• ক্রিকেট

অভিষেকের দিনটাই রাঙালেন সাকিব

এই তো মাত্র কিছুদিন আগেই টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচই হেরে এসেছিল আফগানিস্তানের কাছে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে তাদের মাটিতেই সিরিজ জয়, এতোটা বোধ হয় সাকিব আল হাসানও ভাবেননি। সেই কীর্তিটাও এমন একটা দিনে এলো, সাকিব বোধ হয় নিজেও তা ভুলে গেছেন। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে চড়ানোর আজ ঠিক এক যুগ পূর্ণ হলো সাকিবের। সেই উপলক্ষটা স্মরণীয় করে রাখলেন সিরিজ সেরা হয়ে, অধিনায়ক হয়ে প্রথম কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে।

  ৬ আগস্ট, ২০০৬ সাল। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছিল সাকিবের। সেই ম্যাচেই অবশ্য এলেন, দেখলেন, জয় করলেন ব্যাপারটা এমন ছিল না। ১০ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছিলেন। পরে চার নম্বরে নেমে বাংলাদেশের অনায়াস জয়ে শাহরিয়ার নাফীসকে সঙ্গ দিয়ে করেছিলেন অপরাজিত ৩০ রান। কাকতালীয়ভাবে ওই ম্যাচে অভিষেক হয়েছিল মুশফিকুর রহিমেরও। তবে সাকিব আভাস দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ লম্বা দৌড়ের একজন ঘোড়া পেতে যাচ্ছেন।

সেই ঘোড়া যে এরপর এভাবে ছুটবে, সেটা অবশ্য তখন হয়তো সাকিব নিজেও ভাবেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে এই সিরিজটা মনে রাখতে চাইবেন নানা কারণে। অধিনায়ক হিসেবে গত বছর দায়িত্ব নিলেও সাফল্যটা আসছিল না। নিদাহাস ট্রফিতে শিরোপাটা পেতে পেতে পাওয়া হয়নি, এর পর আফগানিস্তানের সঙ্গে ধবলধোলাই। সীমিত ওভারে সাকিবের প্রেরণাদায়ী কিনা, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সিরিজ জয়টা জবাব দিয়েছেন অনেক কিছুর। আর সেই সিরিজ জয়ে সামনে থেকেই পথ দেখিয়েছেন সাকিব।

তিন ম্যাচে ১০৩ রান আর ৩ উইকেট দিয়ে সাকিবকে ঠিক বোঝা যাবে না। ব্যাট হাতে তিনটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ রান করেছেন। দ্বিতীয় ম্যাচে তামিমের সঙ্গে তাঁর জুটিতেই এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বল হাতে পেয়েছেন মাত্র তিন উইকেট, কিন্তু টি-টোয়েন্টির দাবি মেনে ছিলেন দারুণ কৃপণ। তিনটি ম্যাচের শুধু একটিতে ওভারপ্রতি ছয়ের বেশি দিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের হাত খুলে বড় শট খেলতেই দেননি। নিজে উইকেট কম পেলেও মোস্তাফিজদের সেই সুযোগ করে দিয়েছেন। আর অধিনায়কত্ব তো আছেই। শেষ দুই ম্যাচেই বোলারদের ব্যবহার করেছেন খুব ভালোমতো, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেক থ্রু দিয়ে গেছেন সবাই। আর সাকিব নিজেও বলেছেন, ব্যাটিংটা ভালো হয়েছে বলেই তাঁর বোলিং ও অধিনায়কত্বও ভালো হয়েছে।

সামনে এই কাজটাই বার বার করতে চাইবেন সাকিব।