• ক্রিকেট

বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং একটি শোণিত উপাখ্যান

পোস্টটি ৪৯৯২ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

ছেলেটা হতম্ভব হয়ে আছে। যেন ভিতরের হৃদয়টা দুমড়ে মুছড়ে গেছে। নিজের অজান্তেই কয়েক ফোটা অশ্রুকণা তার নয়ন দুটি থেকে গড়িয়ে পড়লো। হঠাৎ বুঝতে পারলো কি হচ্ছে তার মধ্যে। লোক লজ্জার ভয়ে নিজের চোখের অশ্রুধারা মুছতে লাগলো। কিন্তু কি যেন তার চক্ষু এড়ায়নি। কি যেন দেখে আবারো কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। তাকে এখন নিষ্পাপ শিশুর মতো লাগছে। পৃথিবীর যতো আহত গল্প আছে তা যেন সে নিজের নিগড় থেকে বের করে দিচ্ছে। 

হঠাৎ সে অনুভব করল তার পাশে বসা বৃদ্ধ লোকটিও কাঁদছে। বৃদ্ধ লোকটির দেহ রোদে পোড়া, বুঝাই যাচ্ছে পৃথিবীর নির্মমতা দেখেছেন অনেক আগেই। নির্মমতা দেখে তার হৃদয়টা ইস্পাত কঠিন হয়ে আছে। 

কিন্তু তিনিও যে কাঁদছেন! ছেলেটি আবারো লক্ষ করলো শুধু সে কিংবা ওই বৃদ্ধলোক অশ্রুর মিছিলে একা না। তাদের কান্নার মিছিলে যোগ দিয়েছে গ্যালারি ভর্তি মানুষ। সেই মিছিলে রয়েছে  শিশু, কিশোর-কিশোরী, পুরুষ, মহিলা, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সহ সব শ্রেণীর মানুষ। হয়তো আজ সবাই ধর্ম-মত নির্বিশেষে এই কান্নার মিছিলে যোগ দিয়েছে। কাকতালীয় ভাবে এদের সবার দৃষ্টি মাঠের কেন্দ্রবিন্দুতে কয়েকজন খেলোয়ারদের দিকে পড়ে আছে। ফ্যাকাসে চেহারা, রক্ত রঙিন অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়ে তারা সবাই চেয়ে আছে তাদের দিকে। মাঝ মাঠের খেলোয়াড়রাও কাঁদছে!  শোকের মাতম বইছে তাদের মধ্যে। তাদের অন্তরে অদৃশ্য কোনো এক দাবানল দাউ দাউ করে জ্বলছে। খেলোয়াড়রা আর কেউ নয় আমাদের সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাশরাফি। 

এতক্ষণ কথা বলছিলাম ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালের কথা! আজও সেই দিনের কথা মনে পড়লে বুকের বাম পাশে চিনচিন ব্যাথা অনুভূত হয়। ইদ্রিস মিয়া নামক অশিক্ষিত খেটে খাওয়া রিকসা চালক থেকে শুরু করে তৈয়িবুর রহমান চৌধুরী নামক দেশের অন্যতম শিল্পপতিও কেঁদেছিলেন সেই দিন। 'মা তুমি কিচ্ছু বুঝো না' বলা ছেলেটিও দেখেছিলো তার সাথে তার মাকেও না বুঝে কাঁদতে। সেই দিনের দুই রানের আক্ষেপ আজও তাড়িয়ে বেড়ায় এদেশের প্রতিটি লোককে। স্বপ্নের এতো দ্বারপ্রান্তে এসেও স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেলো। ভারত আর শ্রীলংকার মতো দলকে হারিয়ে ফাইনালে উঠা বাংলাদেশ যেন অবিস্মৃত প্রেরণায় উজ্জীবিত। তাসের ঘর হয়ে বেচেঁ থাকা বাংলাদেশ যখন পাথরের দূর্গ রুপে ভারত আর শ্রীলঙ্কাকে হারালো, তখন শিরোপাটা হয়তো তাদেরই প্রাপ্য ছিলো।

বাংলাদেশ ক্রিকেট একটি নাম কিংবা ক্রিকেট দলই নয়, এটি একটি ভালোবাসা। যেই ভালোবাসার কাছে পরাজিত আমরা সবাই। এই ভালোবাসার অসীমতা বুঝেছিলো এই একটি ম্যাচের মাধ্যমে। এদেশের প্রতিটি মানুষ নিজেদের স্বর্গে স্থান দেয় এই একটি দলকে।

এরপর আরো অনেক পথ পাড়ি দিয়েছি আমরা। হারিয়েছি অনেক বড় বড় দলকে। নিউজিল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা, ভারত, পাকিস্তান কিংবা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠা। এসব কিছুর উৎপত্তি ছিলো এই ২০১২ সালের এশিয়া কাপ । সেই ক্ষীপ্রতা আজও সাথে নিয়ে সফল ভাবে অনেক পথ পাড়ি দিচ্ছি আমরা। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে অনেক অনেক শিরোপাও জিতবো । কিন্তু স্বপ্নিল বর্তমান কিংবা দ্বীপ্ত রোদসী ভবিষ্যতের জন্ম হয়েছিলো সেই ম্যাচে। দৃঢ় বিশ্বাস আরো অনেক এগিয়ে যাবে এই ক্রিকেট দল। তবুও শিরোপার এতো কাছে এসেও শিরোপা স্পর্শ করতে না পারার বেদনা প্রতিটি মানুষের মাঝে আজও বেচেঁ আছে শোণিত উপাখ্যান হয়ে।

এক রাশিয়ান ঈগলের গল্প
    অন্যান্য
এক রাশিয়ান ঈগলের গল্প
তুমি আসবে বলে.....!
    ক্রিকেট
তুমি আসবে বলে.....!
নীরবে তুলির আঁচড় দিয়ে যাওয়া নিভৃত এক শিল্পী
    ফুটবল
নীরবে তুলির আঁচড় দিয়ে যাওয়া নিভৃত এক শিল্পী
অস্ট্রেলিয়ার একুশ, আরেকবার
    ক্রিকেট
অস্ট্রেলিয়ার একুশ, আরেকবার
এল ক্লাসিকো - স্পেনীশ দ্রুপদী লড়াই
    ফুটবল
এল ক্লাসিকো - স্পেনীশ দ্রুপদী লড়াই