• লা লিগা
  • " />

     

    সুযোগ পেয়েই বার্সাকে জেতালেন আলকাসের

    প্রথম একাদশে অনিয়মিত, বদলি হয়ে মাঠে নামার সুযোগটাও কমই পান তিনি। ইঞ্জুরির কারণে নিয়মিতদের অনেকেই না থাকায় সেভিয়ার বিপক্ষে বার্সেলোনা কোচ ভরসা রেখেছিলেন পাকো আলকাসেরের ওপর। এর্নেস্তো ভালভার্দের সেই ভরসার প্রতিদানটা আলকাসের দিয়েছেন ম্যাচ জিতিয়ে! স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের জোড়া গোলে সেভিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ভালভার্দের দল।    

     

     


    ন্যু ক্যাম্পে শুরুটা দারুণ করেছিল বার্সা। খেলার প্রথম পাঁচ মিনিটে চারটি শট অন টার্গেট করে বড় জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিল তারা। ৪ মিনিটে লিওনেল মেসির শট ঠেকিয়ে দেন সেভিয়া গোলরক্ষক ডেভিড সোরিয়া। এর কয়েক সেকেন্ড পরই মেসির পাস থেকে বুস্কেকটসের শট ক্লিয়ার হয় গোললাইন থেকে। মিনিট খানেক পর সুয়ারেজও পেয়েছিলেন দারুণ সুযোগ। গোল করার মতো অবস্থান থেকে বল মেরে সোজা সোরিয়ার হাতে! এসব কিছুই ঘটেছে খেলার প্রথম ৫ মিনিটের মধ্যে!



    প্রথমার্ধ থেকেই কোনঠাসা হয়ে পড়া সেভিয়াও অবশ্য সুযোগ পেয়েছিল। সেটাও বার্সার রক্ষণের ভুলে। কিন্তু স্যামুয়েল উমতিতিকে শাস্তিটা দিতে পারেননি স্ট্রাইকার লুইস মুরিয়েল। অন্যদিকে পাকো আলকাসের অবশ্য ‘দয়া’ দেখাননি এস্কুদেরোকে। মাঝমাঠ থেকে লুইস সুয়ারেজের পাঠানো বলটা ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি সেভিয়া অধিনায়ক। বলটা তাই সুয়ারেজ যে ঠিকানায় পাঠিয়েছিলেন, সেখানেই পৌঁছে। ২৩ মিনিটে সেখান থেকে এক টাচেই সোজা জালে বল পাঠান আলকাসের। এর পর বার্সা আরও কতোগুলো সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধটা মাত্র ১-০ ব্যবধানেই শেষ হয়েছিল।

    এক গোলে এগিয়ে থাকাটা যে ম্যাচ জয়ের নিশ্চয়তা দেয়না- সেটাই বিরতির পরে আরও একবার প্রমাণ করেছিল সেভিয়া। বার্সেলোনার গোল মিসের সুযোগ নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধটা শক্তিশালীভাবেই শুরু করেছিল আন্দালুসিয়ান ক্লাবটি। দ্বিতীয়ার্ধের একেবারে শুরুতেই সেই মুরিয়েলের কাছেই এসেছিল সুযোগ, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। অবশেষে ৫৯ মিনিটে কর্নার থেকে হেড করে সেভিয়াকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন গুইদো পিজ্জারো।

    গোল হজম করেই প্রথমার্ধের হারানো ছন্দটা ফিরে পায় বার্সা। ম্যাচে সমতা আসার দুই মিনিট পরই জেরার্ড পিকের একটি শট ফিরে আসে বারপোস্টে লেগে। বারপোস্টের কল্যাণে বেঁচে গেলেও সেভিয়ার শেষ রক্ষা হয়নি। খুব বেশিক্ষণ সমতায় থাকতে পারেনি তারা। ৬৫ মিনিটে ইভান রাকিতিচের ডান দিক থেকে করা ক্রসে পা ছুঁয়ে বার্সাকে আবারও  এগিয়ে দেন আলকাসের।

    গোলের পরই অবশ্য বদলি হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বার্সার ম্যাচ জয়ের নায়ককে। বাকিটা সময় আর ব্যবধান বাড়ানো হয়নি বার্সার। মেসি খেলেছেন নিজের মতোই, শুধু গোলের দেখাটাই পাননি। আগের কয়েক ম্যাচের মতো সুয়ারেজও নিজের সেরাটা দিতে পারেননি বার্সার হয়ে। অবশ্য শেষ ২০ মিনিটে দুটো পেনাল্টিও পেতে পারত বার্সা, কিন্তু রেফারি সাড়া দেননি সেই আবেদনে।

    শেষদিকে অবশ্য খেলাটা জমেই উঠেছিল। যোগ করা ৪ মিনিট সময়েও মাত্র এক গোলে এগিয়ে থেকে ঘরের মাঠে বার্সাকে পার করতে হয়েছে অস্বস্তিকর সময়। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় মেসিকে দেখতে হয়েছে হলুদ কার্ড। ম্যাচে ওই একবারই পকেটে হাত দিয়েছিলেন রেফারি, সেটাও মেসির জন্য! শেষ পর্যন্ত অবশ্য ম্যাচ জিততে পেরে খুব বেশি আফসোস থাকার কথায় নয় মেসির।       

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন