X
GO11IPL2020
  • ক্রিকেট

আম্পায়ার কথন

পোস্টটি ৪৩৪৪ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

আম্পায়াররা হলেন ক্রিকেটের দুনিয়ায় এমন একটা শ্রেণি যারা তাদের ভাল পারফরমেন্সের জন্য কখনোই প্রশংসিত হন না। বরং একটা ভূল সিদ্ধান্তের জন্য পুরো একটা দেশের কাছেই তারা ভিলেন হয়ে যান।

একজন আম্পায়ার যে তারকা হতে পারেন তার প্রথম দৃষ্টান্ত ডিকি বার্ড। যদিও তার আম্পায়ারিং করা কোনও ম্যাচ লাইভ দেখিনি। তবে আম্পায়ার জগতের সবচেয়ে বড় তারকা মনে হয় ডেভিড শেফার্ড। বিশাল এক ভূড়ি আর টকটকে লাল চেহারা নিয়ে সাবলীল আম্পায়ারিং দেখলে মনে হতো এই ভদ্রলোক চোখ বন্ধ করেও আম্পায়ারিং করতে পারবেন। তার ট্রেড মার্ক ছিলো ১১১, ২২২ রানের সময় ছোট্ট একটা দৌড় দেয়া সেই বিখ্যাত "নেলসন রান"।
- এই জগতের আরেক তারকা হলেন স্টিভ বাকনর। ডেভিড শেফার্ডের সাথে তার আম্পায়ারিং জুটি ৯০ এর দশক আর এই শতাব্দীর শুরুতে ছিলো বিখ্যাত আম্পায়ারিং জুটি। সম্ভবত সেরা জুটি। দুইজন মিলে টানা ৩টি বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।
বাকনর বিখ্যাত ছিলেন তার মাথা নাড়িয়ে আউট দেয়ার জন্য। কট বিহাইন্ড কিংবা LBW এর আবেদন করে যখন বোলার, ফিল্ডাররা ধরেই নিতো যে এটা আউট না তখনই বাকনর তার স্ব
ভাব সূলভ মাথা নাড়িয়ে আঙ্গুল তুলে দিতেন।
- আম্পায়ার দের মধ্যে সবচেয়ে বিনোদনদায়ী ছিলেন বিলি বাউডেন। আর্থ্রাইটিসের কারণে আঙ্গুল সোজা করে আউটের সিগনাল দেয়া তার জন্য কষ্টকর ছিলো। যে কারণে আঙ্গুল বাঁকা করেই আউট দিতেন। চার, ছয়ের সিগনালের ক্ষেত্রেও তার নিজস্ব স্টাইল ছিলো। পরবর্তীতে অনেক আম্পায়ার নিজেদের স্টাইলে চার, ছয় বা আউটের সিগনাল দিলেও বাউডেনকে কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারেন নি।
- ২০০৪ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত টানা পাঁচ বার ICC র বর্ষসেরা আম্পায়ার হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ার সাইমন টফেল। তার একটা আক্ষেপ ছিলো একটা বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনা করতে না পারা। কারণ তার এলিট প্যানেলে অন্তর্ভুক্তির পর ২০০৩ আর ২০০৭ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিলো অস্ট্রেলিয়া। তার সেই আক্ষেপ ঘুচে ২০১১ সালের বিশ্বকাপের ভারত-শ্রীলংকা ফাইনালে আম্পায়ারিং করে।
- ২০১৫ বিশ্বকাপের বাংলাদেশ-ভারত কোয়ার্টার ফাইনালের পর আলিম দার বাংলাদেশের কাছে এখনো ভিলেন। যদিও ২০০৭ আর ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনা করেছেন তারপরও বাংলাদেশের মানুষ তাকে ওই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের জন্যই সারা জীবন মনে রাখবে।

আন্তর্জাতিক ম্যাচ গুলোতে এমনিতেও আম্পায়ার দের অনেক চাপে থাকতে হয়। তাদের একটা ভূল সিদ্ধান্ত পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আর যদি এশেজ কিংবা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হয় তাহলে তো মনে হয় খেলোয়াড় দের চেয়ে আম্পায়াররা বেশি চাপে থাকেন। তার উপর থাকে মাঠে আসা হাজার হাজার দর্শকের চিৎকার আর টিভির সামনে বসে থাকা কোটি দর্শকের চোখ।
বিশেষ করে LBW আর কট বিহাইন্ডের ক্ষেত্রে ১-২ সেকেন্ডের মধ্যে অনেক বিষয় বিবেচনা করে আউট বা নট আউটের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাদের একটা ভূল একটা ব্যাটসম্যানের অতিমানবীয় একটি ইনিংস শেষ করে দেয়, দারুণ বোলিং করা একজন বোলারের ছন্দ নষ্ট করে দেয়। আর তারা হয়ে যান ভিলেন।
প্রযুক্তির এই যুগে হক আই, হট স্পট, স্নিকোর মতো প্রযুক্তি আম্পায়ারদের ভূলের সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। তারপরও "অন ফিল্ড কল" বা "আম্পায়ারস কল" বলতে একটা ব্যাপার রয়েই যায়। সেটাই তাদের ভিলেন বানাতে যথেষ্ট।

দিন শেষে আম্পায়াররাও মানুষ। ভূল করা তাদের জন্য স্বাভাবিক। আবেগ, অনুভূতি গুলো তারা কখনোই প্রকাশ করতে পারেন না। মিডিয়ার সামনে তাদের কথা বলা বারণ।
একজন ব্যাটসম্যানের মহাকাব্যিক কোনও ইনিংসের প্রশংসা তারা করতে পারেন না, আগুন ঝড়া স্পেল করে ম্যাচ জিতিয়ে দেয়া কোনও বোলারের পিঠ চাপড়ে দিয়ে পারেন না। ব্যাটে বলে সমান তালে লড়াই করেও হেরে যাওয়া কোনও দলের খেলোয়াড়রা যখন হতাশায় মাঠে বসে পড়েন, তখনো আম্পায়াররা তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে পারেন না। আবেগ কে এক পাশে সরিয়ে রেখেই তাদের মাঠ ছাড়তে হয়।

হোক সেটা ঘরোয়া কোন ম্যাচ কিংবা বিশ্বকাপ ফাইনাল, ভূল সিদ্ধান্ত দেয়া কোনও একটা ম্যাচ শেষে নির্ঘুম রাত কাটানো কিংবা সফল ভাবে একটা ম্যাচ শেষ করে তৃপ্তির ঘুম দেয়াই আম্পায়ার দের নিয়তি।