• " />

     

    'নিজেদের বাড়িতেই ঘুম হচ্ছে না' লিটনদের

    দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের হ্যাংওভার যেন এখনো কাটছে না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। বিপিএলে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের কোনো ফিফটি নেই। এর মধ্যে আফ্রিকাফেরতদের অবস্থা আরও করুণ,কেউ এখন পর্যন্ত ২৫ রানও পেরুতে পারেননি। লিটন দাস তো স্বীকারই করে নিয়েছেন, দেশের উইকেটের সঙ্গে ‘মানিয়ে নিতে’ কষ্ট হচ্ছে তাদের।

    এখন পর্যন্ত বিপিএলের চার ম্যাচে বিদেশী ব্যাটসম্যানদেরই জয়জয়কার। সিলেটের উপুল থারাঙ্গা, আন্দ্রে ফ্লেচার আর ঢাকার এভিন লুইস, ক্যামেরন ডেলপোর্টরাই আলো কেড়ে নিয়েছেন। বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা এখনো বলার মতো কিছু করতে পারেননি। জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানদের অবস্থা আরও তথৈবচ, চার ম্যাচে সর্বোচ্চ সাকিবের ২৩। মুশফিক, নাসির, ইমরুল, লিটন দুই অঙ্ক ছুঁয়েই আউট হয়ে গেছেন। আর মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল, সাব্বিররা পারেননি তাও। লিটন-সৌম্য অবশ্য এটাকে খুব বড় করে দেখছেন না, টুর্নামেন্ট মাত্র শুরু তাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন। তবে লিটন স্বীকারই করে নিলেন, এই উইকেটের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে একটু হলেও সময় লাগছে তাদের।

    মাত্র কিছুদিন আগেই অস্ট্রেলিয়া সঙ্গে সিরিজের আগে মাসখানেকের প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ। এর পর দক্ষিণ আফ্রিকার অচেনা কন্ডিশনে ব্যাটসম্যানরা যেন মাঝ দরিয়ায় দিশে হারিয়ে ফেলা নাবিক। ওয়ানডেতে মুশফিকের সেঞ্চুরি একটু পথ দেখালেও বাকিরা শেষ পর্যন্ত নিজেদের হারিয়েই খুঁজেছেন। সেখানেও অচেনা কন্ডিশন একটা ঢাল হতে পারত, কিন্তু বিপিএলে এসেই সেই ঢাল আবার সামনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন লিটনরা।

    এখন পর্যন্ত বিপিএলের উইকেট যে খুব রানপ্রসবা হয়েছে তাও নয়। কিন্তু বিদেশীদের ব্যাট কমবেশি প্রতিটি ম্যাচেই হেসেছে। দেশীয়দের মধ্যে মোহাম্মদ মিঠুন, রনি তালুকদাররাই এখন পর্যন্ত যা একটু বলার মতো কিছু করতে পেরেছেন। কিন্তু জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার প্রশ্নে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের লিটনের সহজ স্বীকারোক্তি, ‘এখানে কন্ডিশন একটু আলাদা। একটু মানিয়ে নিতে সময় লাগবে। অনেক দিন একটা ট্যুর হয়ে আসলাম। অনেক দিন ধরে অন্য উইকেটে খেলে এসেছি, আবার এখানে খাপ খাওয়াটা একটু হলেও টাফ। আর এখানে উইকেট স্লো, সেখানে খেলা একটু হলেও অন্যরকম।’  

    সৌম্য অবশ্য কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পরীক্ষা এখনো দেননি। দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরুটা নড়বড়ে হলেও টি-টোয়েন্টি এসে শেষ পর্যন্ত চেনাতে পেরেছেন নিজেকে। চিটাগাং ভাইকিংসের হয়ে কালই প্রথম বার মাঠে নামবেন বিপিএলে। তবে কন্ডিশনের ব্যাপারটা তাঁকেও একটু হলেও ভাবাচ্ছে, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসার পর এখানকার উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। কারণ দেড় মাসের মতো বাইরে ছিলাম, আবার এখানে নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে। এখানে দুপুরের দিকে একটু স্পিন ধরে, আবার শিশিরও আছে। এসবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

    এখনো অবশ্য বিপিএল মাত্র শুরু, শুরুতে একটু হোঁচটটাও খুব বিস্ময়কর কিছু নয়। তবে চেনা কন্ডিশনের সঙ্গে ‘মানিয়ে’ নেওয়াটা একটু যেন বেখাপ্পাই ঠেকে কানে। বেশ কিছুদিন পর নিজের বাসায় ফিরে ঘুমটা যখন ভালো হওয়ার কথা, সেখানে লিটনদের এমন ইনসমনিয়ার রোগী হয়ে যাওয়াটা তো একটু অবাক করারই!  

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন