• লা লিগা
  • " />

     

    ড্র করে আরও পিছিয়ে পড়ল দুই মাদ্রিদ

    ৮৮ মিনিটের খেলা চলছে তখন। প্রতি আক্রমণে মার্কো আসেন্সিওর পাস থেকে বল পেলেন মার্সেলো। ডিয়েগো গডিনকে কাটিয়ে পাস দিলেন ডানপ্রান্তে থাকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। বল নিয়ন্ত্রণে এনে শট নিলেন 'সিআর৭'। সমগ্র ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানোতে তখন পিনপতন নীরবতা। কিন্তু না! গোল হল না। আচমকা দুর্দান্ত এক ব্লকে রোনালদোর শট ফিরিয়ে দিলেন ডিফেন্ডার লুকাস হার্নান্দেজ। পুরো ম্যাচের প্রতিচ্ছবি যেন এই মুহুর্তটিই। হতে হতেও যেন হল না কারোই। ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানোর প্রথম মাদ্রিদ ডার্বি তাই শেষ হল গোলশূন্য ড্র-তে।

    আজকের ড্র-তে দুই মাদ্রিদই ১০ পয়েন্ট করে পিছিয়ে পড়লো বার্সেলোনা থেকে। লেগানেসকে আজ হারানো বার্সার সংগ্রহ ৩৪ পয়েন্ট; রিয়াল, অ্যাটলেটিকোর ২৪।

     

    গোলের দেখা না পেলেও গোলের সুযোগ, বিতর্ক, বাগবিতন্ডার কোনো অভাব ছিল না পুরো ম্যাচে। ম্যাচের ৩ মিনিটেই সুবর্ণ এক সুযোগ পেয়েছিল অ্যাটলেটিকো। ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানের ভুল ব্যাকপাসে বল পান আনহেল কোরেয়া। রিয়াল গোলরক্ষক কিকো কাসিয়াকে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হন এই আর্জেন্টাইন। ডাগআউটে দিয়েগো সিমিওনে এবং সমগ্র স্টেডিয়ামজুড়ে অ্যাটলেটিকো সমর্থকদের হতাশাই জানান দিচ্ছিল চমৎকার সেই সুযোগটির মাহাত্ম্য। 'মাদ্রিদ ডার্বি'-তে  দু'দলের মাঝে হাতাহাতি হবে না, তা কি করে হয়! ম্যাচের ১৮ মিনিটে ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে পড়ে থাকা করিম বেনজেমার মাথায় বল মারেন কোরেয়া। এরপরই শুরু হয়ে যায় কথা কাটাকাটি, হাতাহাতি। বিস্ময়করভাবে এরপরও কোরেয়াকে হলুদ কার্ড দেখাননি রেফারি।

     

     

    ম্যাচের ৩২ মিনিটে আসে রিয়ালের প্রথম সুযোগ। রোনালদোর সাথে অসাধারণ দুটি 'ওয়ান-টু' করে অ্যাটলেটিকো ডিবক্সে ঢুকে পড়েন টনি ক্রুস। জার্মান মিডফিল্ডারের শট অল্পের জন্য চলে যায় ওবলাকের গোলের বাইরে। অবশ্য রিপ্লেতে দেখা গেছে, ক্রুসকে ডিবক্সে ফেলে দিয়েছিলেন কোকে। রিয়ালের খেলোয়াড়দের আপিলের পরও পেনাল্টির বাঁশি দেননি রেফারি। এর মিনিট চারেক পরই কাসেমিরোর পাস থেকে হেড করতে লাফিয়ে ওঠা রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোসের মুখে লাথি মারেন লুকাস। সাথে সাথেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রামোস। এবারও নীরব দর্শকের ভূমিকায় দেখা গেছে রেফারিকে। চিকিৎসকদের সাহায্য নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করলেও দ্বিতীয়ার্ধে আর নামতে পারেননি তিনি।

     

     

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও রিয়ালকে পেনাল্টি বঞ্চিত করেন রেফারি। মার্সেলোর ক্রস গডিনের হাতে লাগলে রিয়ালের খেলোয়াড়দের পেনাল্টি আপিলে সাড়া দেননি রেফারি। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে আসে দ্বিতীয়ার্ধে অ্যাটলেটিকোর সেরা সুযোগ। আঁতোয়া গ্রিজমানের বদলি হিসেবে নামা ফার্নান্দো তোরেসের পাস থেকে কাসিয়াকে একা পেয়ে যান কোরেয়ার বদলি কেভিন গামেইরো। রিয়ালের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও দুর্দান্তভাবে গামেইরোর শট লাইন থেকে হেড করে ফিরিয়ে দেন ভারান। শেষদিকে রোনালদোর শট লুকাস ফিরিয়ে দিলে ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় দু'দলকে।

    ২০০৫ সালের পর আজই প্রথমবার গোলশূন্য ড্র হল কোনো 'মাদ্রিদ ডার্বি'। জিনেদিন জিদানের অধীনে এবারই প্রথম কোনো 'অ্যাওয়ে' ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হল রিয়াল।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন