• মাস্টার্স ক্রিকেট ২০১৭
  • " />

     

    টি-টোয়েন্টির যুগে 'চাপ' নিতে চাইতেন না জাভেদ

    ১৫ বলে ১৮ রান, দুইটা ছয়। হাসিবুল হোসেন শান্তর বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন। ওয়ালটন মাস্টার্স ক্রিকেট কার্নিভালে একমি রাজশাহী মাস্টার্সের হয়ে প্রথম ইনিংসটা বড় হয়নি জাভেদ ওমর বেলিমের। ১৫ ওভারের ম্যাচে অবশ্য তেমন বড় হওয়ারও কথা নয়। তবে বেলিমের ইনিংসটাই দেখিয়েছে রাজশাহীর জয়ের ভিত্তি বড় স্কোরের পথ।

    ২০০৯ সালে স্বীকৃত ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। এরকম ‘পিকনিক’ বা ‘পুনর্মিলনী’ ধরনের ক্রিকেটেই তাই জাভেদকে ব্যাট হাতে দেখার উপলক্ষ্য। তবে এসব ম্যাচ নিয়েও কম ‘সিরিয়াস’ নন তিনি। ম্যাচ শেষে স্ত্রী-পুত্রকে পাশে নিয়ে কথা বলছিলেন, সে কথাতেও অবশ্য খুঁজে পাওয়া গেল ‘সিরিয়াস’ জাভেদকেই।

    তবে এতোদিন পর নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের একটা জিনিস বদলাতে পারলে ভাল হতো তাঁর, ‘বেশী চাপ নিয়ে খেলতাম আসলে। জীবন-মরণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়াতো। সবকিছু বাদ দিয়ে দিতাম। এখন বুঝি, কদিন আগেই সাকিব যেমন বলেছে, ক্রিকেট আসলে জীবনের একটা অংশ। যদি আরেকটু কম চাপ নিয়ে খেলতে পারতাম, হয়তো আরেকটু ভাল হতো। যদিও ক্যারিয়ার নিয়ে আমার কোনও আক্ষেপ নেই।’

    আক্ষেপ থাকারও কথা নয়। জাভেদ তো প্রজন্মের সাক্ষী। ১৯৯৫ সালে ওয়ানডে অভিষেক, শেষ ম্যাচটা যখন খেলেন ২০০৭ সালে, নতুন দিনের কান্ডারি তামিম, মুশফিক, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ এসে গেছেন। জাভেদ নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে গর্বিতই, ‘আমি বাংলাদেশের সেরা সময়ে খেলেছি। লোকে এখনও যেভাবে কথা বলে, এটাই আসলে সবচেয়ে বড় পাওয়া। তখন খেলেছি বলেই ক্যারিয়ার এতো লম্বা হয়েছে।’

    যদি এই টি-টোয়েন্টির যুগে খেলতেন, তাহলে জাভেদ পরিবর্তন করতে চাইতেন খেলার ধরনটা, ‘হয়তো এখন আরেকটু আক্রমণাত্মক খেলতে পারতাম। ২০০৭ বিশ্বকাপে যেমন খেলেছি।’ 

    সে বিশ্বকাপে যখন খেলছেন, ছেলের জন্ম তখনই। দেশে ফিরে বিমানবন্দরেই প্রথম দেখেছিলেন সন্তানের মুখ। ছেলে বড় হয়ে যদি ক্রিকেটার হতে চায়, তাহলে জাভেদের উপদেশটা সরল, ‘ডেসপারেটলি যেভাবে খেলেছি, সেভাবে যেন না খেলে। মনের মতো খেলুক, যদি খেলোয়াড় হয়। চাইলেই তো ক্রিকেটার হওয়া যায় না, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা লাগে। সে পড়ালেখা করুক, খেলুক, যাই করুক, যাতে ইচ্ছামতো করে।’

    ক্রিকেটার জাভেদের এখন নতুন লক্ষ্য কোচিং। কয়েকটা ধাপ পারও করে এসেছেন, ‘লেভেল ওয়ান, টু করেছি। বোর্ড যদি চায়, তাহলে আমি কাজ করতে রাজি। এটা তো বোর্ডকে বলতে হবে। কিছু করতে পারলে অনেক বড় ব্যাপার হবে। ২৫ বছরের অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগাতে চাই। শীর্ষ পর্যায়ে তো এতো টেকনিক্যালি হয় না। কিছু ‘ফাইন টিউনিং’ এর ব্যাপার থাকে।’

    ‘১২ জন কোচের অধীনে খেলেছি। মুদাসসর নজর থেকে জেমি সিডন্স। তবে আমার কাছে সেরা এডি বারলো। সে আসলে আমাদের ক্রিকেট কাঠামোরও অনেক কিছু করেছে।’

    বারলো-সিডন্সদের কাছ থেকে শেখা জিনিসগুলোই পার করে দিতে চান তরুণ প্রজন্মকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন দেশী কোচের জন্য প্রস্তুত না হলেও, বিদেশী কোচদের সহযোগী হিসেবে তারা যথেষ্ট যোগ্য বলেই মত তার, ‘আমাদের সংস্কৃতিতে এটা কঠিন। যারা লম্বা ক্রিকেট খেলেছে, তাদেরকে বিদেশী কোচের সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে। হাবিবুল বাশার, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, যেই হোক। বিদেশী কোচের মতো তো দেশীয় কোচদেরও পারিশ্রমিক দিতে হবে।’

    বিপিএলের গত আসরে রংপুর রাইডার্সের কোচ ছিলেন জাভেদ। তবে এবারের আসর নিয়ে নিশ্চিত নন তিনি। ‘কেউ কিছু বলে নাই। রংপুরের সঙ্গেও কথা হয়নি। সরাসরি বললে হবে।’

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন