X
GO11IPL2020
  • ফুটবল

জাবি আলান্সো : অ্যান ইম্পেরিসেবল ল্যাম্প

পোস্টটি ৩৮০৬ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

 

সাম্রাজ্যে নতুন রাজা এসেছে । এমন রাজা যা এই সাম্রাজ্য এর আগে কখনও দেখে নি , এমন রাজা যাকে দেখে প্রতিপক্ষ পর্যন্ত বলছে আমরা কেন ওদের মত শাসন করতে পারি না ।

এদিকে রাজভবন থেকে কিছুটা দূরে লোকচক্ষুর অগোচরে নিজস্ব নিয়মে বেড়ে উঠছে এক সৈনিক । যদিও রাজপরিবারের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই কিন্তু সে জানে একদিন তাকেও এই সাম্রাজ্যের জন্য যুদ্ধ করতে হবে ।

কে এই সৈনিক ? আর কোন এই রাজত্বে ? এটাই তো প্রশ্ন

আচ্ছা আসুন কিছুক্ষণ স্মৃতিচারণ করে আসি । হ্যাঁ এই সৈনিকই হল জাবি আলান্সো, টিকিটাকার সেই স্প্যানিশ রাজত্বে ছিল যার বাস । সবাই যখন লা মাসিয়ার এক এক বিস্ময়কর বালকদের নিয়ে ব্যাস্ত ঠিক তখনি সেখান থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে সান সেবাস্তিয়ানের কোন এক একাডেমিতে বড় হচ্ছিল এক ভবিষ্যৎ মায়েস্ত্রো ।

 

          childhood

 

বলা হয়ে থাকে ফুটবলটা অনেকের রক্তের সাথেই মিশে থাকে । জাবি আলান্সোর ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ছিল । বাবা পেরিকো আলান্সো ও ছিলেন ফুটবলার । রিয়াল সোসিয়াদাদ এখন পর্যন্ত যে দুটি লা লিগা জিতেছে সে দুটি ট্রপিই পেরিকো আলান্সোর সময়ের । পরবর্তীতে বার্সেলোনার হয়ে ও একটি লা লিগা জিতেন পেরিকো । জাবি আলান্সো নিজেও তার জীবনের প্রথম ছয় বছর বার্সেলোনা তে কাটিয়েছেন । বাবার হাত ধরেই ফুটবলের সাথে পরিচয় জাবি আলান্সোর ।

সাবাডেলে থাকতে প্রায়ই বাবার সাথে ট্রেনিং গ্রাউন্ডে যাওয়া হত আলান্সো আর তার বড় ভাই মিকেলের । সেখানকার ট্রেনিং এ প্রায়ই গোল দেয়ার উপর গুরুত্ব দেয়া হত । কিন্তু তারা প্রায়ই অপর পাশে পাসের পর পাস খেলতেন । আলান্সো পরবর্তীতে বলেন সেই সময়কার দিনগুলি পরবর্তীতে তাকে মিডফিল্ডার হতে সাহায্য করছে ।

ভাই মিকেলের সাথে প্রায় উইকেন্ডে সেল বিচের ধারে খেলা হত আলান্সোর । তাদের দুই জনের  স্কুল ছিল ভিন্ন তাই উইকেন্ড ছাড়া  একসাথে খেলা হত না তাদের

জাবি আলান্সোর স্কুল একমাস ব্যাপী একটি ফরেইন ল্যাঙ্গুয়েজ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের আয়োজন করে । সে প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে জাবি আলান্সো কে আয়ারল্যান্ডে পাঠিয়ে দেয়া হয় ইংরেজি শেখার জন্য । সেখানে আলান্সো কেলসের লোকাল টিমের সাথে জড়িয়ে পড়ে । আলান্সো পরবর্তীতে বলেন সেখানের হয়ে খেলার সময়ই তিনি প্রথম ব্রিটিশ দের শারীরিক ফুটবলের ঝোঁক বুঝতে পারেন যা পরবর্তীতে প্রিমিয়ার লিগে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে । আলান্সো কেলসের হয়ে অল আয়ারল্যান্ড জুনিয়র ক্লাব টাইটেল  জিতে নেয় ।

পরবর্তীতে আলান্সো ফিরে এলে দেখে যে  মিকেলের অলরেডি বার্সেলোনা বি টিমে যোগদানের প্রস্তুতি চলছে। তাদের নয় বছরের একসাথে খেলার সেখানেই ইতি ঘটল ।

    xabi in sociaded

 

পরবর্তীতে জাবি আলান্সোর জন্য ও প্রস্তাব আসে রিয়াল সোসিয়াদাদ থেকে , সেই ক্লাব যাদের হয়ে খেলার স্বপ্ন তার শৈশব থেকে ছিল । সোসিয়াদাদের ইয়ুথ লেভেলের প্রায় প্রতিটা টিমেই খেলা হয় আলান্সোর । মাত্র ১৮ বছর বয়সেই সোসিয়াদাদের হয়ে প্রফেশনাল ক্যারিয়ারের শুরু হয় আলান্সোর ।  

১৯৯৯-০০ তে CD Logroñés এর বিপক্ষে কোপা ডেল রে ম্যাচে ডেবু হয় আলান্সোর যদিও কোচ হাভিয়ের ক্লিমেন্তে সে সিজনে আর কোন ম্যাচে মাঠে নামান নি আলান্সোকে । পরবর্তী সিজনে কোচ হাভিয়ের ক্লিমেন্তে তাকে আরও ডেভেলপের জন্য এসডি এইবারে পাঠিয়ে দেয় । লস আরমেরসদের হয়ে সে সিজনে ১৪ ম্যাচে মাঠে নামেন আলান্সো । আলান্সো ধীরে ধীরে সেই ক্লাবের সাথে মানিয়ে নিতে থাকেন । কিন্তু সে সিজনে লা লিগার একদম তলানিতে চলে যায় সোসিয়াদাদ । নতুন কোচ হিসেবে যোগদান করে জন তোসেক । সেই ওয়েলস ম্যান এসেই ব্যাক করান লোনে থাকা জাবি আলান্সোকে। শুধু এনেই তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না । ক্যাপ্টেন্সির দায়িত্ব তুলে দিলেন আলান্সোর হাতে । কতটুকু বিশ্বাস থাকলে ১৯ বছর বয়সী লোণে ফেরত এক বালকের কাছে সোসিয়াদাদের ক্যাপ্টেন্সির দায়িত্ব তুলে দেয়া যায় । পরবর্তীতে জন তোসেক বলে

“I don’t remember a former youth team player causing such an impact at the club. Everyone seemed to play better when he was on the pitch.”

যদিও আলান্সোর প্রথম সিজনে খুব বেশি ভাল করতে পারে নি দল কিন্তু আলান্সো ঠিকই কোচের নজর কেড়ে নিয়েছেন । পরবর্তী সিজনে আলান্সোর  বল কন্ট্রোল , টাচ , পাস একুরেসি এগুলো আরও নিখুঁত জন্য আলাদা প্রাকটিস সেশনের ব্যাবস্থা করেন তোসেক । সেই সিজনে ৩০ বার সোসিয়াদাদের হয়ে মাঠে নামে আলান্সো । সোসিয়াদাদের হয়ে প্রথম গোল ও করেন সেই সিজনে।

২০০২ -০৩ সিজন

এই সিজনকে এখনও সোসিয়াদাদের ইতিহাসের ওয়ান অফ দা বেস্ট সিজন বলা হয়ে থাকে । ক্লাবের ইতিহাসের রেকর্ড সংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে লিগ শেষ করে তারা এবং প্রথম বারের মত উইফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ালিফাই করে ।  স্প্যানিশ পত্রিকা ডন ব্যালন সে বছর বেস্ট “ স্প্যানিশ প্লেয়ার এওয়ার্ড ” দেয় আলান্সোকে । স্পেন ন্যাশনাল টিমের হয়ে অভিষেক ও হয় সে বছরই ইকুয়েডরের বিপক্ষে ।

পরবর্তী সিজন কিন্তু আর সেই স্বপ্নের পুনরাবৃত্তি হয় নি । ১৫ তম স্থানে থেকে লা লিগা শেষ করে সোসিয়াদাদ । নক আউট ষ্টেজে লিয়নের সাথে হেরে বাদ পড়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ।

পরবর্তী সিজনে শুরু থেকেই ম্যানেজমেন্ট চাচ্ছিল তাকে বড় কোন ক্লাবের কাছে বিক্রি করে দিতে । সেক্ষেত্রে প্রথম অফার আসে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে । তারা আলান্সোর জন্য ৭ মিলিয়ন ইউরো দিতে চাচ্ছিল কিন্ত সোসিয়াদাদ চাচ্ছিল ১০ মিলিয়ন ইউরো । পরবর্তীতে সেই ডিলটি আর হয়ে উঠে নি । এইদিকে লিভারপুল কোচ রাফা বেনিতেজ এসেই আলান্সোকে তার দলে নিতে চাচ্ছিল । পরবর্তীতে ১০.৬ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে অ্যানফিল্ডে পাড়ি জমান আলান্সো ।  

alonso and liverpool

অ্যানফিল্ডের সেই পরিচিত মুখগুলি । প্রতিপক্ষ হওয়া সত্ত্বেও কত রাত যে সেই লিভারপুলের খেলা দেখে কাটিয়েছি নিজের ও মনে নেই । ভালবাসাগুলি বোধহয় এমন ই হয়  না মানে প্রতিপক্ষ না মানে সময়

প্রিমিয়ার লিগে ডেবু হয় বোল্টনের বিপক্ষে । সেই সিজনেই লিভারপুলের হয়ে প্রথম গোল করে আলান্সো । নিজেকে আলাদা ভাবে চেনাতে শুরু করে আলান্সো । ফুলহামের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের একটি ম্যাচে সেকেন্ড হাফে মাঠে নামে আলান্সো । দল তখন ২-০ গোলে পিছিয়ে । সেই ম্যাচটি তে তার অসাধারণ পারফরমেন্সের জন্য ৪-২ গোলে ম্যাচটি শেষ করে লিভারপুল। নিজেও একটি গোল করেন ফ্রি কিক থেকে । সে সিজনেই ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের করা একটি ট্যাকলে ইঞ্জুরি তে পড়ে অ্যালান্সো যা তাকে তিন মাস মাঠের বাহিরে পাঠিয়ে দেয় ।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ম্যাচ । আলান্সো তখনও ফুল ফিট হয় নি । কিন্তু বেনিতেজের কিছু করার ছিল না । তাকে নামাতেই হতো । সেই ম্যাচে আনফিট আলান্সোর পারফর্মেন্স এতটাই ভাল ছিল যে পরদিন দি গার্ডিয়ানের রিপোর্ট ছিল এমন

This marvellously accomplished footballer testified in the that Stadio Delle Alpi, technique can overcome a serious physical disadvantage

২৫ মে , ২০০৫

ইস্তাম্বুলের সেই ঐতিহাসিক ফাইনাল সম্পর্কে কে না জানি আমরা । সেদিন স্টিভেন জেরার্ডের অতিমানবীয় পারফর্মের জন্য হয়ত বাকিরা ছায়ায় পড়ে যায় কিন্তু এই মানুষটি ও যে সেদিন নিজেকে আলাদা করে চেনান । পেনাল্টি থেকে রিবাউন্ড থেকে করেন একটি গোল যেটি ম্যাচের মোড় অনেক খানি ঘুরিয়ে দেয় ।

estambul final

পরবর্তী সিজনেও লিভারপুলের তরি ভালভাবে বইছে । সেই সিজনে নিউক্যাসলের বিপক্ষে করেন এক ঐতিহাসিক গোল । গোল কিপার একটু সামনে দাঁড়িয়ে ছিল । মাঝ মাঠের একটু ভিতরে জাবি আলান্সোর পায়ে বল । কেউই মনে করে নি সেখান থেকে গোলবারের উদ্দেশে বল ছুড়ে দিবেন । কিন্তু তাই করলেন এবং বল ও হিট করল জালে । প্রায় ৭০ ইয়ার্ড দূর থেকে করা সেই গোলটিকে এখনও প্রিমিয়ার লিগের ওয়ান অফ দা বেস্ট গোল হিসেবে কাউন্ট করা হয় । সেই গোলটিকে বর্ননা করতে গিয়ে পরবর্তীতে আলান্সো বলেন “ অবশ্যই এটা ভাগ্য ভাল ছিল বলে সম্ভব হয়েছে কিন্তু আমি প্রায়ই ট্রেনিং এ দুরপাল্লার শট নিতাম “

ওই যে একটা কথা আছে না নাথিং কামস উইথাউট হার্ডওয়ার্ক

পরবর্তী সিজনে প্রায়ই ইঞ্জুরিতে পড়ে আলান্সো । সেই সিজনেই মিডেলসব্রোর বিপক্ষে  লিভারপুলের হয়ে ১০০ তম ম্যাচ খেলতে নামেন আলান্সো ।

সামার সিজন নিকটবর্তি । রাফা বেনিতেজ গ্যারেথ বেরির দিকে ঝুকছেন । এটা জানার পরের থেকে প্রায়ই আনফিল্ডে শোনা যেত “নেভার লিভ আস, আলান্সো” । প্রথমে গারদিওলা তাকে কেনার জন্য আগ্রহ দেখায়। তখনও গারদিওলা বার্সায় সারজিও বুস্কেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সঙ্কায় ছিলেন । কিন্তু পরবর্তীতে তিনি সারজিওর  উপর আস্থা রাখেন । । যার ফলে নেগসিয়েসন সেখানেই থেমে যায় । ঠিক তখনই এগিয়ে আসে রিয়াল মাদ্রিদ । ৩০ মিলিয়নের ইউরোর সেই ডিলে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেয় আলান্সো । রিয়ালে যোগ দিলেও লিভারপুল সবসময়ই আলান্সোর মনে একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল । তাই তো লিভারপুলকে নিয়ে বলেন

"The personality of Liverpool people is very particular. They like you to be one of them. If you are in the bar, they offer to get you a pint. They want you to feel welcome. I felt that from the very beginning. I realised in that first year at Liverpool what a special club it is, with all the history and the tradition of Liverpool . From the first day you realise how big it is. Liverpool is still a big part of my life and always will be,"

এইতো সেদিনই তো জেরার্ড ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করল

"Xavi you are pure quality. A class act on the pitch and a gentlemen off it. It was a pleasure to play alongside you and I missed you every day from the moment you left the reds."

কিংবা মনে করুন না ক্যারেগারের সেই কথাটা যখন তাকে জিজ্জেসা করা হয় আলান্সো সম্পর্কে  

‘’The first one that springs to mind is Xabi Alonso. I was devastated when he left for Real Madrid."

xabi_alonso_22985

লিভারপুলে যেখানে শেষ করলেন , রিয়ালে ঠিক সেখান থেকেই শুরু করলেন আরেক চিরস্মরণীয় ক্যারিয়ারের  । রিয়ালে এসেই প্রথমে তার হাতে ২২ নম্বর জার্সি তুলে দেওয়া হয় । প্রথম থেকেই পেলেগ্রিনির ফর্মেসনের একটি গুরুত্তপুর্ন রোল প্লে করেন জাবি আলান্সো । সেই সিজনে রিয়ালের হয়ে প্রায় প্রতিটা ম্যাচেই শুরু থেকে স্টার্ট করে জাবি আলান্সো । প্রথম সিজনেই  রিয়ালের হয়ে তিন গোল করে জাবি আলান্সো । সেই সিজনে রিয়ালের হয়ে সবচেয়ে কন্সিসটেন্ট প্লেয়ার ছিল জাবি আলান্সো

ওই সিজনে আলান্সোর পারফরমেন্সে মুগ্ধ হয়ে স্প্যানিশ সাংবাদিকরা তার নাম দেন La Barba Roja যার অর্থ The Red Beard

পরবর্তী সিজনে কোচ হয়ে আসে মরিনহ । গুতি চলে গেলে তার হাতে তুলে দেয়া হয় ক্লাবের ১৪ নাম্বার জার্সি । সেই সিজনেও আলান্সো মাঠে যথেষ্ট আলো ছড়িয়ে বেড়িয়েছেন । রিয়াল ও তাদের হারানো লা লিগা পুনরুদ্ধার করে । সেই সিজনে ইতেহাদে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে তার পারফর্মেন্স দেখে কোচ রবার্ত মানচিনি এতটাই মুগ্ধ হন যে ম্যাচ শেষে বলেন

Barcelona players are passing the ball atleast 25 times to reach the goal while Real Madrid’s Xabi Alonso is doing this all in a single pass

পরবর্তী সিজনের শুরুতেই রিয়ালের সাথে আরও এক বছর কনাক্ট এক্সটেন্ড করে আলান্সো । জাবি আলান্সো আর মদ্রিচ মিলে সেই সিজনে গড়ে তুলেন এক অদম্য মিডফিল্ড ডুয়ো । রিয়াল ও একে একে এগিয়ে যেতে থাকে লক্ষ্যমাত্রার দিকে

উইফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল  ম্যাচ  মুখোমুখি বায়ার্ন আর রিয়াল মাদ্রিদ । আগের লেগে বার্নাবু তে ১-০ গোলে লিড নিয়ে এগিয়ে আছে রিয়াল মাদ্রিদ । আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা তে খেলা চলছে দ্বিতীয় লেগের । ম্যাচের তখন প্রথম হাফ চলছে । বাস্তিয়ান শোয়েনেসটাইগারকে ট্যাকল করে বসে আলান্সো । নিশ্চিত হয়ে যায় যদি রিয়াল মাদ্রিদ সেই ম্যাচ জিতেও তাহলেও ফাইনাল খেলতে পারবে না জাবি আলান্সো

লিসবন ফাইনাল

ম্যাচের তখন ৯২ মিনিট । ১-০ গোলে এগিয়ে আছে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ । ডাগ আউটের তার ছলছল চোখকে বারবার টিভি স্ক্রিনে দেখাচ্ছে । কিছুক্ষণ পর দুই হাত দিয়ে ঢেকে রাখলেন চোখ দুটো । পুরো স্টেডিয়ামের মত নিস্তব্ধ তিনিও ।  কর্নার নিতে এগিয়ে যাচ্ছে আরেক ম্যাজিশিয়ান সতীর্থ মদ্রিচ । উড়ে আসা বলে হেড করল রামোস । পুরো স্টেডিয়ামের গর্জনে চোখ জোড়া খুলল আবার । বেরিয়ে এল এক দীর্ঘশ্বাস । জড়িয়ে ধরলেন পাশে থাকা নাচোকে । আমার চোখ ইগ্নোর করে কি করে সে দৃশ্য ।

লা দেসিমা জয়ের পর আলান্সো বলে

“I was dying to win the Champions League. If you play for Real and you haven’t won it, it seems that you haven’t made history.

xavi with la decima

কিন্তু লা দেসিমা জয়ের পর আর বড় করেন নি রিয়াল ক্যারিয়ার । চলে আসেন বায়ার্ন মিউনিখে। বায়ার্নের হয়ে তার প্রথম ম্যাচ ছিল শালকে ০৪ এর বিপক্ষে । সে সিজনে এফসি কলিনের বিপক্ষে ম্যাচ । ম্যাচে জাবি আলান্সো ১৯৬ টি পাস সম্পন্ন করেন যা ছিল বুন্দেসলিগায় কোন সিঙ্গেল ম্যাচে রেকর্ড সংখ্যক পাস ।

পরবর্তী সিজনেও বায়ার্নের হয়ে আসাধারান খেলতে থাকে আলান্সো । সেই সিজনেই বায়ার্নের হয়ে খেলতে নামেন ক্যারিয়ারের ১০০ তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচ ।

৯ মার্চ ২০১৭

বয়স বাড়ছে আর ক্যারিয়ারের সন্ধ্যালগ্নও ঘনিয়ে আসছে । টুইটারের মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন এই সিজনই হতে যাচ্ছে ক্যারিয়ারের শেষ সিজন

“Lived it. Loved it. Farewell beautiful game . I’ve experienced so much as a player with Real Sociedad, Liverpool, Real Madrid and Bayern Munich. They are all great clubs. And of course, with the Spanish national team. I never would’ve thought I’d have such a great career, and I hope there’s more to come before it ends ”

farewell

 

আমি প্রায়ই বলি জাবি আলান্সো , আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা , ফ্রান্সিস্কো টট্টি , ফিলিম লাম এরা হল ফুটবলের এক একটা নক্ষত্র । দূর

থেকে এদের আলো ছাড়া বাঁচবে কি করে ফুটবল নামক গোলাকার বস্তুটি

( তথ্য ক্রেডিট : বিবিসি ফুটবল ম্যাগাজিন , লিভারপুল ফুটবল ক্লাব অফিসিয়াল ওয়েভসাইট , দি গার্ডিয়ান ,  দিস ফুটবল ম্যাগাজিন , উইকিপিডিয়া )