• ফুটবল

আর্সেন ছাড়া হয়তো ভালোই করবে আর্সেনাল, কিন্তু আর্সেনাল ছাড়া কেমন থাকবেন আর্সেন!?

পোস্টটি ৬৮৫৭ বার পঠিত হয়েছে

আর্সেন ওয়েঙ্গার , ‘দ্য প্রফেসর’ । আর্সেনাল সমর্থকদের কাছে ওয়েঙ্গার দাদু। ক্লাবের নামের সাথে তার নামের এক অদ্ভুত মিল থাকায় একটা সময় আমার মনে হত তিনিই হয়তো ক্লাবের মালিক। শুধু নামের বিচারেই না, ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ এর অন্যতম দল আর্সেনাল এর অস্থি-মজ্জায় মিশে আছে এই মানুষটি। হাইবুরি থেকে এমিরেটস; ইনভিসিবল থেকে ইউরোপা; থিয়েরি অঁরি-ডেনিস বার্ক্যাম্প থেকে হালের মেসুত ওজিল-অবামেয়াং অনেক পথ পরিবর্তন হলেও কন্সট্যান্ট ভ্যালুর মতন এক ও অভিন্ন হয়ে ছিলেন আর্সেন ওয়েঙ্গার। কোচ হিসেবে প্রথম উত্তর লন্ডনে পা রাখার পর থেকে  আজ পর্যন্ত তার চোখের সামনে ১৬০ জন ম্যানেজারের ভাগ্য বদল ঘটেছে। পুরনো দিনের বন্ধু একইসাথে প্রতিদন্দি ফার্গুসনো ডাগ-আউটের সাথে হিসেব-নিকেশ চুকিয়েছেন পাঁচ বছর হতে চললও। কিন্তু মহীরুহর মতন আর্সেনাল এর রক্ষণকর্তা হিসেবে ২২ বছর ধরে তিনি ছিলেন । সেই আর্সেন ওয়েঙ্গার আজ বিদায় বলছেন তার ধ্যান-জ্ঞান আর্সেনাল কে।২২ বছর ধরে আর্সেনালে ডাগআউটের নির্ভিক নেতা আর্সেন ওয়েঙ্গার

সময়টা ১৯৯৬ সাল। আমি তখন গুটিগুটি পায়ে হেঁটে বেড়াই, মার কোলে বসে ছড়া শুনি, নাহয় আপুর কাছে চাচা-চৌধুরীর গল্প শুনি। ঠিক তখনই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম লিজেন্ড ইয়োহান ডি ক্রুইফ বার্সার দায়িত্ব থেকে মাত্রই নিজেকে ছাড়িয়েছেন। সমর্থকরা এবং ফুটবল-বোদ্ধারা তাকে ইতিমধ্যে আর্সেনালের নয়া কাণ্ডারি হিসেবে কল্পনা করতে শুরু করে দিয়েছে। ঠিক সেই সময়টায় সবাইকে অবাক করে আর্সেনাল এর দায়িত্বে আসেন তখনকার অখ্যাত ৪৭ বছর বয়সী আর্সেন। চোখে চশমা পরা পরিপাটি এই ভদ্রলোক এসেই হাজারো প্রশ্ন তৈরি করলেন সমর্থকদের মনে! শুধু সমর্থকগোষ্ঠিই নয়, ক্লাব প্লেয়ারদের মনেও উকি দিল, ‘কে এই ভদ্রলোক?’

তৎকালীন ক্যাপ্টেন টনি অ্যাডামস তো সরাসরি প্রশ্ন কর বসলেন, “প্রথম দিকে, আমি ভাবলাম, এই ফরাসী কি ফুটবল সম্পর্কে জানেন কিছু? তাকে চশমাপরা একজন স্কুলমাস্টার এর মতন লাগছে, তিনি আদৌ কি সঠিকভাবেই ইংরেজি বলতে পারেন?wenger_appointed

 

ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথমেই তাকে ক্লাবের ট্রান্সফার , প্লেয়ারদের কন্ট্রাক এবং ট্রেনিং এর উপর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব দেওয়া হলও, এবং এও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলও আর্সেনাল বোর্ড টিমের বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ করবেনা। আর্সেন প্রথমেই অভিজ্ঞ প্লেয়ারদের আশ্বাস দিলেন টিমে তাদের প্রয়োজনীয়তা আছে কিন্তু এটাও বলে দিলেন মূল একাদশে জায়গা পেতে হলে তরুণদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হবে। এছাড়া তিনি খেলোয়াড়দের খাদ্যাভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। তিনি নিউট্রেশিয়ান নিয়োগ দেন আর্সেনালে। বর্তমানে এটা এখন ইউরোপের সব দকে কমন প্র্যাকটিস হলেও, তখনকার সময়ের জন্যে ছিল এক অভিনব পদক্ষেপ। এছাড়া আর্সেন কড়া শাসনে রাখতেন টিমকে, প্লেয়ারদের অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড এবং মদ্যপানের উপর লাগাম টানেন, যা টিমের ডিসিপ্লিন মেইন্টেইনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আর্সেনালের হয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচে ব্ল্যাকবার্ন রিভার্স কে ২-০ তে হারিয়ে শুভ সূচনা করেন । আর্সেনালের হয়ে প্রথম বছর তেমন কোন সাফল্য অর্জন না করতে পারলেও দলকে নিজের মতন করে তৈরি করে নেন। যার ফলাফল আমারা সামনের সিজনগুলোতেই দেখতে পাই। আর্সেনালের হয়ে দ্বিতীয়  বছরই ওয়েঙ্গার বাজিমাত করলেন। একই সাথে লিগ শিরোপা এবং এপথে কাপ জিতিয়ে আর্সেনালকে মূল দলগুলোর কাতারে তুলে আনলেন তিনি।Arsene-Wenger-Retrospective

২০০৩-২০০৪ এই সিজন শুধু আর্সেনালের জন্যে না, সমগ্র ফুটবল ইতিহাসের জন্যে এক বিশেষ সিজন । এই সিজনে আর্সেনাল লীগ ম্যাচে একটিতেও না হেরে চ্যাম্পিয়ন হয়, যা আর্সেন এবং তার টিমকে “ইনভিসিবল” উপাধি দেয়। এই সিজনে আর্সেনাল মূলত ৪-৪-২ ফোর্মেশন এ খেলেছে । গোলকিপার জেনস লেহমান পুরো মৌসুমের প্রত্যেকটি লীগ-খেলা খেলেছেন। এশলে কোল, কোলো তোরে, লোওরেন এবং সল ক্যাম্পবেল ডিফেন্সের জন্যে ওয়েঙ্গার প্রথম পছন্দ ছিল। মিডফিল্ডে রোটেশন পদ্ধতির বেশি ব্যবহার করলেও, প্যাট্রিক ভিয়েইরা, রবার্ট পেয়ার্স, ফ্রেডি লিজুনবার্গ এবং সিলভাের মতো খেলোয়াড়রা প্রথম দলটির মূল মিডফিল্ডের কারিগর ছিলেন। নিঃসন্দেহে এট্যাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে ছিল আর্সেনাল লিজেন্ড থিয়েরি অরি এবং ডেনিশ বার্ক্যাম্প ।টিম ইনভিসিবল এর লাইন-আপ

এই মৌসুমেই ৩৭ ম্যাচে ৩০ গোল থিয়েরি অরি কে “প্রিমিয়ার লীগ প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার” পুরষ্কার এনে দেয়। ২০০৩-০৪ এ পুরো লীগ জুড়ে মাত্র চারটি ম্যাচে গোল করতে পারেনি আর্সেনাল, গোলশূন্য ড্র করে বার্মিংহাম, নিউক্যাসল, ফুলহাম ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে। অপরাজিত থাকা ৪৯ ম্যাচের মধ্যে জিতেছে ৩৬ টিতে, আর বাকি ১৩ টি ড্র। ১১২ টি গোল করার বিপরীতে খেয়েছে মাত্র ৩৫ টি। ঘরে-মাঠে ২৫ ম্যাচ খেলে জিতেছেন ২০ টিতে, আর প্রতিপক্ষের মাঠে ২৪ ম্যাচে জয় ১৬ টিতে। যা ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে এক মাইলফলক। ইনভিসিবল টিমের যত অর্জন

এই অনন্য কৃর্তির জন্যে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কমিটি আর্সেনালের জন্যে সেই সিজনে গোল্ডেন প্রিমিয়ার লীগ ট্রফি প্রদান করে।গোল্ডেন ইনভিসিবল ট্রফি

এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৫-০৬ মৌসুমে আর্সেনাল পৌঁছে যায় উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে। কিন্তু দুক্ষজঙ্কভাবে বার্সেলোনার সাথে ২-১ গোলে হেরে প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরা হওয়ার স্বপ্নভঙ্গ হয়।

 

২০০৬ সালের শুরুতে আর্সেনাল তাঁদের পুরনো ঘর হাইবুরি থেকে ৬৫,০০০ হাজার দর্শক ধারনক্ষমতাস্মপূর্ন এমিরেটস স্টেডিয়ামে। এটি ইংল্যান্ডের তৃতীয় বৃহৎ স্টেডিয়াম। এই সমগ্র স্টেডিয়ামটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৯০মিলিওন ডলার। নতুন স্টেডিয়ামে স্থানান্তর আর্সেন এবং আর্সেনালকে নতুন চ্যালেঞ্জ এর মুখে ফেলে দেয়। অর্থনৈতিকভাবে আর্সেনাল কিছুটা বেসামাল পরিস্থিতিতে পরে যায়। যার প্রভাব পরে আর্সেনালের ট্রান্সফার পলিসিতে। ওয়েঙ্গার ক্যাম্পবেল, লরেন এবং পিয়ার্সের মত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বিক্রি করে তুলনামূলক কমদামে থিও ওয়ালকোট এবং অ্যালেক্স জয়েসের মতো তরুণ খেলোয়াড়দের দলে ভেড়ান। অপেক্ষাকৃত তরুণদল নিয়ে আর্সেনাল ২00৭ সালে লীগ কাপের ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং চেলসির বিপক্ষে তারা ২-1 ব্যবধানে পরাজিত হয় তারা।

মূলত ইনভিসিবল সিজনের পর থেকেই আর্সেনালের সাফল্য খরা শুরু। স্ট্রিক্ট ট্রান্সফার লিমিটের মাঝে থেকেও ওয়েঙ্গার সিজনের পর সিজন দলকে ইপিএল এর মতন “টাফ এন্ড টাইট” লীগে টপ ফোরে রেখেছেন। টানা দশ বছর কোয়ালিফাই করেছেন “ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ”এ। এর পিছনে যে মানুষটির অবদান সবথেকে বেশিই তিনি হলেন আর্সেন ওয়েঙ্গার। ইউরোপের বাকি দলগুলো যেখানে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করেছে সাফল্যের জন্যে সেখানে তিনি বেশী জোড় দিয়েছেন তরুণ প্লেয়ারদের প্রতি। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি তুলে এনেছেন- ভ্যান পার্সি, সোং,থিও ওয়াল্কট, সেস ফ্যাব্রিগাস, সামি নাসরিদের মতন তরুন তুর্কিদের। 

আর্সেন ওয়েঙ্গার সবসময় মনে করেন যে একজন খেলোয়াড়ের মূল্য চারটি ফ্যাক্টর দ্বারা নির্ধারিত হয় : তাদের প্রতিভা,পার্শ্ববর্তী অবস্থার সাথে তাদের মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা, তাদের ভবিষ্যৎ মূল্য এবং তাদের বয়স। গত দুই দশক ধরে, তিনি এই নীতির মাধ্যমেই দলকে সাজিয়েছেন। কেবল স্বল্পমেয়াদি সমাধানের জন্যে নয় বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করেই প্লেয়ার কেন-বেচা করেন তিনি।Striker-Thierry-Henry-L-holds-up-his-shirt-with

 

   ১৯৯০সালের দিকে জর্জ গ্রাহামের অধীনে ক্লাবের অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ খেলার ধরণ দরুন ক্লাবের কপালে জোটে “বোরিং আর্সেনাল” এর তকমা, ওয়েঙ্গারের পর খুব দ্রুতই এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। নান্দনিক খেলার ছন্দের জন্য ২০০২ থেকে আর্সেনাল ইংল্যান্ডের সবচেয়ে আনন্দদায়ক দল হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে।

আর্সেন উত্তর লন্ডনে পৌঁছানোর আগে, ইংলিশ ফুটবলারা চিপস, লগার, সুইট ইত্যাদি স্পেশালের ডায়েটে উপস্থিত ছিল। ওয়েঙ্গার তাঁদের কে এক রহস্যময় স্বাস্থ্যকর খাবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন, যেটা এখন আমাদের দেশেও খুব জনপ্রিয় আর তা হল "পাস্তা"। খেলোয়াড়দের খাদ্যাভাসে তার সুচিন্তিত পরিবর্তনগুলি তৎকালীন সময়ে এত সুপরিচিত না হলেও, তার বিপ্লবগুলি অনেক সদূরপ্রসারি প্রভাব ফেলেছিল দলের উপর। খেলোয়াড়দের ট্রেনিং এ আরও সময় কাটান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনে লাগাম টানা ইত্যাদি আর্সেনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ওয়েঙ্গারের সুনির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশন থেকেই লন্ডন কলোনিতে নির্মিত হয় নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

 

২২ বছরের ক্যরিয়ারে সাফল্যের ঝুড়ি ভারি করলেও, আছে অনেক ব্যর্থতা। ক্যারিয়ারের অনেক সময় তাঁর অনেক সিদ্ধান্ত হয়েছে বিতর্কিত। যেমন-

  • দলের মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ারদের ধরে রাখতে না পারা ওয়েঙ্গার এর অন্যতম ব্যর্থতা বলা যেতে পারে। ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খুঁজে খুঁজে পটেনশিয়াল প্লেয়ার বের করে তাঁদের ডেভেলপ করায় আর্সেন ওয়াঙ্গার এর জুড়ি নেই। কিন্তু ঠিক এই প্লেয়ারদের কেই দীর্ঘসময়ের জন্য দলের সাথে যুক্ত রাখতে ব্যর্থ তিনি। এর সবচেয় বড় উদাহরণ, ডাচ উইঙ্গার “রবিন ফন পার্সি”। এই ফ্লায়িং ডাচম্যান যখন ক্যারিয়ারের দুর্দান্ত সময় ছিল ঠিক তখনি থাকে ইপিএল এ আর্সেনাল এর অন্যতম রাইভাল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এর কাছে ২২.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে বিক্রি করে দেন ওয়েঙ্গার। এছাড়া এলেক্স সং, সামি নাসরি,ভারমালেন, সেস ফ্যাব্রিগাস প্রমুখ প্লেয়ারদের লং-ট্রাম কন্ট্রাক দিয়ে ধরে রাখতে পারেননি আর্সেন।
  • প্লেয়ার কেনা-বেচাতেও কিছুটা কৃপণতা লক্ষ্য করা যায় আর্সেন ওয়েঙ্গার এর ট্রান্সফার পলিসিতে। যেখানে অন্যান্য দল কাড়ি-কাড়ি টাকা নিয়ে মাঠে নামে তাঁদের পছন্দের প্লেয়ারকে দলে ভেড়ানোর জন্য, সেখানে প্লেয়ারের গুনগত মান নির্ণয় করে তাঁর দাম নির্ধারণ করতেই বেশী পছন্দ করেন আর্সেন ওয়েঙ্গার। ২০১৩ সাল থেকে উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ ছিল ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক প্লেয়ার। সুয়ারেজের চুক্তিতে থাকা রিলিজ ক্লোজ এর £40 মিলিয়ন ট্রিগার করে আর্সেন বীট করে মাত্র £ 40,000,001 মিলিয়ন পাউন্ড। কিন্তু পরবর্তীতে সুয়ারেজ লিভারপুলের সাথে কন্ট্রাক রিনিউ করলে আর্সেনাল ব্যর্থ হয় তাকে দলে ভেড়াতে। এছাড়া হিগুয়িন, কাভানি,ভিদাল প্রমুখ প্লেয়ারদের সাইন করানোর এক দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেলেও পরবর্তীতে আর তাঁদের আর্সেনাল এর হয়ে খেলা হয়নি।
  • “টিম ইনভিসিবল”-এর বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের, তাঁদের যোগ্য রিপ্লেস্মেন্ট পাওয়ার আগে চলে যেতে দেওয়া ছিল আর্সেন এর অন্যতম বড় ভুল। এই টিমের কাঠামো ধরে রাখতে পারলে হয়তো ১৯৭০-৮০’র দশকের লিভারপুল টিমের মতন পুরো ইংলিশ লীগকে ডমিনেট করতে পারত আর্সেনাল। এর পরবর্তীতেও দলের কি-প্লেয়ারদের যোগ্য রি-প্লেসমেন্ট এর অভাব এবং বেশকিছু মিডি-ওকার প্লেয়ারদের সাইনিং আর্সেনাল এবং আর্সেন কে আরও পিছিয়ে দিয়েছে।
  • আমরা সবাই জানি আর্সেনাল খেলার ধরণ কিছুটা কোঠর আপ-টেম্পো ভার্সন। মিডফিল্ডার এর পজিশন গুনার্সের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের কাছে টিকি-টাকা স্টাইলে পাসিং এর মাধ্যমে বল জালে জড়ানোই মুল কৌশল। উইংরাও তাদের ভূমিকা পালন করে ফাইনাল থার্ড’এ যথেষ্ট জায়গা তৈরি করার মাধ্যমে। এবং আর্সেনালের সমস্যা ঠিক এটাই। আর্সেনালের খেলায় আমরা সবাই জানি একই পুরানো কৌশলের আর্সেনাল, উইংস ব্যবহার করে, বলটি পাস করে, নিশ্চিত করে যে প্রত্যেক আক্রমণ খেলোয়াড়  বা উইঙ্গার বা উভয় বলটি নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করে কাঙ্ক্ষিত গোল অর্জন করতে পারে। নিজেদের এই পুরনো কৌশল সিজনের পর সিজন এপ্লাই করার কারণে আর্সেনাল আর প্রেডিক্টেবল টীম। সব ছোট-বড় দলের কোচরাই মোটামোটি আর্সেনালের খেলার ধরণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। প্ল্যান-বি বলে কিছুই নেই আর্সেনালের। এটাই আর্সেনালের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ।wenger-out-arsene-wenger-1-620x400

এত সাফল্য এত ব্যর্থতার আজ ইতি হতে চলেছে। টানা ২২টি বছর আর্সেনালের হয়ে হাইবুরি আর এমিরেটস শাসন করা আর্সেন ওয়েঙ্গার আজ অবসরে যাচ্ছেন। ঠিক ২২ বছর আগে আর্সেন ওয়েঙ্গার তার প্রিয়তমা স্ত্রী অ্যানিকে বলেছিলেন, “এইতো যাচ্ছি মাত্র ৫ বছরের জন্য। কথা দিচ্ছি শুধু ৫ বছরই থাকব। তারপর সব ছেড়ে ছুড়ে অবসর নিয়ে চলে আসব, শুধুই তোমার কাছে।“ ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা, আর্সেনালের প্রতি ভালোবাসা কোন কিছু থেকে ছুটে আসতে পারেননি তিনি । পারেননি আর্সেনাল ক্লাবটির প্রতি একরকম দায়িত্ববোধ থেকে। পরিবারকে ঠিক মতন সময় দিতে পারেননি, অবসর সময়টুকুও ব্যয় করেছেন নিত্যনতুন কৌশল নিয়ে আর ফুটবল খেলা দেখে। প্রিয়তমা স্ত্রী ওয়েঙ্গারের অপেক্ষায় পার করল ১৯ টি বছর, তারপর তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন।একা হয়ে যাওয়া জীবনটাকে গুছিয়ে নিয়েছেন তিনি, ফুটবলকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে আছেন তিনি।Arsene-Wenger-and-wife-split

 

সব কিছুরই শেষ আছে, একটা সময় সরে যেতে হয় আপন ভুবন থেকে। লাখ ভক্তদের ভালোবাসায় শেষবারের মতন এমিরেটসে আর্সেনালের দায়িত্ব পালন করলেন আর্সেন। বিদায় বেলায় বলে গেলেন-

ধন্যবাদ, আপনাদের। শুরু করার আগে, আমি আমার সহকর্মী ম্যানেজার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে শুভকামনা করতে চাই।দীর্ঘ সময়ের জন্য আমার সাথে এপথে চলার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। আমি জানি এটা সহজ নয়। কিন্তু সর্বোপরি, আমি আপনাদের মতনই একজন আর্সেনালের ফ্যান। এটা শুধু ঘরে বসে ফুটবল দেখার চেয়ে আরও বেশি কিছু, এটি জীবনকে উপলব্ধি করার একটি নতুন উপায়।

আমরা যত্ন করি, আমরা চিন্তা করি, আমরা হতাশ হই, কিন্তু তারপরও আপনি এখানে আসেন, স্বপ্নের আঁতুড়ঘরে কারণ আমরা বুঝতে পারি এর অর্থ কি!

আমি ক্লাবের প্রত্যেককেই ধন্যবাদ জানাতে চাই বিশেষ করে, আমি আপনাকে আমন্ত্রণ জানাবো, এই খেলোয়াড়দের এবং আমার পিছনে থাকা সহকর্মীদের। শুধু পিচ নয়, কিন্তু পিচের বাইরেও যারা সমর্থন করেছেন, দয়া করে, আপনারা এই দলকে অনুসরণ করবেন, তাদের পরবর্তী সিজনকে সমর্থন করুন কারণ তারা এর যোগ্য।

আমি একটি সহজ বাক্য দিয়ে শেষ করতে চাই: আমি তোমাকে মিস করব। আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকার জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ,বিদায়!

আর্সেন ওয়েঙ্গার এর লাস্ট স্পিচ

31950403_611429539221211_2101171067186839552_o

হয়তো নতুন কোন মুখ আসবে এমিরেটস এ, নতুন কেউ নতুন কোন পরিকল্পনা নিয়ে ন্তুনভাবে সাজাবে আর্সেনালের রণকৌশল। কিন্তু সমর্থকদের মনে এক বিশেষ স্থান করে থাকবে আর্সেন ওয়েঙ্গার। ২২টি বসন্তের পর ২৩তম বসন্ত আর্সেন কিভাবে পার করবেন আর্সেন , হয়তো নিজেও জানেন না। ভালো থাকবেন আর্সেন ওয়েঙ্গার। আমাদের ওয়েঙ্গার দাদু। ধন্যবাদ সবকিছুর জন্যে।4000

 

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।