• ফুটবল

কিক-অফের আগে : জিদানের মৌসুম বাঁচানোর শেষ সুযোগ?

পোস্টটি ১৪০৩৬ বার পঠিত হয়েছে

মাস দুয়েকের শীতনিদ্রার পর আজ আবারও মাঠে ফিরছে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ। গ্রুপ-পর্বের নাটকীয়তার পর শেষ ষোল-র লড়াই দিয়ে শুরু হচ্ছে এ মৌসুমের ‘নকআউট পর্ব’। আগামী দুই সপ্তাহে হবে এই আটটি ম্যাচ। আজ নামছে রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজি, জুভেন্টাস, ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল। 



জিদানের মৌসুম বাঁচানোর শেষ সুযোগ?

রিয়াল মাদ্রিদ-পিএসজি, প্রথম লেগ, ১৫ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ সময় ০১.৪৫


গত মৌসুমে সম্ভাব্য ছয় শিরোপার পাঁচটিই জেতা রিয়ালকে যেন এই মৌসুমে চেনাই দায়। দুর্বল সব পারফরম্যান্সে লা লিগা শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশন থেকে এরই মাঝে প্রায় ছিটকে গেছে জিনেদিন জিদানের দল। লেগানেসের বিপক্ষে হেরে বাদ পড়েছে কোপা ডেল রে-র লড়াই থেকেও। চ্যাম্পিয়নস লিগটাই তাই এখন ‘লস ব্লাঙ্কোস’দের শিরোপা জয়ের শেষ সম্ভাবনা।

রিয়ালের উলটো চিত্র পিএসজির। ১২ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে ফ্রেঞ্চ লিগ শিরোপা প্রায় নিশ্চিতই বলা যায় উনাই এমেরির দলের। সঙ্গে ফ্রেঞ্চ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, আর ফ্রেঞ্চ লিগকাপের ফাইনালেও তারা। এই মৌসুমেই চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপপর্বে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও (২৫) নেইমারদের। 

কিন্তু প্রতিযোগিতাটা যখন চ্যাম্পিয়নস লিগ, তখন রিয়ালকে বলা যায় নিজেদের হারিয়ে খোঁজা কোনঠাসা বাঘ! এজন্যই দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও নিজেদের ‘ফেভারিট’ মানতে নারাজ পিএসজি কোচ উনাই এমেরি, 'রিয়াল নিজেদের দিনে যে কারো বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। দুই লেগই আমাদের জন্য অনেক কঠিন হবে।' জিদানের কন্ঠেও এমনই সুর, 'পিএসজি দুর্দান্ত দল। নেইমার, এম্বাপ্পেরা দারুণ করছে এই মৌসুমে। কিন্তু আমরা রিয়াল মাদ্রিদ।' 

 

 

ফর্মে বিচারে পিছিয়ে থাকলেও মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আছে রিয়াল। পিএসজির বিপক্ষে শেষ ৫ ম্যাচের ৩টিতেই জয় ইউরোপের চ্যাম্পিয়নদের, পিএসজির জয় ১টিতে। ২০১৫-১৬ চ্যাম্পিয়নস লিগে একই গ্রুপে পড়েছিল দু’দল। প্যারিসে গোলশূন্য ড্র হলেও বার্নাব্যুতে পিএসজিকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল রিয়াল।

আলভেজ-রোনালদো, রামোস-কাভানি, নাচো-নেইমার, মার্সেলো-এম্বাপ্পে, ভেরাত্তি-ক্রুস, ইউরোপের অন্যতম সেরা এই দু’দলের মধ্যে একক লড়াইগুলোও হওয়ার কথা জমজমাট। ২০১৪ সালে রিয়াল ছাড়ার এবারই প্রথম বার্নাব্যুতে ফিরবেন আনহেল ডি মারিয়া।

তবে মৌসুমের অন্যতম বড় এই ম্যাচে রাইটব্যাক দানি কারভাহালকে পাচ্ছে না রিয়াল। গ্রুপ-পর্বে অ্যাপোয়েল নিকোসিয়ার বিপক্ষে ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্টের কারণে তাকে অতিরিক্ত এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ইউয়েফা। সেক্ষেত্রে নেইমারকে থামাতে নাচোর ওপরই ভরসা রাখতে হবে জিদানকে। গত সপ্তাহে তুলুজের বিপক্ষে ইনজুরির কারণে ম্যাচ মিস করলেও রিয়ালের বিপক্ষে কাভানিকে দলে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী এমেরি।

 

সম্ভাব্য একাদশ

রিয়াল মাদ্রিদ (৪-৩-৩): নাভাস; নাচো, ভারান, রামোস, মার্সেলো; ক্রুস, কাসেমিরো, মদ্রিচ; বেল, বেনজেমা, রোনালদো

পিএসজি (৪-৩-৩): আরিওলা; আলভেজ, মার্কিনহস, সিলভা, কুরযাওয়া; ভেরাত্তি, রাবিয়োত, ডি মারিয়া; এম্বাপ্পে, কাভানি, নেইমার

 

কেইন আর হিগুয়াইনের লড়াই

জুভেন্টাস-টটেনহাম, প্রথম লেগ, ১৪ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ সময় ০১.৪৫

 

বরুশিয়া ডর্টমুন্ড এবং রিয়ালের সাথে একই গ্রুপে, আবারও গ্রুপ-পর্ব থেকে স্পার্সের বিদায়ের পক্ষে বাজি ধরার লোকের সংখ্যাই ছিল বেশি। উলটো তাদেরকেই টপকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের এসেছে মরিসিও পচেত্তিনোর দল। কোয়ার্টারের স্পার্সদের সামনে এখন জুভেন্টাস, গত তিন মৌসুমের দুইটিরই ফাইনালিস্ট। প্রতিযোগীতামূলক ম্যাচে এবারই প্রথম মুখোমুখি দুই দল।

 

 

মৌসুমের বাজে শুরুর পর সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে আছে দু’দলই। মূল কৃতিত্বটা দুই স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন এবং গঞ্জালো হিগুয়াইনের। গত বছর রোনালদো, মেসির চেয়ে বেশি গোল করা কেইন নতুন বছরেও টানছেন নিজের দুর্দান্ত ফর্ম। গত সপ্তাহে তার গোলেই নগর-প্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেলনালকে হারিয়েছে স্পার্স। পিছিয়ে নেই ‘এল পিপিতা’ও। গত সপ্তাহে সাসুওলোর বিপক্ষে করেছেন হ্যাটট্রিক। কোয়ার্টারের যাওয়ার লড়াইয়ে তাই দুই দলেরই সহজ সমীকরণ- কেইন আর হিগুয়াইনের মাঝে যিনি গোল করবেন বেশি, যাবে তার দলই! 

ইনজুরির কারণে জুভেন্টাসের পাওলো দিবালা, হুয়ান কুয়াদ্রাদো, ব্লেজ মাতুইদি এবং আন্দ্রেয়া বার্জাগলির কেউই থাকছেন না আজ। বেলজিয়ান সেন্টারব্যাক টবি অল্ডারওয়েরেল্ড বাদে পচেত্তিনো অবশ্য পাচ্ছেন পূর্ণশক্তির দলই।

 

সম্ভাব্য একাদশ

জুভেন্টাস (৪-৩-৩): বুফন; ডি শিলিও, বেনাশিয়া, কিয়েলিনি, সান্দ্রো; পিয়ানিচ, খেদিরা, মার্কিসিও; বার্নার্দেশি, হিগুয়াইন, মাঞ্জুকিচ

টটেহাম (৪-৫-১): লরিস; অরিয়ের, ভার্টনগেন, সানচেজ, ডেভিস; ডেম্বেলে, দিয়ের, এরিকসেন, আলি, সন; কেইন

 

‘ট্রেবল’ স্বপ্নের পথে গার্দিওলা?

বাসেল-ম্যানচেস্টার সিটি, প্রথম লেগ, ১৪ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ সময় ০১.৪৫

 

প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের শীর্ষে লিডটা ১৬ পয়েন্টের। এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডের সঙ্গে ইএফএল কাপের ফাইনালেও উঠেছে পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি। সব মিলিয়ে রীতিমত স্বপ্নের মতোই এক মৌসুম কাটছে ‘সিটিজেন’দের। সবাই আছেন আছেন দারুণ ফর্মে। বাসেলের সঙ্গে ম্যাচেও তাই পরিষ্কার ফেভারিট তারাই।

 

 

উলটো চিত্র বাসেলের, সিটির বিপক্ষে মৌসুমের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে সুইস লিগ টেবিলের দুই নম্বর বাসেলের। সিটির দুর্দান্ত আক্রমণভাগ সামলানোর মূল দায়িত্বটা ডিফেন্ডার জুটি মারেক সুচি ও সেরে দিয়ের। 

ইনজুরির কারণে ম্যাচ মিস করবেন গ্যাব্রিয়েল হেসুস, ডেভিড সিলভা, বেঞ্জামিন মেন্ডি এবং লিরয় সানে। আর বাসেলের দলে থাকবেন না মিডফিল্ডার লুকা জুফি এবং গোলরক্ষক জার্মানো ভাইলাতি।

 

সম্ভাব্য একাদশ

বাসেল (৪-২-৩-১): ভাচলিক; ল্যাং, সুচি, বালান্তা, পেত্রেতা; শাকা, দি; স্টকার, এলইউনুসি, বুয়া; ভ্যান উলফসউইঙ্কেল।

ম্যান সিটি (৪-৩-৩): এডারসন; ওয়াকার, লাপোর্তে, ওতামেন্ডি, দানিলো; ফার্নান্দিনহো, গুন্ডোগান, ডি ব্রুইন; সিলভা, আগুয়েরো, স্টার্লিং

 

দশ বছরের আক্ষেপ ঘোচাবেন ক্লপ?

পোর্তো-লিভারপুল, প্রথম লেগ, ১৫ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ সময় ০১.৪৫

২০০৯ সালে চেলসির কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৫ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে লিভারপুলের বাদ পড়ার পর কেটে গেছে প্রায় এক দশক। এই সময়টায় আর একবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বেই যেতে পারেনি ‘অল রেড’রা। এবার গ্রুপপর্বে ৬ ম্যাচে ২৩ গোল করা লিভারপুল পোর্তোকে টপকে ইউরোপ সেরার শেষ আটে যাওয়ার গেঁরোটা কাটতে পারবে? 

 

 

পর্তুগিজ লিগের শীর্ষে থাকা পোর্তোর ফর্মটাও অবশ্য দারুণ। কিন্তু ইতিহাস যেন একেবারেই তাদের বিপক্ষে। লিভারপুলের সাথে শেষ চারবারের দেখায় একবারও জয় পায়নি পর্তুগালের চ্যাম্পিয়নরা। লিভারপুলের জয় দু'টিতে। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের শেষ তিন নক-আউট ম্যাচের তিনটিতেও হেরেছে পোর্তো।

ইনজুরির কারণে ম্যাচটি মিস করবেন পোর্তোর দানিলো সিলভা, আন্দ্রে আন্দ্রে, ভিন্সেন্ট আবুবাকার এবং ইভান মার্কানো। লিভারপুলের হয়ে একই কারণে থাকবেন না ক্লাব অধিনায়ক জর্দান হেন্ডারসন।

 

সম্ভাব্য একাদশ

পোর্তো (৪-৪-২): ক্যাসিয়াস; পেরেরা, রেয়েস, তেলেস, ফিলিপে; ওটাভিও, তোরেস, ব্রাহিমি, হেরেরা; পেরেইরা, তিকিনিয়ো

লিভারপুল (৪-৩-৩): কারিয়স; অ্যালেক্সান্ডার-আর্নল্ড, ভ্যান ডাইক, মাতিপ, রবার্টসন; চান, ওয়াইনাল্ডাম, লালানা; সালাহ, ফিরমিনো, মানে


ম্যাচগুলো সরাসরি দেখা যাবে টেন ১ এবং টেন ২ চ্যানেলে