• ফুটবল

আর্জেন্টিনাকে রাশিয়ার বিশ্বকাপে কিভাবে নিয়ে গেলেন লিওনেল মেসি?

পোস্টটি ৮৯২ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

জাতিগত ভাবে বিশ্বের সেরা ফুটবলারটি আর্জেন্টাইন লিওনেল মেসি, অসাধারন মেসি,অসাধারন খেলা।আর্জেন্টিনার এমন খেলাই দেখতে চায় সাপোর্টাররা  ।যদিও বিপক্ষে ছিল ইতিহাস। ১৬ বছর ইকুয়েডরের মাঠ থেকে ফেরা হয়নি জয় নিয়ে। বিপক্ষে ছিল ফর্ম,

ইকুয়েডরের সাথে বাঁচামরার ম্যাচ, অথচ ৩৮ সেকেন্ড যেতে না যেতেই প্রথম গোল হজম করে বসে আর্জেন্টিনা। ইকুয়েডরের ম্যাচে হারের শঙ্কা নিয়ে তখন বিশ্বকাপ না খেলার দুয়ারে দাঁড়িয়ে ছিল দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এমন পরিস্থিতিতে ক্লাব ফুটবল কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবল—সব জায়গাতেই ত্রাণকর্তা হিসেবে যার আবির্ভাব হয় সেই লিওনেল মেসির ওপর মঙ্গলবার রাতেও ভর করল অসাধারন  ফুটবল ক্ষমতা। ফলাফল, ৩-১ ব্যবধানে জিতে গেল আর্জেন্টিনা। তিনটি গোলই করলেন মেসি। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার, ১৮ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলল আর্জেন্টিনা।

 

সব শঙ্কা দূর হলো, সব গুঞ্জন থেমে গেল। লিওনেল মেসিকে ছাড়া বিশ্বকাপ হচ্ছে না। আর্জেন্টিনাকে নিয়ে রাশিয়ার বিশ্বকাপে গেলেন সময়ের সেরা ফুটবলার।

 

ইকুয়েডরের কুইটো শহরটা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯৩৫০ ফিট উঁচুতে। আর এখানে ২০০১ সালের পর থেকে কোনো জয় নেই আর্জেন্টিনার। শঙ্কার জন্য এই তথ্যটাই ছিল যথেষ্ট।

 

ম্যাচ শেষে তাই কোচের অতি উচ্ছ্বাস মোটেই আদিখ্যেতা নয়। সাম্পাওলি বলেন, ‘মেসি নিঃসন্দেহে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার। ওর কাছাকাছি থাকতে পারাটা আমার জন্যও খুবই রোমাঞ্চকর।’

 

কোচ মানছেন, আর্জেন্টিনার জন্য জয়টা খুব জরুরি ছিল । তিনি বলেন, ‘মেসিকে ছাড়া বিশ্বকাপ হতে দেওয়া যাবে না। এটা আমাদের মাথায় ছিল। সেজন্য অনেক চাপও ছিল। তবে, বাছাইপর্বের বাধা টপকে আমরা চাপটা ঝেড়ে ফেলেছিলাম। আমরা আধিপত্য রেখে খেলেছি। প্রতিপক্ষ আমাদের আগেই গোল করেছিল। তারপরও আমরা পথ হারাইনি। আমরা পুরোপুরি মেসির ওপর নির্ভরশীল ছিলাম না। মেসি নিজেই ওর যোগ্যতা প্রমাণ করেছে।’

 

২০০২ বিশ্বকাপের আগেও প্রায় একইরকম সমীকরণের সামনে ছিল ব্রাজিল। সমীকরণটা ছিল শেষ ম্যাচে যদি ব্রাজিল বড় ব্যবধানে হারে আর কলম্বিয়া বড় ব্যবধানে জিতে তাহলে ব্রাজিলকে টপকে বিশ্বকাপে চলে যাবে কলম্বিয়া। কলম্বিয়া বড় ব্যবধানে ঠিকই জিতেছিল। তবে, ব্রাজিলও ভেনেজুয়েলাকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয়। চলে যায় বিশ্বকাপের মূলপর্বে।

 

বাকি ইতিহাসটা কমবেশি সবার জানা। সেবার কোরিয়া-জাপান থেকে বিশ্বকাপ জিতে ফিরেছিলেন রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনহোরা। এবারো কী একইরকম কিছু একটা করে বসবে আর্জেন্টিনা? -বলা যায় এটাই তো মেসির শেষ সুযোগ।

 

বাছাই পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিল

 

দল                খেলা    জয়       ড্র         হার         গোল ব্যবধান        পয়েন্ট

 

ব্রাজিল           ১৮       ১২       ৫         ১            ৪১/১১                ৪১

 

উরুগুয়ে         ১৮       ৯         ৪         ৫           ৩২/২০               ৩১

 

আর্জেন্টিনা      ১৮       ৭         ৭         ৪            ১৯/১৬                ২৮

 

কলম্বিয়া         ১৮       ৭         ৬         ৫           ২১/১৯                ২৭

 

পেরু              ১৮       ৭         ৫         ৬           ২৭/২৬               ২৬

 

চিলি              ১৮       ৮         ২         ৮           ২৬/২৭               ২৬

 

প্যারাগুয়ে       ১৮       ৭         ৩         ৮           ১৯/২৫                ২৪

 

ইকুয়েডর        ১৮       ৬         ২         ১০         ২৬/২৯                ২০

 

বলিভিয়া        ১৮       ৪         ২         ১২          ১৬/৩৮               ১৪

 

ভেনেজুয়েলা    ১৮       ২         ৬         ১০         ১৯/৩৫               ১২