• ফুটবল

Grassroot ও বাংলাদেশ ফুটবল

পোস্টটি ৩১৭৯ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

Grassroot শব্দের অর্থ মূলস্তরের উপাদান। ফুটবলের ভাষায় বললে ফুটবলার তৈরীর ভিত্তি। ইউরোপিয়ান দেশগুলোতে গ্রাসরুট হিসেবে বেছে নেয়া হয় ৫-৬ বছরের বাচ্চাদের। কারণ এ বয়সে তাদের মধ্যে যদি ফুটবলের বেসিক জ্ঞান ঢুকিয়ে দেয়া যায়, তবে তা সারাজীবন তাদের ফুটবলের নানা কৌশল রপ্ত করতে টনিকের মত কাজ করবে। এই কারণে তাদের দেশের ফুটবলের পাইপলাইন এত মজবুত। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও বাস্তবতা এই যে, বাংলাদেশের ফুটবলের গ্রাসরুট বলতে বোঝানো হয় ১৪-১৫ বছরের কিশোরদের! সম্প্রতি ভুটান বিপর্যয়ের পর বাফুফে দেশের ফুটবলকে নতুন প্রাণ দিতে ৪ বছরের ফুটবল ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করেছে। সেখানেও ঘুরে ফিরে এই কিশোরদের নিয়েই কাজ করার প্রক্রিয়া নেয়া হয়েছে। কিন্তু এই কিশোরদের দ্বারা দেশের ফুটবলকে কতটুকু এগিয়ে নেয়া সম্ভব? আমাদের পাশের দেশ ভারতে বর্তমানে ফুটবলের জয়জয়কার চলছে। উঠে আসছে প্রতিভাবান ফুটবলার। এগুলো কি তারা একদিনেই সম্ভব করেছে? না। তারা দেশের আনাচে কানাচে থেকে সব ক্ষুদে ফুটবলারদের একত্র করে নিজস্ব একাডেমীর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এছাড়া তাদের আই-লিগের প্রতিটি ক্লাবের গ্রাসরুট দল রয়েছে। তাদের ৪ বছরের দীর্ঘমেয়াদী পরিশ্রমের ফসল অনুর্ধ্ব ১৭ দল এবার ঘরের মাটিতে অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ খেলবে। অথচ কয়েক বছর আগেও ভারত ও বাংলাদেশের ফুটবলে এতটা পার্থক্য ছিল না। এতকিছু করার পরও তারা যেখানে মূল বিশ্বকাপ খেলার কথা চিন্তা করছে না, সেখানে আমাদের বাফুফে সভাপতি ২০২২ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখছেন! তিনি বিভিন্ন বয়সভিত্তিক টুর্নামেণ্টে অধিক বয়সিদের পাঠিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুনাম বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন, যেখানে অন্যান্য দেশগুলো কিছু শেখার জন্য ও অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্য যায়। ফলে দিনশেষে তারা মূলক্ষেত্রে সফল হয়। আর আমরা আমাদের এই বুড়োদের চ্যাম্পিয়ন তকমা নিয়েই পড়ে থাকি। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের র‌্যাংকিং ছিল ১১৬ আর ২০১৬ সালে ১৮৮। এ অবস্থা থেকে মুক্তি চাই, সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কাজ করতে হবে, বাফুফেকে পেশাদারী হতে হবে। আজ ভুটান মালদ্বীপও যা পারে আমরা তা পারি না; এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।আদতে বাংলাদেশ ফুটবল এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত। অন্ধকার কানাগলি পথে হাঁটছে দেশের ফুটবল। এই কানাগলি থেকে বেরোনোর সঠিক কোনো পরিকল্পনা, সঠিক কোনো প্রয়াস, সদ্বিচ্ছা কিছুই নেই আমাদের ফুটবল কর্তাদের মধ্যে। বছরের পর বছর ধরে তারা পদ দখল করে বসে আছেন। কিন্তু কী করে ফুটবলের উন্নতি হবে, কি করে দেশের ফুটবল এগিয়ে যাবে, কিভাবে জেলায় জেলায় ফুটবল গতিশীল হবে, তৃণমূল থেকে কিভাবে ফুটবলার ওঠে আসবে- এসব নিয়ে কোনো ভাবনাই নেই দেশের ফুটবল কর্তাদের।

এখনও সময় আছে সভাপতি সাহেব, আপনার বিবেককে জাগ্রত করুন। গ্রাসরুট নিয়ে কাজ করুন। সাফল্য একদিনে আসে না। আমরা সেই বাংলাদেশ দলকে দেখতে চাই; যারা খেলা দিয়ে সবার মন জয় করবে, বয়স দিয়ে ট্রফি জয় নয়।                                                   save-grassroots-1