• বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    'নিজের মতো থেকেই' এই মুমিনুল

    মুমিনুল যেন মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন বড় শট খেলতে। সোহাগ গাজিকে জোরের ওপর স্লগ সুইপ করতে গেলেন, হলো শুধু টপ-এজ। হলো শুধু ক্যাচ, মুমিনুল হলেন শুধু আউট। বিপিএলের নতুন মৌসুম, মুমিনুলের আরেকবার উন্নতির সুযোগ। মুমিনুলের শুরুটা হলো পুরোনো হতাশায় ঘেরা। সিলেটে বিপিএল অংশের দ্বিতীয় ম্যাচ, রংপুরের সঙ্গে। 

    মাশরাফি বিন মুর্তজার শর্ট বল। মুমিনুল জোরের ওপর ঘোরালেন, টাইমিংটা খারাপ হলো না। তবে বলটা উঠলো না, সোজা গেল নাজমুল ইসলামের হাতে, ডিপ-স্কয়ার লেগে। নাজমুল সে ক্যাচটাই ফেলে দিলেন। মুমিনুল পেলেন আরেকটা সুযোগ। হয়তো সুযোগ পেলেন আরেকটু ভাবার। মিরপুরের উইকেটে যা একটু বোলারদের সহায়তা ছিল, সেটা নিয়ে নিয়েছেন মুমিনুলের দল রাজশাহীর বোলাররাই। উইকেট এখন ফ্ল্যাট। উইকেট এখন দেখে-শুনে-সহজে খেলার মতো। বিপিএল ঢাকায় ফিরেছে, মুমিনুলের মতে ব্যাটিংয়ের জন্য এ টুর্নামেন্টে যেটা সবচেয়ে কঠিন উইকেট।

     

     

    ****

    মাশরাফির ওভারপিচড বল। মুমিনুল পড়ে ফেললেন আগেভাগেই। ফ্লিক করলেন, জোর দিতে হলো না। ছয়। এরপর আরেকটা স্লোয়ার। প্যাডের ওপর থেকে যেন থাপ্পড় মেরে সরিয়ে দিলেন, এবার চার। মাশরাফি নিজেও জানতেন, ‘প্রথম ছয় ওভার কাজে লাগাবে মুমিনুল’, তবে মুমিনুল যেন খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে এলেন পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে গিয়েই। 

    ‘প্রথমে মিরপুরের উইকেটে ৫-৬ ওভার বোলিং করলে একটু সাহায্য পাওয়া যায়, যেটা আমাদের বোলাররা কাজে লাগিয়েছে। পরে আমাদের ব্যাটিংয়ের সময় উইকেট ফ্ল্যাট হয়ে গেছে।’ তবে উইকেট ফ্ল্যাট হলেই কি, শট খেলার আকাঙ্খা তো মরে না! চলে যায় না তাই দ্রুত আউটের সম্ভাবনাও। তবে মুমিনুল এরপর খেললেন সহজাত এক ইনিংস। যে ইনিংসে তার স্ট্রাইক রেট ১৪৩.১৮। যে স্ট্রাইক রেট তাকে ভুগিয়েছিল গত মৌসুমে। ‘গত বছর আমার স্ট্রাইক রেট ভাল ছিল না। এবারও যদি তাই থাকে, তাহলে তো আমার উন্নতি হচ্ছে না। আমি স্ট্রাইক রেটটা ঠিক করে উন্নতির চেষ্টা করছি।’

    ১৫ ইনিংসে গতবার মুমিনুল রান করেছিলেন ৩৩১, স্ট্রাইক রেট ছিল ১০৮। 

    ****

    দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে টি-টোয়েন্টি দলে হঠাৎ করেই ডাকা হলো মুমিনুলকে। তবে ডাক পেলেন না। মুমিনুলকে তো ওয়ানডের জন্য বিবেচনা করা হয়না আরও আগে থেকেই। এই যে এক ফরম্যাটের একটা তকমা গায়ে সেঁটে আছে, মুমিনুল কি সেখান থেকেই তাড়না নেন ভাল করার? 

    এমন প্রশ্নের জবাবে মুমিনুল হাসেন। 

    ‘আমার তো মনে হয়, আমি নিজের মতোই আছি। না, ঐরকম কিছু না। ৪০ করি, ৫০ করি, সব নিজের ওপরে। আপনি যেভাবে লক্ষ্য ঠিক করেন আরকি। যদি মনে হয়, না, আপনার উন্নতি করা দরকার, অভ্যাস করা উচিত, ৪০-৫০ করে আউট না হয়ে শেষ করে আসা। তাহলে আপনি অনেক কিছুই শিখবেন। আমি সেটাই চেষ্টা করছি।’

    মুমিনুল আজ শেষই করে এলেন। 

    ****

    লাসিথ মালিঙ্গার স্লোয়ারটাও পড়ে ফেললেন। লং-অনে খেললেন। ভেবেছিলেন, সীমানার এপাশেই বোধহয় পড়বে। পড়লো ওপাশেই। মুমিনুল আবার হাসলেন। 

    ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, ছয় হয়েছে’।

    আবার একটা হাসির রোল উঠলো সংবাদ সম্মেলন কক্ষে। মুমিনুল ম্যাচ শেষেও হাসলেন। নিলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। ওপেনিং পজিশনটা তবে দারুণ উপভোগ করছেন মুমিনুল। 

    ‘রান করলেই উপভোগ করি আমি। সেটা নয় নম্বরে নেমে হলেও। আমি যেভাবে খেলছি, ধীরে ধীরে উন্নতি করলে যাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার তারা নেবেন।’

    সিদ্ধান্তটা মুমিনুলকে বাংলাদেশের হয়ে এই ফরম্যাটেও বিবেচনা করা হবে কিনা, সেটার। আপাতত মুমিনুল সেসব ভাবতে চান না। চান নিজের মতো করেই থাকতে, চান নিজের মতো করেই খেলতে।  
     

     

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন