• ক্রিকেট

তামিম-সাকিবের ভিতে দাঁড়িয়ে ফ্লোরিডা জেতালেন বোলাররা

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি, ফ্লোরিডা
বাংলাদেশ ১৭১/৫
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫৯/৯
বাংলাদেশ ১২ রানে জয়ী, সিরিজে ১-১ সমতা


ফ্লোরিডার লডাহিলের মাঠে সাকিব-তামিমরা রাজত্ব করলেন, আর গ্যালারিতে বাংলাদেশ সমর্থকরা! উইন্ডিজ সমর্থকরা গ্যালারিতে খেই হারিয়ে ফেললেন, মাঠে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের দল। সাকিব-তামিমের ব্যাটিংয়ে ১৭১ রানে পৌঁছানো বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১২ রানে হারিয়ে ফিরে এসেছে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। টানা পাঁচ ম্যাচ হারের পর এটি প্রথম জয় বাংলাদেশের, একই ভেন্যুতে তৃতীয় ম্যাচটি তাই হতে যাচ্ছে সিরিজের ‘ফাইনাল’, ওয়ানডে সিরিজের মতোই। 

আগের ম্যাচে হারের পর দায়টা ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপিয়েছিলেন সাকিব। আর আজ টসে হেরে বলেছিলেন, তারাও বোলিং-ই করতে চেয়েছিলেন, এ উইকেটে কোন স্কোর নিরাপদ, সেটাই বুঝতে পারছিলেন না! শেষ পর্যন্ত নিরাপদ দূরত্বেই ছিল বাংলাদেশের স্কোর, যাতে তামিমের সঙ্গে বড় অবদান অধিনায়কের নিজেরও। এবারও শুরুতে খেই হারিয়ে ফেললেও বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে গেছে তামিমের সঙ্গে তার ৪র্থ উইকেটে ৫০ বলে ৯০ রানের জুটিই। তামিম ইকবাল করেছেন ৪৪ বলে ৭৪, সাকিব আল হাসান ৩৮ বলে ৬০ রান। টপ অর্ডারে লিটন দাস, সৌম্য সরকার ও মুশফিকুর রহিম নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি, চতুর্থ উইকেটে তামিম-সাকিবের জুটিই বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে অনেকদূর। 

 

আগের ম্যাচে প্রথম ওভারে জোড়া উইকেটের ধাক্কার মতো না হলেও দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। অ্যাশলি নার্সকে ইনসাইড-আউটে খেলতে গিয়ে সেই অর্থে উড়ান দেয়নি লিটনের শট, মিড-অফে দিয়েছেন ক্যাচ। প্রথমে টানা চার ওভার স্পিনারদের দিয়ে করিয়েছেন ব্র্যাথওয়েট, সৌম্যর আগে এসেছিলেন মুশফিক, নার্সকে দ্বিতীয় উইকেট উপহার দিয়েছেন রিভার্স সুইপের চেষ্টায়।

পাওয়ারপ্লেতে ২ উইকেটে ৩৫ রান তুলেছে বাংলাদেশ। একদিকে তামিম বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে খেললেও অন্যপ্রান্তে ঠিক মেলে ধরতে পারেননি সৌম্য। একটি করে চার-ছয় মেরেছেন ঠিকই, তবে কিমো পলের স্লোয়ারে ব্যাটে সংযোগটা ঘটাতে পারেননি যেভাবে চেয়েছিলেন। ১৮ বলে ১৪ করেই ফিরতে হয়েছে তাকে। তামিমের সঙ্গে সাকিবের জুটি এরপরই, যেখানে ২ ওভার বাদ দিয়ে প্রতিটিতেই এসেছে বাউন্ডারি। ৩৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর গিয়ার আরও একধাপ এগিয়ে নিয়েছেন তামিম, রাসেলের এক ওভারে তিনটি ছয়ের সঙ্গে মেরেছেন একটি চার। বিগ-হিটিংয়ে তামিম ছিলেন অসাধারণ। সে ওভারেই অবশ্য লং-অনে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি, তবে তার আগেই মেরেছেন ছয়টি চারের সঙ্গে চারটি ছয়, গড়ে দিয়েছেন বড় স্কোরের ভিত। অবশ্য তার ৪৭ রানে মিড-অফে লোপ্পা ক্যাচ ছেড়েছিলেন রোভম্যান পাওয়েল, ব্র্যাথওয়েটের বলে। 

সাকিব বেশ কয়েকটি সুযোগ মিস করেছেন, তবে কাজে লাগিয়েছেন তার চেয়েও বেশি। নয়টি চারের সঙ্গে মেরেছেন একটি ছয়, অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে এটি সাকিবের প্রথম ফিফটি। শেষ ওভারে পলের ফুলটসে তুলে মারতে গিয়ে লং-অফে ক্যাচ দিয়েছেন সাকিব, ৩৮ বলে ৬০ রানে। 

 

১৭২ রানের লক্ষ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ‘পাওয়ার ব্যাটিং’কে বেশ ভালভাবেই জ্বলে উঠতে হতো আজ। আন্দ্রে ফ্লেচার, আন্দ্রে রাসেল, মারলন স্যামুয়েলস, রোভম্যান পাওয়েল বা শেষে অ্যাশলি নার্স- চেষ্টা করলেন সবাই। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নিয়ে তাদেরকে লাইন পার হতে দেননি বাংলাদেশ বোলাররা। 

এ ম্যাচেই দলে আসা আবু হায়দারের দারুণ ওভারের পর এভিন লুইসকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেছেন মুস্তাফিজ। তিনে নামা রাসেল আগের দিনের মতোই শুরু করেছিলেন বড় শট, এক ছয়ে তো প্রায় মাঠই পার করে ফেললেন! তবে মুস্তাফিজ স্নায়ু ধরে রাখলেন, তার বাড়তি পেসে রাসেল খোঁচা লাগিয়ে ক্যাচ দিলেন উইকেটের পেছনে দারুণ দিন কাটানো মুশফিকের হাতে। 

সাকিবকে টেনে খেলতে গিয়ে লং-অনে লিটনকে ক্যাচ দিয়েছেন স্যামুয়েলস, রুবেলের বলে এলবিডাব্লিউ রামদিন, বাংলাদেশ যে উইকেট পেয়েছে রিভিউ নিয়ে। ফ্লেচার ও পাওয়েলের জুটি এরপর যোগ করেছে ৫৮ রান, গিয়ার বদলাতে গিয়ে নাজমুলের বলে ক্যাচ দিয়েছেন ফ্লেচার, ৪৩ রান করে। 

ব্র্যাথওয়েটও এসে উড়তে চেয়েছেন, সাকিবের বলে লিটনের দারুণ ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে। ১৮তম ওভারে ৮ রান গুণলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বাউন্ডারি পেতে দেননি রুবেল, আর পরের ওভারে তিন বাউন্ডারিতে ১৬ রান দিলেও পাওয়েলের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটা নিয়েছেন মুস্তাফিজ, লাফিয়ে উঠে দুবারের চেষ্টায় ক্যাচ নিয়েছেন মুশফিক। 

শেষ ওভারে নাজমুলের জন্য ছিল ১৫ রান, জোড়া উইকেট নিয়ে ফ্লোরিডাকে আরেকবার উল্লাসে ভাসিয়েছেন তিনি। ম্যাচশেষে দর্শকদের আলাদা করে ধন্যবাদ জানালেন বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা। দর্শকরাই যে এই ভেন্যুকে বানিয়ে ফেলেছিল ক্রিকেটারদের জন্য 'ঘর-বাড়ি'!