• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    লিভারপুল-গেরো কাটাল টটেনহাম

    দুই দলের শেষ দশ খেলার সাতটিতেই হেরেছিল টটেনহাম হটস্পার্স। আর কোনো ম্যাচেই হারেনি লিভারপুল। নতুন ঘরের মাঠ ওয়েম্বলিতে টটেনহাম প্রথম গোলের দেখা পেয়েছিল ৯০ তম শটে! কিন্তু আজ পালটে গেল সব সমীকরণ। প্রথম শটেই গোল করলেন হ্যারি কেইন, তাও খেলার ৪ মিনিটেই। সেখানেই আসলে ম্যাচ শেষ লিভারপুলের জন্য! পুরো ম্যাচে রক্ষণ আর গোলরক্ষকের ভুলে গুণে গুণে হজম করল মোট ৪ গোল। মোহাম্মাদ সালাহর গোলে এক সময় ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল বটে, কিন্তু টটেনহামের আক্রমণাত্মাক ফুটবলের কাছে সেই গোলটা হয়ে থেকেছে শুধুই সান্ত্বনার। লিভারপুলকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে টটেনহাম।



    হ্যারি কেইনের প্রথম গোলটা ডিয়েন লভ্রেনের ভুল থেকে পাওয়া। ৪ মিনিটেই এগিয়ে গিয়ে ঘরের মাঠে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণটা শুরু থেকেই ছিল মারুসিও পচেত্তিনোর দলের কাছে। ১২ মিনিটে সন হিউং মিনের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পার্স। এবারও রক্ষণের ভুলেই ডিবক্সের ভেতর বল পেয়ে গিয়েছিলেন সন, সেই লভ্রেনই এবারও 'খলনায়ক'। এর কিছুক্ষণ পরই সন পেয়ে যেতে পারতেন নিজের দ্বিতীয় গোলও। কিন্তু ক্রসবারে লেগে ফেরত আসে তার নেওয়া ভলি।

    এর পর সালাহর গোলে মোড় বদলায় খেলার। কিন্তু রঙ বদলাতে পারেননি পারেনি লিভারপুল। এক গোলে পিছিয়ে থেকেও টটেনহামের আক্রমণের ঝড় সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে ইয়ুর্গেন ক্লপের দলকে। তবে প্রথমার্ধটা ২-১ ব্যবধানেই শেষ হবে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু ৪৫ মিনিটে আবারও লিভারপুলের রক্ষণের ভুল, আরও একবার সুযোগ কাজে লাগাল টটেনহাম। ক্রিস্টিয়ান এরিকসনের ফ্রি কিক ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি জল মাটিপ। সেখান থেকে বল পেয়ে ভলি করে জালে বল জড়ান ড্যালে অ্যালে।



    মৌসুম শুরুর আগেও লিভারপুলের আক্রমণভাগ নিয়ে প্রশ্ন ছিল না তেমন। কিন্তু রক্ষণ আর গোলরক্ষকের অধারাবাহিক ফর্মটা চিন্তার কারণ ছিল ক্লপের। এ মৌসুমেও অনেক ম্যাচেই ভুগতে হয়েছে সে কারণে, কিন্তু আজ শাস্তিটা বোধ হয় পুরোপুরিই পেল লিভারপুল। 

    ৫৬ মিনিটে আবারও প্রায় একইরকম জায়গা থেকে ফ্রি কিক নেন এরিকসন। এবার ভুলটা করলেন গোলরক্ষক সিমিওন মিনিলো। উড়ে আসা ফিরতি বলে ইয়ান ভেট্রোনহেন শট করলেও গোললাইন থেকে ব্লক করেন রবার্তো ফিরমিনো। কিন্তু গোলের হাত থেকে বাঁচাতে পারেননি দলকে। বল পান কেইন, ডিবক্সের ভেতর থেকে শট করে চার নম্বর গোল করে আধ ঘন্টা আগেই খেলা শেষ করে দেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। 

    বাকি সময়ে ফিলিপ কুতিনহো চেষ্টা করেছিলেন গোলের। গোলরক্ষক হুগো লরিস তার নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন, সেখান থেকে বারপোস্টে লেগে ফেরত আসে বল। এছাড়া বাকি সময়ে আর তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ক্লপের দল। উলটো স্পার্স আরও কিছু সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে লিভারপুলের জন্য হারের ব্যবধানটা হতে পারত আরও বড়।

    প্রিমিয়ার লিগে ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চেয়ে গোলব্যবধানে পিছিয়ে থেকে তিন নম্বরে আছে পচেত্তিনোর দল। দিনের প্রথম ম্যাচে গুডিসন পার্কে জিতেছে টটেনহামের নর্থ লন্ডন প্রতিবেশি আর্সেনালও। ৫-২ গোলে এভারটনকে হারালেও শুরুটা কঠিনই ছিল আর্সেন ওয়েঙ্গারের দলের জন্য। ওয়েইন রুনির গোলে শুরুতেই লিড নিয়েছিল এভারটন। তবে বিরতির আগে নাচো মনরিয়েলের গোলে সমতায় ফেরে গানাররা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে একে একে গোল করেন মেসুত ওজিল, অ্যালেক্সান্ডার লাকাজেতে, অ্যারন রামসে ও অ্যালেক্সিস সানচেজ। চিলিয়ান উইঙ্গারের শেষ গোলের আগে অবশ্য এক গোল শোধ দিয়েছিল এভারটন। এভারটনকে হারিয়ে চেলসির সমান ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরেই আছে আর্সেনাল।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন