• অন্যান্য

নেইমার-কাভানির চেয়ে পিএসজি বড়!

পোস্টটি ১০৬৬৪ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

 

 

DJjAflIXUAIxvXN 

নেইমারকে নিয়ে এত আলোচনা সমালোচনা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছেনা, এটাই কি হওয়ার কথা ছিল না? যেভাবে বার্সেলোনা ছেড়ে গেছে তাতে ওর একজনও হেটার তৈরি হবেনা বার্সা ফ্যানবেজ থেকে এটা অসম্ভব। আর সেটার ফলস্বরুপ কাভানির একটা সাময়িক ফ্যানবেজ তৈরি হয়েছে নেইমারকে সবসময় প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য, কারণ প্রথম থেকেই কাভানির সাথে নেইমারের মধ্যে পেনাল্টি কিক নেয়া নিয়ে একটু জল ঘোলা হয়েছে। একজন স্ট্রাইকার হিসেবে কাভানি আগে থেকেই পেনাল্টি নিচ্ছিল তাই সে তার গোল টালি বড় করার জন্য পেনাল্টির অধিকারটা ছাড়তে চায়ছেনা। অন্যদিকে নেইমারও চায়ছে (যার অলরেডি ৫ গোল, ৫ এসিস্ট) গোলসংখ্যার দিক দিয়ে উপরের দিকেই থাকতে। পেনাল্টি ছাড়া কাভানির গোল সংখ্যা হতো ৬, বর্তমানে সেটা ৯। অর্থাৎ তিনটা পেনাল্টি যদি নেইমার নিত তাহলে নেইমারের গোল সংখ্যা দাড়াত ৮, আর এসিস্ট ৫। দলের সেরা প্লেয়ার হিসেবে নেইমার এর পরিসংখ্যান সম্মৃদ্ধ হোক সেটা যেকোন পিএসজি ফ্যানই চায়বে।
 
নেইমার আসার আগেও কাভানি চান্স মিস করত। আমার যেটা মনে হয়, সব পিউর নাম্বার নাইনই অনেক বেশি সহজ গোল মিস করে। কারণ তাদের কাছে এত বেশি বল আসে যে তারা দুতিনটা মিস একই ম্যাচেই করে বসে, সাথে হয়ত আরো দুইটা গোলও করে। আপনি যেকোন স্ট্রাইকারের খেলা আলাদাভাবে দেখলেই সেটা বুঝতে পারবেন। সুতরাং কাভানির মিস গুলা একেবারে নতুন কিছু না। কাভানি যে একজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকার সেটা সবাই জানে, জানতো। নেপলিতেই কাভানি নিজেকে প্রমাণ করে এসেছিল। কিন্তু পিএসজি তে নেইমার যাওয়ার পর যতবেশি কাভানি আলোচিত হচ্ছে এর আগে কখনো এতবেশি ফোকাসটা পায়নি সে। কিন্তু কেন? নেইমারকে পছন্দ করেনা এরকম ফ্যানের সংখ্যা অনেক বেশি। ইউরোপে আসার আগে থেকেই সে ডাইভ নিয়ে অনেক সমালোচিত ছিল। ইউরোপে এসে বার্সা ফ্যানদের সাপোর্ট পেলেও ২২২মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ দিয়ে ক্লাব ছাড়ার ফলে মাদ্রিদের পাশাপাশি বার্সা ফ্যানবেজ থেকেও অনেক নেইমার বিরোধি ফ্যান তৈরি হয়সে। অন্যদিকে অনেক আগে থেকেই কাভানিকে নিয়ে ট্রল হতো ফেসবুকে। কিন্তু সেটাকে ডিফেন্ড করার মত লোক ছিলনা ওইভাবে। নেইমার পিএসজিতে জয়েন করার পর পিএসজির খেলা দেখা ফ্যানের সংখ্যা বেড়ে যায়। বেড়ে যাওয়া অংশের একটা বড়ভাগ হচ্ছে নেইমারের ফ্যান। আগে এদের সাথে বাকি অনেকেই ট্রল করত কাভানিকে, তখন সবাই একই দলে ছিল। বর্তমানে কাভানিকে যখন নেইমার ফ্যানরা ট্রল করা অব্যাহত রাখে গোল মিসের জন্য তখনই যাস্ট নেইমারকে পছন্দ না করার কারণে কাভানিকে ডিফেন্ড করার মত কিছু ভক্ত তৈরি হয়ে যায় অটোমেটিক। সর্বশেষ ফ্রিকিক পেনাল্টি কান্ড নেইমার কাভানি নাটকের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। এর পর থেকে নেইমার ফ্যান এবং এন্টি নেইমার ফ্যান তাদের নিজ নিজ জায়গায় আরো কট্টরভাবে অবস্থান নেয়।
 
নেইমার বা কাভানির প্লেয়িং পজিশন এবং রেস্পন্সিবিলিটি আলাদা। কিন্তু দুজনেই দলের জয়ের জন্য খেলে। নেইমারের উচিত ছিল এখনি পেনাল্টির ব্যাপারে এত আগ্রহ না দেখিয়ে পেনাল্টি নেয়ার জন্য আরো বড় কোন যুক্তি উত্থাপন করা যেটা ওর জন্য পেনাল্টি নেয়ার অপরিহার্যতা প্রমাণ হয়। যেমন ওর দুইগোল থাকা অবস্থায় পেনাল্টি চায়লে সেটার পছনে যুক্তি থাকত হ্যাট্রিকের জন্য তার পেনাল্টিটা দরকার। কিংবা সিজনের এমন একটা সময়ের জন্য অপেক্ষা করা যখন নেইমারের গোলসংখ্যা ওর ব্যাক্তিগত অর্জনের পথকে আরো সহজ করতে পারে। কিন্তু কাভানি নিজেও যেখানে ব্যাক্তিগত অর্জনের প্রতি আগ্রহি সেখানে এরকম সমস্যা এড়ানো কঠিণ। মাদ্রিদ কিংবা বার্সাতে কিন্তু রোনালদো বা মেসির জন্য সবাই এ ব্যাপারগুলা ছেড়ে দেয়। নেইমার হয়ত অপেক্ষা করতে পারত আরেকটু সময়। আবার উলটা দিক থেকে চিন্তা করেন। কাভানি কিন্তু নেইমারের প্লেয়ার হিসেবে সুপেরিয়রিটিটা সহজভাবে নেয়নাই। আপনি বা না মানেনঃ প্লেয়িং পজিশন, ট্যালেন্ট এবং পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে ফুটবল মাঠে নেইমার কাভানির চেয়ে বেটার ইনডিভিজুয়েল। কাভানি ভাল স্কোরার, কিন্তু ও আসলে খেলা কন্ট্রোল করেনা। এমবাপ্পে আসার আগ পর্যন্ত এটা অনেকেই মেনে নিসে যে (গ্রুপে পোস্টও হয়সে), কাভানির মত স্ট্রাইকার দিয়ে ইউসিএল জেতা যাবেনা। ওর ব্যাকাপও ছিলনা। এমবাপ্পে আসার পরেই মুলত নেইমারের পিএসজির সত্যিকারভাবে ইউসিএল এর চান্স তৈরি হয় । এখন কাভানি যদি চিন্তা করে, নেইমার কি করবে করুকগা - আমার গোল হলেই হবে তাহলে সেটা আল্টিমেটলি পিএসজিরই লস। নেইমারের না। নেইমারকে যতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যে রাখা যায় সেটা কোচ বা ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত না করলে ইউসিএল এ ঘুরেফিরে সেই কোয়ার্টার থেকে বিদায় নিতে হবে পিএসজি কে। নেইমার, কাভানি, বাপ্পি, ড্রাক্সলার, মারিয়া - এদেরকে যদি এক সুতায় আনতে এমেরি ব্যার্থ হয় তাহলে বড় দলের ম্যানেজার হিসেবে নিজের অযোগ্যতা প্রমাণ করবে। ওই কিন্তু প্লেয়ারদের বস, দলের কিই ডিশিসানগুলা ও না নিলে আল্টিমেটলি অনেক ডিশসানেই প্লেয়াররা নাক বাড়াবে যেটা দলের জন্য খারাপ। ইতিমধ্যে দলে পেনাল্টি ফ্রিকিক নিয়ে যে সংকট বা বিতর্ক তৈরি হয়সে তার জন্য এমেরির দায়ই বেশি। তবে এর সবই হচ্ছে নেইমারের পিএসজি যাওয়ার পর। নেইমারও এর আগে এতটা আলোচিত হয়নাই বার্সা থাকাকালীন। ওর বার্সা ছাড়ার মুল উদ্দেশ্যই ছিল নিজেকে আলাদাভাবে প্রমাণ করা। প্লেয়ার হিসেবে নিজের স্বকীয়তার সত্যিকার স্বীকৃতি অর্জন করা। সেটা করতে গিয়ে যদি কাউকে বাধা মনে করে তাহলে সে চাইবেই সেটা সরাতে; অন্তত মিডিয়া তাই মনে করে, নাহলে কাভানিকে বেচে দেয়ার জন্য বলার খবর গুলা হয়ত আসতনা। ওইদিনের ঘটনার পর আজ রাতেই প্রথম বায়ার্নের বিপক্ষে নামবে নেইমার কাভানি। পিএসজির নতুন যুগের প্রথম ম্যানেজার কার্লোর বায়ার্নের বিপক্ষে নেইমার কাভানি এমবাপ্পে ত্রয়ী কেমন পারফর্ম করে সেটা দেখার জন্য মুখিয়ে থাকবে সবাই। সিজনে এটাই এখন পর্যন্ত পিএসজির সবচেয়ে কঠিণ ম্যাচ সম্ভবত। দিনশেষে ব্যাক্তিগত সাফল্যের কথা চিন্তা না করে প্লেয়ারদের দল হিসেবেই খেলতে হবে - ব্যাক্তি কখনো দলের চেয়ে বড় হতে পারেনা।