারিশ করা হয়েছে এই প্রস্তাবে। যার জন্য আইন বদলানোর প্রয়োজন নেই; যে কোনো মুহুর্তেই দেখা যাবে মাঠের খেলায়। রেফারিকে ঘড়ি থামাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছেঃ

* পেনাল্টির বাঁশি বাজানো থেকে শুরু করে কিক নেয়ার সময় পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ঘড়ি। আবারও খেলা শুরু হলেই চালু হবে ঘড়ির কাটা।

* গোল হওয়ার পর কিক অফের মাধ্যমে আবারও খেলা শুরুর আগ পর্যন্ত।

* হলুদ কার্ড ও লাল কার্ড দেখানোর জন্য অপচয় হওয়া সময়ে।

* আহত খেলোয়াড়ের চিকিতসা চলাকালীন সময়ে।

* ফ্রিকিকের নেয়ার জন্য অপচয় হওয়া সময়ে। 

* খেলোয়াড় বদলের সময়।

আগের প্রস্তাবিত নিয়মের বেশ কিছু অবশ্য এরই মাঝে শুরু চালু হয়ে গেছে এবারের কনফেডারেশনস কাপে। সময় বাঁচাতে অধিনায়ক বাদে অন্য কোন খেলোয়াড়ের অনুমতি নেই রেফারির সাথে কথা বলার। কোনো খেলা টাইব্রেকারে গেলে এবারই প্রথম দেখা যাবে 'এবিবিএ' নিয়ম। যেখানে প্রথম কিক নেয়া দলের পর প্রতিপক্ষ  দল পরপর দুবার সুযোগ পাবে কিক নিতে। এরপর আবারও প্রথম দলের কিক নেয়ার পালা। টাইব্রেকারে প্রথমে কিক নেয়া দলের সুবিধা কমাতেই নেয়া হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত।