• অন্যান্য

আজ প্রখ্যাত ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার খোদা বক্স মৃধার ৮ম মৃত্যুদিবস

পোস্টটি ৬১৮৪ বার পঠিত হয়েছে

khoda box picআজ ৩০ মার্চ। বাংলাদেশের প্রখ্যাত ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার খোদা বক্স মৃধার ৮ম মৃত্যুদিবস। গত ২০১০ সালের এই দিনে তিনি সবাইকে শোক সাগর ভাসিয়ে ইন্তেকাল করেন। সুদীর্ঘ ৩৮ বছরের কিছু বেশি সময়ে ধরে খোদা বক্স মৃধা বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার হিসেবে জড়িত ছিলেন।
রাজশাহী শহরের হেতেম খাঁ নগরের এক ঝাঁক তরুণ দল নিয়ে খোদা বক্স মৃধা গড়ে তুলেছিলেন তাঁর প্রিয় সানরাইজ ক্লাব। খুব অল্প সময়ের মধ্যে রাজশাহী মহানগরী ফুটবল, ক্রিকেট, এ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও বাস্কেটবল লীগে অসাধারণ সাফল্য তুলে আনেন। স্থানীয় ক্রীড়ামোদীর মাঝে জনপ্রিয়তার অর্জন করে। স্বাধীনতা উত্তর পর্বে রাজধানীর কারদার, সামার, শেরে বাংলা ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তাঁর দল একাধিক সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলে। উত্তরবঙ্গের বাইরে যেকোনো ক্লাবের কাছে এটি একটি বিরাট সাফল্যমালার কথা না লেখা হলে তাকে ঘিরে অকৃতজ্ঞতার সুর ঝরবে।
উত্তর জনপদের এই সময়ের জনপ্রিয় দিনাজপুরের মীম মেমোরিয়াল ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় খোদা বক্সের দলটি বেশ কয়েকবার চ্যাম্পিয়নশীপ অর্জন করেছিল। খোদা বক্সের লিডারশীপের মাঝে তিনি পরম আত্মীয়ের মতো আনন্দ-বেদনায় পাশে থাকতেন। শুধু তাই নয়, তিনি শিক্ষক হিসেবে সকলের দারুণ জনপ্রিয় ও সফল মানুষ হিসেবে অভিহিত হয়েছিলেন। শিক্ষক হয়েও তিনি একাধারে খেলোয়াড়, সংগঠক, সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে সমান দক্ষতার ছাপ রেখেছিলেন।
এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো তিনি একজন ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার হিসেবে তার দীর্ঘদিনের সাবলীল কণ্ঠে, সহজ ভঙ্গিমা এবং মধুর স্বরে গোটা বাংলাদেশের ক্রীড়ামোদীদের মাঝে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হিসেবে বেশি পরিচিত পেয়েছিলেন।
১৯৭২ সালে মোহাম্মদ হাবিবের নেতৃত্বে ভারতের ইস্টবেঙ্গল ক্লাব রাজশাহীতে সফরে আসে। সেই ফুটবল প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচে রাজশাহী বেতার কর্তৃপক্ষ ফুটবল ধারাভাষ্যের জন্য প্রায় ৪০-৪৫ জন প্রার্থী আবেদন করে। অডিশন স্টুডিও হতে রাজশাহী বেতার কর্তৃপক্ষ খোদা বক্স মৃধা ও হান্নান খান নামে এই দু’জনকে নির্বাচিত করেছিল। সেই হতে ধারাভাষ্যকার হিসেবে খোদা বক্স মৃধাকে দেখা গেছে ক্রীড়ার বিভিন্ন ডকুমেন্ট ও বিভিন্ন পরিসংখ্যান নিয়ে সারাক্ষণ কথোপকথনের মধ্যে চর্চা রাখতে।
তখনকার সময়ে আজকের মতো অনলাইন বা অন্য কোন কম্পিউটার তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের মতো অত সহজ ছিল না। মনে আছে, ১৯৭৭-১৯৭৮ সালে মেরিলিবন ক্রিকেট ক্লাব বাংলাদেশে সফর করে। উত্তরবঙ্গের রাজশাহী স্টেডিয়ামে সেই সফরে সফরকারীরা প্রথম ম্যাচ খেলে। এই রাজশাহী স্টেডিয়ামে প্রথম বেসরকারি টেস্ট ম্যাচের প্রথম ক্রীড়া ভাষ্যকার হিসেবে খোদা বক্স মৃধা আত্মনিবেদিত হন। শুধু তাই নয়, ট্রেড ক্লার্কের নেতৃত্বকে দেখতে খোদা বক্স মৃধা রাজশাহী ছেড়ে সুদূর ঈশ্বরদীতে ছুটে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে প্রয়াত জাফর ইমামও নুরুন্নবী চাঁদও ছুটে যান। উদ্দেশ্য ছিল-ঈশ্বরদী বিমান বন্দরে মেরিলিবন ক্রিকেট ক্লাবের খেলোয়াড়দের স্বাগত জানাতে। আর সেই সাথে বিদেশী দলকে স্বাগত জানাতে ধারাভাষ্যকার মৃধা একটুও দ্বিধা বোধ করেননি। সমানে তাদের প্রতি তিনি উত্তরবঙ্গের সন্তান হিসেবে উষ্ণ সংবর্ধনা জানিয়েছিলেন। যেই বিদেশী দল ঈশ্বরদীতে নামলো অমনি খোদা বক্স মৃধা খুব কাছ হতে অন্তরঙ্গভাবে মিশতে যান। খেলোয়াড়ের সাথে অনেক তথ্য জেনে নেন মেরিলিবন কি জিনিস?
প্রায় সারাক্ষণ আঠার মতো লেগেই ছিলেন অমায়িক মনের মানুষটি। আর মৃত্যুর ফলে গোটা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ঘরে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তাঁর মতো খুব ভালো ধারাভাষ্য খুঁজে পেতে হাজার বছর পর অপেক্ষা করতে হবে। অবিশ্বাস করতে কষ্ট হয় দূরবর্তী শ্রোতাদর্শকরা আর কোনোদিন মধু স্বরে শুনতে পারবেন না খোদা বক্স মৃধা’র অনুপম ক্রীড়াশৈলী বাগ্মময়ীর ধারা বিবরণী। আর কোনোদিন তাকে বলতে শোনা যাবে না, কানে বাজতে শোনা যাবে না, ‘সুপ্রিয় শ্রোতাবন্ধুরা আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি খোদা বক্স মৃধা..।’
১৯৪৫ সালে রাজশাহীর হেতেম খাঁ নগরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে খোদা বক্স মৃধার ধারাভাষ্য দেয়া শুরু করেন। রাজশাহী বেতার কেন্দ্রের অডিশনে উত্তীর্ণ হয়ে ফুটবল ম্যাচের উপর তিনি চলতি ধারাবিবরণীতে বর্ণনা দেন। এর ৬ বছর পরে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে টিভি ভাষ্যকার হিসেবে তিনি যোগ দেন। ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি সকলের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন। মাইক্রোফোনের সামনে তিনি শিশুর মতোই। তাঁর কণ্ঠবিবরণীতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল।

এলিস হক
ক্রীড়া সাংবাদিক ও ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার
আদর্শপাড়া, ঝিনাইদহ-৭৩০০
২৯.৩.১৮

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।