• বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    সিলেটকে শেষে এসে 'প্রথম' উপহার দিল খুলনা

    বিপিএল, ম্যাচ ৮, সিলেট
    সিক্সারস ১৩৫/৫, ২০ ওভার (নাসির ৪৭, হোয়াইটলি ২৭, থারাঙ্গা ২৬, গুনাথিলাকা ২৬, মাহমুদউল্লাহ ২/১২, আর্চার ২/২৫) 
    টাইটানস ১৩৮/৪, ১৮ ওভার (ক্লিঙ্গার ৪৭, মাহমুদউল্লাহ ২৭, ব্র্যাথওয়েট ২১, তাইজুল ৩/১৯) 


    নতুন ভেন্যু, নতুন দল। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিক্সারসের যাত্রা শুরু হয়েছিল জয় দিয়ে, ঢাকার সঙ্গে। এরপর কুমিল্লা বা রাজশাহী, সিলেটের কাছে পাত্তা পায়নি কেউই। বিপিএলের এবারের আসরে সিলেটে শেষ ম্যাচে এসে পরাজয়ের স্বাদ পেলো স্বাগতিকরা, খুলনা টাইটানসের কাছে। ১৩৬ রানের লক্ষ্যটা খুলনা শেষ পর্যন্ত পেরিয়ে গেছে সহজেই। 

    এদিন সিলেটের সঙ্গে যেন ঘটলো নতুন নতুন ঘটনা। সিলেটের ওপেনিং জুটি ভাঙলো ৫০ রানের আগেই। উপুল থারাঙ্গা আউট হলেন ৫০ রানের আগেই। সিলেট ২ উইকেট হারিয়ে ফেললো পাওয়ারপ্লের মাঝেই, রান উঠলো মাত্র ৩৮! আগের তিন ম্যাচে সিলেটের সঙ্গে যা হয়নি, এদিন খুলনা টাইটানস করে দেখালো সেসবই। 

    আরেকটা জিনিস দেখালেন খুলনার পেসার জোফরা আর্চার। পেস, নিখাদ পেস। আন্দ্রে ফ্লেচারের হেলমেটে লাগলো একটা বল, সেই ফ্লেচারই পরে অন দি আপে জোরের ওপর খেলতে গিয়ে দিলেন ক্যাচ, সেটা অবশ্য শফিউলের বলে। সাব্বির অবশ্য হিমশিম খেলেন ওই আর্চারের পেসেই, স্ল্যাশ করতে গিয়ে মিড-অফে মাহমুদউল্লাহকে যে ক্যাচ দিলেন, সেটা মিস করার কথা তিনি দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেন না! 

    থারাঙ্গাকে শুধু বোলিং করেই আউট করলেন মাহমুদউল্লাহ, আউট করলেন অধিনায়কত্বেও। মিড-অফকে রেখেছিলেন বেশ সোজাসুজি, থারাঙ্গা ধরা খেলেন সেখানেই। আগেরদিন সিলেটকে এগিয়ে নিয়েছিলেন গুনাথিলাকা, এদিন তেমন কিছু পারলেন না। মাহমুদউল্লাহ আবার ঘাতক, বটম এজে উইকেটকিপারের কাছে ক্যাচটা নিশ্চিত হতে নিতে হলো টিভি রিপ্লের সাহায্য। 

    এবার পালা সিক্সারস অধিনায়কের। নাসির হোসেন করলেন একজন অধিনায়কের মতোই ব্যাটিং। সঙ্গ দিলেন রস হোয়াইটলি, ৯ বল বাকি থাকতে তিনিও হলেন আর্চারের শর্ট বলের শিকার। পুল করতে গিয়ে দিয়েছেন ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ। নাসির অপরাজিত থাকলেন ৪৭ রান করে। সিলেট পৌঁছালো ১৩৫-এ। 

    টাইটানসদের জন্য সে লক্ষ্যটাকে শুরুতে বেশ কঠিনই বানিয়ে ফেলেছিলেন তাইজুল ইসলাম। প্রথম ওভারেই উইকেট পেতে পারতেন একটা, আম্পায়ার এলবিডাব্লিউ দিলেন না। পরের ওভারে এসে প্রথম আঘাতটা হানলেন তিনিই, তার নীচু হওয়া স্কিড করা বলে বোল্ড নাজমুল হোসেন শান্ত। সেই ওভারেই আরেকটা আঘাত, এবারের ডেলিভারি আগেরটার চেয়েও ভাল! তীক্ষ্ণ টার্নের কোনও জবাব দিতে পারলেন না চ্যাডউইক ওয়ালটন, ব্যাটিংয়ে যেটা পেয়েছিল, সিলেট যেন খুলনাকে বোলিংয়ে ফিরিয়ে দিল সেটাই। 

    টানা চতুর্থ ওভার তাইজুলকে আনলেন নাসির, তাইজুল এনে দিলেন তৃতীয় সাফল্য। রাইলি রুশো রিভার্স সুইপ করতে গেলেন, চিন্তাটা ভাল ছিল, টাইমিংটাও দারুণ হলো। শুধু শটটা গেল সোজা ফিল্ডারের হাতে! ৪ ওভার, ১৯ রান, ৩ উইকেট, তাইজুল উইকেট থেকে পাওয়া স্কিড কাজে লাগিয়ে দেখালেন ফিঙ্গার স্পিনের দারুণ এক প্রদর্শনী। 

    ৪৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিল সিলেট, বাধা হয়ে দাঁড়ালেন মাইকেল ক্লিঙ্গার ও মাহমুদউল্লাহ। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিলেন দারুণভাবে, খেললেন ঠান্ডা মাথয়। ৪০ বলে ৪৩ রান দরকার যখন খুলনার, একটু মাথা গরম করে ফেললেন মাহমুদউল্লাহ। উড়িয়ে বাউন্ডারি পার করতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন। তবে ক্লিঙ্গার ছিলেন, বাকি সময়টা তাকে যোগ্য সঙ্গ দিলেন কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। 

    যেমন বিপিএলকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে গেল সিলেট। তাদের দল, তাদের ভেন্যু, আর তাদের দর্শকরা! 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন