• ফুটবল

যা আমাদের আবার ভাবতে শিখায়

পোস্টটি ৭৫৭২ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

 

২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

কাতালান ভিত্তিক পত্রিকা “ Sport “ তার কাভার ফটোতে রোনালদোর হাঁটু গেঁড়ে বসে থাকা এক ছবি দিয়ে শিরোনাম দিয়েছিল

The End

 

the end headline

 

 

কি হয়েছিল সেদিন  ?

এর জন্য কিছুটা পিছনে ফিরে যাই । রোমার বিপক্ষে ইউসিএল ম্যাচ । এমনিতেই ইতালির মাঠগুলতে রিয়াল মাদ্রিদের রেকর্ড ভাল না তার উপর  লা লিগায় টানা পাঁচ এওয়ে ম্যাচে গোল নেই রোনালদোর । এই এওয়ে গোল নিয়ে রোমার বিপক্ষে ইউসিএল ম্যাচের সংবাদ সম্মেলনে পর্যন্ত খোঁচার সম্মুখীন হতে হয় রোনালদোকে । জবাবটা ও তাই অনেকটা খোঁচার সুরেই দিলেন সেদিন

“Who else has scored more goals away from home than me since I arrived in Spain? Name one player who has scored more than me?” A tense pause followed before he continued, “No answer? OK. Thank you everyone.”

শুধু বলাতেই কি কাজ শেষ  হয় রোনালদোর। ডি - বক্সের বাহির থেকে  করলেন এক চোখ জুড়ানো গোল।  রোমবাসি সেদিন আবার দেখতে পেল ক্ষুধার্ত রোনালদো কতটা  ভয়ংকর  হতে পারে

ইউসিএলে গোল ক্ষরা কাটালে কি হবে লিগে যে তখনও গোল ক্ষরা চলছেই। তো সপ্তাহ ঘুরেই আসল লিগের ম্যাচ ,মালাগার বিপক্ষে । শুরু থেকেই নিজেদের মাঠে প্রেস করে খেলছিল মালাগা। তাই রিয়ালকে প্রথম দিকে কিছুটা ডিফেন্সিভ ট্যাঁকটিস বেছে নিতে হল ।  ম্যাচের তখন ৩৩ মিনিট । রাইট থেকে ইন্সুইঙ্গিং ফ্রি কিক নিল ক্রুস । উচুতে লাফিয়ে উঠে হেড করল রোনালদো । গোল 

এক মিনিট পরেই  মারসেলোর সাথে ওয়ান টু খেলে ডি-বক্সের ভিতরে ঢুকল রোনালদো । ওয়ালিংটন তখনই ডি –বক্সের ভিতর ফাউল করে বসল রোনালদোকে । রেফারির চোখ এড়ায় নি । সাথে সাথেই পেনাল্টি দিলেন রেফারি ।

মনে হচ্ছিল তখনই বোধহয় খেলা শেষ । ভাবার কারণটাও অমূলক কিছু নয় । রোনালদোর পেনাল্টি রেকর্ড তো তা ই বলে ।

কিন্তু ভাগ্য বিধাতা সেদিন আর পক্ষে ছিল না । জায়ান্ট কিলার খ্যাত কামিনি সেদিন সেভ করে দিল সেই পেনাল্টি । এরপর বাকি সময় কেবল আক্রমণই করে গেল রিয়াল । গোল আর পেল না । ম্যাচ ও ১-১ ড্র

 মূলত সেদিন এই পেনাল্টি মিসের কারনেই পরদিন সেই স্পোর্ট পত্রিকা বড় করা ছাপে “ The End “ । পরবর্তীতে সেই দা ইন্ডের ফলশ্রুতিতেই রোনালদো সে বছর ইউসিএল , ব্যালন ডি অর , পর্তুগালের হয়ে ইউরো জিতে নিল ।  

না এটাই সেই প্রথম The End না । মাদেইরাতে তে যখন ছোট এক শিশু দারিদ্রের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে তখনও অনেকে বলেছিল দা ইন্ড । ১৫ বছর বয়সে যখন হার্ট ডিজেসে পড়ে  জীবনটাই বিপন্নের পথে তখনও অনেকে বলেছিল এবার হয়ত জীবনটাকেই The End বলতে হবে ।  

পর্তুগাল ছেড়ে যখন অচেনা এক শহর ম্যানচেস্টারের উদ্দেশে যাত্রা করে তখনও অনেকে চিন্তা করেছিল পারবে কি এই ছেলে কিংবা  ম্যানচেস্টারের সেই বেড়ে উঠার  সময়গুলো । একের পর এক ট্যাঁকেলের শিকার হওয়া এই রোনালদোকে দেখে অনেকেই  বলেছিল রাফ অ্যান্ড টাফনেসের এই ইংলিশ ফুটবলে ঠিকে থাকতে পারবে কি এই ছেলে

২০০৯ তে যখন চ্যালেঞ্জ নেয়ার অপেক্ষায় যখন চলে এলেন রিয়াল মাদ্রিদে তখনও অনেকেই শেষ শেষ রব তুলে  বলেছিল এই তো গেল ক্যারিয়ার ।

সেই অনেক কেবল অনেকই রয়ে গেছে আর মাঝে রোনালদো হয়ে উঠলেন আরও অদম্য, আরও অপ্রতিরোদ্ধ । রোনালদো হয়ে উঠলেন সেই রোনালদো যাকে দেখে সেই অনেকেও এখন প্রতিকুলতার মাঝে বেঁচে থাকার রসদ খুঁজে পায় ।

অনেকটা দা লাস্ট সামুরাই এর নাথান এলগ্রিন আর হিরুকি সানাডার সেই দৃশ্য গুলির মত ।  আপনি আঘাত করবেন সে  ঘুরে দাঁড়াবে , শিখবে আবার আপনাকে মুগ্ধ করে চলে যাবে ।

কেন ?

এটাই যে তার ধর্ম