• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    তিন বছর পর স্পার্সকে হারালো আর্সেনাল

    ৭৫ মিনিটের খেলা চলছে তখন। সাইডলাইনে ফোর্থ অফিশিয়াল বোর্ডে দেখা গেল লাল বর্ণে লেখা '১০' নম্বরটি। মুহুর্তেই বিদ্রূপাত্মক দুয়োতে ফেটে পড়লো সমগ্র এমিরেটস স্টেডিয়াম। আর্সেনালের বিপক্ষে খেলা প্রতি ম্যাচে গোল পাওয়ার রেকর্ডটা আজ আর বাড়িয়ে নিতে পারলেন না হ্যারি কেন। মাথা নিচু করে জায়গা বদল করতে হল ফার্নান্দো ইয়োরেন্তের সাথে। মূল সেনানীর 'অনুপস্থিতি'তে আর্সেনালের সামনে দাঁড়াতে পারল না টটেনহাম হটস্পার্সও। মরিসিও পচেত্তিনোর দলকে ২-০ গোলে হারালো আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল। গোল করেছেন স্কোদরান মুস্তাফি এবং আর্সেনালের আক্রমণভাগের অন্যতম মূল কাণ্ডারি অ্যালেক্সিস সানচেজ।

     

    এমিরেটস স্টেডিয়ামে আজ শুরু থেকেই স্পার্সকে চেপে ধরেছিল আর্সেনাল। আলেকজান্ডার লাকাজেত, মেসুত ওজিলদের নিয়ে মূহূর্মূহূ কাঁপিয়ে দিচ্ছিলেন উগো ইয়োরিসের রক্ষণভাগকে। কিন্তু প্রত্যাশিত গোলের দেখা আর মিলছিল না। অবশ্য খেলার ধারার বিপরীতে আরেকটু হলেই লিডটা নিয়েই নিয়েছিল টটেনহাম। মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের জোরালো শট বারে প্রতিহত হওয়ায় সে যাত্রায় বেঁচে যায় আর্সেনাল। অবশেষে ৩৬ মিনিটে বহুল প্রতীক্ষিত গোলের দেখা পেয়ে যায় তারা। বাঁ-প্রান্ত থেকে ওজিলের নিখুঁত ফ্রিকিকে হেড করে ইয়োরিসকে পরাস্ত করেন মুস্তাফি। জার্মান সেন্টারব্যাকের এই গোলকে ঘিরে আছে বিতর্ক। কারণ রিপ্লেতে দেখা গেছে, অফসাইডে ছিলেন মুস্তাফি। গোলের পরপরই যেন আরও উজ্জীবিত হয়ে উঠে আর্সেনাল। লিডটা দ্বিগুণ করতে মাত্র মিনিট পাঁচেক সময় নেয় তারা। ৪১ মিনিটে লাকাজেতের পাস থেকে ডিবক্সে বল পান সানচেজ। প্রথম টাচে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেও দ্বিতীয়বার জোরালো শটে ঠিকই জাল খুঁজে পান এই তারকা উইঙ্গার। অবশ্য আর্সেনালের এই গোলটিকে ঘিরেও আছে অফসাইডের বিতর্ক। ২-০ গোলের লিড নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে আর্সেনাল। স্পার্সের বিপক্ষে এটি ছিল আর্সেনালের ২৫০তম গোল।

     

     

    দুই গোলে পিছিয়ে থাকা স্পার্সের হয়ে দ্বিতীয়ার্ধেও জ্বলে উঠতে পারেননি কেন এবং ড্যালে আলিরা। অবশ্য রেফারির আরও একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ভুক্তভোগী হতে হয়েছে স্পার্সকে। দ্বিতীয়ার্ধে সিড কোলাসিনাচ কেনকে ডিবক্সে ফেলে দিলেও পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি রেফারি মাইক ডিন। ম্যাচজুড়ে নিজেদের ছায়া হয়ে থাকার কারণে দলের অন্যতম সেরা দুই তারকাকে ম্যাচের ১৫ মিনিট বাকি থাকতেই তুলে নেন পচেত্তিনো। ওদিকে লাকাজেত-ওজিল-সানচেজ ত্রয়ী রীতিমত নাকানিচুবানি খাওয়াচ্ছিল স্পার্সের রক্ষণভাগকে। কিন্তু বেশ কয়েকবার ভুল পাসের কারণে লিডটা আর বাড়ানো হয়নি আর্সেনালের। ম্যাচে স্পার্সের একমাত্র উল্লেখযোগ্য সুযোগ আসে ৯ মিনিট বাকি থাকতে। এরিক ডায়ারের হেড দারুণভাবে রুখে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক পিটার চেক। আলির বদলি হিসেবে নামা হিউঙ-মিন সনও সুবর্ণ এক সুযোগ নষ্ট করলে শেষমেশ হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় স্পার্সকে।

     

    আজকের জয়ে এমিরেটসে টানা জয়ের রেকর্ডটা ১১-তে নিয়ে গেল আর্সেনাল। স্পার্সের বিপক্ষে ২০১৪ সালের পর আবারও জয়ের দেখা পেল 'গানার'রা।

     

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন