• ক্রিকেট

টি-টোয়েন্টি সিরিজের 'ফাইনাল'ও জিতল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ১৮৪/৫, ২০ ওভার 
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৩৫/৭, ১৭.৫ ওভার 
বাংলাদেশ ডিএলএস পদ্ধতিতে ১৮ রানে জয়ী ও সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী 


 

সেন্ট কিটসের দিকে তাকালে মনে হবে, পুরোই ভিন্ন গল্প! টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচের সঙ্গে পরের দুই ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের পার্থক্য এমনই। ফ্লোরিডায় এসে ‘চেনা’ উইকেট পেয়ে বদলে গেল বাংলাদেশ, ১-০ ব্যবধান থেকে উঠে এসে সিরিজ জিতল ২-১ ব্যবধানে। টেস্ট সিরিজ বাজেভাবে হারার পর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেই সফর শেষ করলো বাংলাদেশ। 

লিটন দাসের ‘হেভি মেটাল’ ব্যাটিংয়ের পর বোলারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে ডিএলএস পদ্ধতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে দারুণ শুরুর ওপর ভর করে বড় স্কোর, এরপর বোলারদের নিয়মিত উইকেট নেওয়া উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের বিগ হিটিং উপেক্ষা করে। আগের দিনের মতোই চিত্র, আগের দিনের মতোই জয়ী দলের নাম বাংলাদেশ। 

টসে জিতে এবার ব্যাটিং নিয়েছিলেন সাকিব। শুরুতে লিটনের ‘কনসার্টের’ সঙ্গী ছিলেন তামিম, ৩.৪ ওভারেই ফিফটি ছুঁয়েছে বাংলাদেশ, তাদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে যা সবচেয়ে দ্রুততম স্কোর। স্যামুয়েল বদ্রি বা অ্যাশলি নার্স- দুই স্পিনারকে টেনে টেনে খেলেছেন দুই ওপেনার। বদ্রির ফুলটসে সুইপ করে চার মেরে কনসার্টটা শুরু করেছিলেন লিটন।

সীমিত ওভারে নিজের প্রথম ফিফটির ইনিংসে বেশ লেগ-সাইড নির্ভর ছিলেন লিটন, নিজের ইচ্ছামত খেলার সুযোগও করে নিয়েছেন সেভাবেই। তিনটি ছয় মেরেছেন, একটি স্কয়ার লেগে, একটি মিড-উইকেটে, একটি কিপারের মাথার ওপর দিয়ে। ছয়টি চারের মধ্যে দুইটি মেরেছেন অফসাইডে, কাভার দিয়ে ড্রাইভ করে। ২৪ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি। আউট হওয়ার আগে ৩২ বলে করেছেন ৬১ রান, বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের কমপক্ষে ৩০ বলের ইনিংসের মধ্যে যা দ্বিতীয় দ্রুততম। 

উইকেটটাই এমন, বোলারের লাইন-লেংথের সঙ্গে প্রয়োজন পেসে বৈচিত্র্যও। তামিম ব্র্যাথওয়েটকে সুইপ করতে গিয়ে ফাইন লেগে উইলিয়ামসের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন, ৫ রানের ব্যবধানে ফিরেছেন সৌম্যও, এবারও বোলার কিমো পল কমিয়ে এনেছেন পেস, ঠিক এই বলেই পিছিয়ে যাওয়া লং-অনের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি, ঠিক আগের ম্যাচের মতো করেই। 

২ উইকেট হারালেও পাওয়ারপ্লে বাংলাদেশকে দিয়েছে বড় স্কোরের ভিত, উঠেছে ৭১ রান। তবে উইকেট ভুগিয়েছে, লিটন সেটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যদিও গিয়ার পরিবর্তন করতে হয়েছিল তাকেও। উইন্ডিজ অধিনায়ক আঘাত করেছেন আবার, তার অ্যাঙ্গেল করে ঢোকা বল মুশফিকের জন্য হয়ে গেছে বেশ কঠিন, ঠেলে খেলতে গিয়ে রামদিনের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি। আবারও ৫ রানের ব্যবধানে আরেকটি উইকেট, এবার উইলিয়ামসের কমিয়ে আনা পেসে এক্সট্রা কাভারে ক্যাচ তুলেছেন লিটন। 

প্রথমবার বৃষ্টি নামার আগে সাকিব-মাহমুদউল্লাহর জুটিতে ৩১ বলে এসেছে ৪৪ রান, গিয়ার পরিবর্তন করতে গিয়ে ২২ বলে ২৪ করে স্কয়ার লেগে স্কুপে ক্যাচ দিয়েছেন সাকিব, আবারও স্লোয়ার, এবার বোলার পল। 

৩০ মিনিটের বৃষ্টি-বিরতির পর পেস একটু বেড়েছে বলে, শেষ ২১ বলে এসেছে ৩৫ রান। ২০ বলে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ, তবে বেশ কিছু ডট বল খেলা আরিফুল ব্যর্থ হয়েছেন তাকে আরও বেশি স্ট্রাইক দিতে। 

এ ম্যাচ জিততে হলে রান-তাড়ায় এ মাঠের রেকর্ড ভাঙতে হতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। তবে পুরোনো রোগ, ডট বল ফিরে এলো আবার। পাওয়ারপ্লেতে তারা তুলতে পেরেছে মাত্র ৩২ রান, সঙ্গে হারিয়েছে ৩ উইকেট। মুস্তাফিজের সেট-আপে অফস্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট ছড়িয়ে খেলতে গিয়ে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছেন আন্দ্রে ফ্লেচার, চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যাওয়া নাজমুলের ওভার পূরণ করতে আসা সৌম্যর স্লোয়ারে লং-অনে ক্যাচ দিয়েছেন চ্যাডউইক ওয়ালটন। বল ধরতে গিয়ে তার স্পাইকেই হাত কেটেছে নাজমুলের, পরে যেতে হয়েছে হাসপাতালেও। সাকিবের পরিবর্তিত পেসের নীচু হওয়া বলে বোল্ড স্যামুয়েলস। 

দীনেশ রামদিন ও রোভম্যান পাওয়েল চেষ্টা করেছিলেন, তবে শেষটা দেখা হয়নি তাদের। দারুণ বোলিং করে যাওয়া রুবেলকে আড়াআড়ি খেলতে গিয়ে টপ অফ অফে বোল্ড রামদিন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নেওয়া যেন অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন মুস্তাফিজ, তাকে অফস্টাম্পের বাইরে থেকে পুল করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছেন রোভম্যান পাওয়েল। 

আগের ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকলেও সিম পজিশন ঠিক রেখে দারুণ বোলিং  করেছিলেন আবু হায়দার, আজ পেলেন উইকেটও। তার স্লোয়ারে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ তুলেছেন ব্র্যাথওয়েট।  

তবে শেষ পর্যন্ত লড়াইটা ছিল রাসেল বনাম বাংলাদেশী বোলার। রুবেল, সাকিব, মুস্তাফিজ, আবু হায়দার- কাউকেই মানছিলেন না এই ‘বিগ হিটার’। ছয়টি ছয় মারলেন, বল পাঠালেন ছাদে। তবে শেষ হাসি বাংলাদেশেরই, মুস্তাফিজের লো ফুলটসে তুলে মারতে গিয়ে লং-অফে আরিফুলের ভাল ক্যাচে ফিরেছেন রাসেল। এর আগের ওভারেই অ্যাশলি নার্সের সিঙ্গেলের ডাকে সাড়া দেননি, একাই দায়িত্ব নিয়েছিলেন কাঁধে, তবে পার করতে পারেননি। 

বৃষ্টি নেমেছে এরপরই। খেলা শুরু হতে পারেনি আর, তার আগেই তো বাংলাদেশের থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছে টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা!