• ফুটবল

অলস জাদুকরের বিশ্বকাপ ক্লাইম্যাক্স!

পোস্টটি ১১৬৪ বার পঠিত হয়েছে

৪৫ বছর বয়সের জিনেদিন জিদানকে শেষ কবে দেখেছেন বলুন তো? রিয়াল মাদ্রিদ এর কোচ এর আসন ছেড়ে দাঁড়ানোর দিনের সংবাদ সম্মেলনে? পাথর কুদে তৈরি করা হয়েছে এমন মুখ নিয়ে বসে থাকতে? আরেকটু বেশি অনুসরন করলে adidas এর বিশ্বকাপ সামনে রেখে বানানো বিজ্ঞাপনচিত্রে অন্তর শীতল করা হাসি নিয়ে বসে থাকতে? দেখে থাকলে নিশ্চয়ই মনে আছে কী পরিমান ফিটনেস সচেতন এই ভদ্রলোক?তাকে কোন সাহসে আমি অলস বলি? জিদানকে অলস বলতে গেলে ফিরে যেতে হবে অনেক বছর আগে। তার খেলোয়াড়ি জীবনে। সেই জাদুকরি মুহুর্ত গুলোতে যখন তাঁর পায়ে বল আসত! কী মোহ! কী ইন্দ্রজাল! যেন দুনিয়ার সকল সময় তার কাছে। ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফার্স্ট টাচ তার। কিন্তু তার আগে কীভাবে যেন সেকেন্ড দুই থেমে থাকত ঘড়ি! তারপর আসত জাদুকরের জাদু! মনে আছে ভদ্রলোকের চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে করা গোলটা? তিন চার সেকেন্ড এর জন্য রবার্তো কার্লোস এর ক্রসটা যেন ভেসে ছিল এই লোকটাকে তার সিদ্ধান্ত নেবার সময় করে দিতে। প্রশ্ন করতে- Decide. How will you entertain them?

আজকের আখ্যান অবশ্য জুভেন্টাস এর জিদান বা মাদ্রিদ এর জিদান অথবা কোচ জিদান এর নয়। আজকের আখ্যান নীল জার্সির জিদান এর। ফ্রান্স এর বিশ্বকাপ এনে দেয়া জিদান এর। এক নায়ক এর যিনি হয়তো বিশ্বকাপটা পারলে একাই জিতে আনতে পারতেন!
১৯৯৮ বিশ্বকাপটার বিল্ড আপ কতটা ব্রাজিলময় বা কতটা রোনালদোময় ছিল সেটা বলে বোঝানো ২০১৮ সালে বেশ কঠিন। বার্সেলোনার হয়ে লা লীগা ছিন্নভিন্ন করে এসেছেন রোনালদো। গোল করেছেন মুড়ি মুড়কির মত। ইন্টার মিলানের হয়ে সাইন করেছেন কিছুদিন আগে। সেখানে কাতানেচ্চিওর জনকেরা আর তাঁদের সেরা ব্রিডের ডিফেন্ডাররা রোনালদোর নামে আতংকিত। রোনালদো আসলেন বিশ্বকাপে। এবং ভয়কে সত্য প্রমাণ করে প্রতি ডিফেন্ডার এর রাতের ঘুম কেড়ে নিয়ে ৫ টা গোল করে ফেললেন। গতি, স্কিল আর পাওয়ার এর প্রায় অতিপ্রাকৃত মিশেল এর সামনে ডিফেন্ডারদের একদম ত্রাহি মধুসুধন অবস্থা। সেই রোনালদো ফাইনালের আগে কী খেয়েছিলেন বা করেছিলেন স্বয়ং বিধাতাই জানেন। রীতিমত খেলবেনই না টাইপের অবস্থা হয়ে গেল। শেষে যাও বা খেললেন হয়ে রইলেন নিজের ছায়া। তাহলে বিশ্বকাপ এর নায়ক কে হবেন? শেষ দৃশ্যে একদম সময় মত হাজির হলেন সেই অলস জাদুকর। পুরো টুর্নামেন্ট এ দুর্দান্ত খেলা ব্রাজিল কিছুটা মানসিক ধাক্কা খেয়ে ছিল বলেই কী না মাঝমাঠে জিদান এমনই নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করলেন ফ্রান্স এর প্রেসিং এর সামনে ব্রাজিলের ছিদ্র ওয়ালা ডিফেন্স একদম বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে গেল। কারো কি মনে আছে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে ফ্রেঞ্চ সেন্টারব্যাক মার্সেল ডেসাইয়ি লাল কার্ড পেয়েছিলেন? সম্ভবত নেই। কারণ কী ১১ কী ১০ জনের ফ্রান্স জিদান যেদিন খেলেন সেদিন প্রতিপক্ষ শুধুই দর্শক। আর জিদানের সেরা টা সব সময় বড় ম্যাচের জন্যই তোলা থাকত। নিজে দুটি গোল করেছিলেন। দুটোই প্রথম অর্ধে। ব্রাজিল সেটার মানসিক পীড়ন হতে বের হতে পারে নি কোনদিন।
Image result for zidane vs brazil 1998

প্যারিসে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ফরাসিরা যে আনন্দ উৎসব করেছিল তাতে প্যারিস এ আর্ক দ্যে ত্রিয়ম্ফের গায়ে জিদানের প্রতিকৃতি ভেসে উঠেছিল জাতীয় বীর হিসাবে। ফুটবল ইতিহাসের নায়ক হিসাবে। আজও জিদান ফরাসীদের কাছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির নাম। অথচ এই জিদান কিন্ত ফ্রান্স এর নাও হতে পারতেন। আলজেরিয়ান পিতামাতার ছেলে শরণার্থি হিসাবে ফ্রান্স এ এসেছিলেন। সবাই পালাতে আসে। জিদান এসেছিলেন জয় করতে।
তবে শরণার্থী জীবন মনে হয় জিদানকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। ফরাসী সৌরভ এর এলিগেন্স যেমন ফ্রান্সে থেকে রপ্ত করেছেন, বল পায়ে অলস সৌন্দর্য যেন প্রতি ক্ষণে ক্ষণে বলে ”তাড়া কীসের?” ভাল কিছু হতে তো সময় লাগবেই! কিন্তু এ তো প্রতিটি ফ্রেঞ্চ ফুটবলার কম বেশি সেই সময়ে ধারণ করতেন। গোল্ডেন জেনারেশান এর অরি, ট্রেজেগে,কারেম্বু বা পেতিত তো বটেই এমনকি দল কম সুযোগ পাওয়া রবার্ট পিরেস কেও এলিগেন্ট ফুটবলের পুজারী বললে মোটেও ভুল বলা হবে না। সেখানে জিদানকে চ্যাম্পিয়নদের চ্যাম্পিয়ন হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছিল অবশ্যই শরনার্থী শিবিরের রাস্তায় খেলা জিদানের  একরোখা মনোভাব। ফরাসী এলিগেন্স এর পর্দার আড়ালে কোথায় যেন সব সময় লুকানো থাকত a moment of magic! সেটা বের না হয়ে আসা পর্যন্ত জিদান অসাধারণ খেলোয়াড়। সেটা বের হয়ে আসলে? নিখাদ চ্যাম্পিয়ন।

২০০২ বিশ্বকাপে যখন ফ্রান্স যায়, তারা নিঃসন্দেহে বিশ্বের সেরা দল। তাঁদের সমকক্ষ কেউ নেই। বিশ্বকাপের পরে ইউরো জিতেছে তারা, জিতেছে কনফেডারেশান্স কাপ প্রচুর নিরিক্ষাধর্মী স্কোয়াড খেলানোর পরেও। সিরি এ, লীগ ১ আর প্রিমিয়ার লীগে গোলের বন্যা বইয়ে দেয়া ফরোয়ার্ড লাইন। সিরি এ আর প্রিমিয়ার লীগের জাদরেল ডিফেন্ডার নিয়ে স্কোয়াড। গোলবারে ফ্যাবিয়ান বার্থেজ! আর মাঝমাঠে দৈতাকার ভিয়েরাকে নিয়ে কাপুনি ধরানো এক ইউনিট। তার উপর সবাই একসাথে খেলতে খেলতে এমনই বোঝাপড়া যে প্রবল প্রতিপক্ষকেও মাঝেমাঝে খেলো মনে হয়।আর জিদান তো আছেন ই। আছেন শুধু নয়, চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে সেই বিখ্যাত গোল করে শিরোপা জিতে তর্কাতীতভাবে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হিসাবে বিশ্বকাপে এসেছেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে ক্রুইফ এইসব ভেবেই বলে দিলেন –“above all, France!”



কিন্তু গল্পে ছন্দপতন এখানেই। কোরিয়ার সাথে এক প্রস্তুতি ম্যাচে জিদান খোড়াতে খোড়াতে মাঠ থেকে বের হয়ে গেলেন। সেকেন্ড হাফ বরফ পায়ে চেপে বসে রইলেন বেঞ্চ এ। এক্স রে করে খবর যা আসল তা খুব সুখকর না। দুই ম্যাচ অন্তত খেলতে পারবেন না মাঝমাঠের মধ্যমণি। অবশ্য তাতে কী? সেনেগালকে হারাতে নিশ্চয়ই জিদানকে লাগবে না। তাই না?
জিদান থাকলে কী হত বলা যায় না। তবে ফ্রান্স রীতিমত নাকের জল চোখের জল এক করে সেনেগাল এর কাছে হেরে গেল। ত্রেজেগে আর অরি বার এর বেশি কিছু খুজে পেলেন না। দেসাইয়ি, জোর্কাফ আর ল্যাবাফ গতির সামনে বারবার দিশা হারালেন। দ্বিতীয় ম্যাচ টা ছিল উরুগুয়ের সাথে বাঁচা মরার লড়াই। ফ্রান্স কোচ জোর্কাফকে বসিয়ে মিকোদ খেললেন জিদান এর সাথে খেলার ধরনে মিল থাকায়। কিন্তু ২৫ মিনিটে জিদান না থাকায় দলের সবচেয়ে বড় ভরসা অরি লাল কার্ড পেয়ে গোলের আশা ভরসায় জল ঢেলে দিলেন। 0-0 তে শেষ হল ম্যাচ। শেষ ম্যাচে পায়ের ব্যান্ডেজ খুলে তড়িঘড়ি করে জিদান ফিরলেন। কিন্তু বিধাতা এবার যেন রোনালদোর সাথে জিদানকে সমতায় দাড়া করিয়ে দেবেন বলে পণ করেছেন। অর্ধেক ফিট জিদান এলেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফাইনাল এর রোনালদোর মত শুধুই ছায়া হয়ে। মানসিকভাবে পিছিয়ে থাকা ফরাসিরা রমাদাল আর টমাসন এর গোলে ডেনমার্ক এর সামনে হেরে বাড়ির পথ ধরে।ওদিকে রোনালদো ৮ গোল করে ১৯৯৮ এর ভুত চাপা দিলেন চিরতরে।

 

জিদান এর নায়কোচিত ক্যারিয়ারে আর বিশ্বকাপ আসার কথা ছিল না।২০০৪ ইউরোর পর গোল্ডেন জেনারেশান এর বিদায় ঘন্টার পর জিদান অনুভব করেছিলেন তাঁর ও উচিত এর সাথে নিজেকে সরিয়ে নেয়া। নতুন করে দল গড়ে উঠবে। সেই দল হয়তো আবার বিশ্বকাপ জিতে নেবে। ৩১ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে মন দিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে ক্লাব ক্যারিয়ার লম্বা করতে। ৩৩ বছর বয়সে সেদিকেও দাড়ি টেনে দিয়ে ইউনিসেফ এর চ্যারিটির আর স্ত্রী সন্তান নিয়ে মাদ্রিদে অলস সময় কাটানোর পরিকল্পনায় মগ্ন তখন জিদান। বার্নাব্যু জুড়ে তালির মধ্যে জাদুকর বেরিয়ে গেলেন ধন্যবাদ সহ। সেটা বার্নাব্যুতে কয়জনের ভাগ্যে জুটে?

 

কিন্তু ইতিহাস আসলে এভাবে শেষ হবে না। ফ্রান্স জিদানকে আবার ডাকবে এক গভীর সংকটের মুহুর্তে। রেমন্ড ডমেনেখ তখন গোল্ডেন জেনারেশান এর পরবর্তী যুগে ফ্রান্স কে আবার দাড়া করাতে চেষ্টা করছেন। রিবেরি বা মালুদাদের মত প্রতিভাবান ফুটবলার এর অভাব ও নেই। কিন্তু দলকে এক সুতায় গাথার সব আইকনরা যে একবারে দল ছেড়েছেন, তরুণদের নিয়ে দলের অবস্থা তখন দিশাহারা। ২০০৬ বিশ্বকাপ সামনে। পারফরমেন্স শোচনীয়। ডমেনেখ এর চাকরী সুতোয়। আরেকবার বিশ্বকাপ এর গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ার সামনে ফরাসীরা। ডাকে জিদান সাড়া দিলেন। বেঞ্চ এ বসে দলের হার দেখার ট্রমা কাটাতেই যেন ১০ নাম্বার জার্সি চাপিয়ে ফিরলেন জাদুকর। আরেকবার তিনি ফ্রান্স কে নিয়ে যাবেন সোনার কাপের সন্ধানে। আরেকবার হবেন দলের প্রাণভোমরা। আরেকবার তবে এই শেষবার! যোগ হলেন অভিজ্ঞ থুরাম, ভিয়েরা আর ত্রেজেগে।
টুর্নামেন্ট গড়াতে থাকল। জিদান কতদূর যাবেন? দল খোড়াচ্ছে। সুইজারল্যান্ড আর কোরিয়ার সাথে ড্র। টোগোকে ভিয়েরা আর অরির গোলে হারিয়ে শেষ ১৬ এর টিকেট কাটল ফ্রান্স। সেখানে প্রতিপক্ষ সব সময়ের ভাল দল স্পেন। বাঁচা মরার লড়াই এ জিদান সব সময় এগিয়ে আসেন। ১-০ তে পিছিয়ে পড়ার পরই জেগে উঠল দৈত্য। স্প্যানিশ সংগীত এর তাল কেটে জিদান,ভিয়েরা আর রিবেরি মাঝমাঠ নিজেদের করে নিলেন। ম্যাচ যত গড়াতে থাকল ফরাসীরা তত আগে বাড়তে থাকল। কমতে লাগল ভয়। ভিয়েরা গোল করে এগিয়ে নিলেন। ফরাসীদের অলস ফুটবলের সামনে ছটফট করতে থাকল স্প্যানিশরা। এর মাঝে ৯০ মিনিটে পুয়োল বল হারালেন। চোখে লেগে থাকার মত দুটি পাসে জিদানের পায়ে পৌছে গেল বল। সামনে স্পেন এর সেরা ডিফেন্ডার পুয়োল। বিশ্বের সেরা গোলকিপার ক্যাসিয়াস। জিদান এই সময়টাকেই বেছে নিলেন রীতিমত শিক্ষা দিতে যে কেন তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা। পুয়োলকে বামে স্ট্যাচু বানিয়ে স্বভাবসুলভভাবে বেশ ধীরে বামে ঢুকলেন এবং ক্যাসিয়াসকে যে কোণা থেকে শট নিলে তাঁর কিছুই করার থাকবে না সেটাই নিলেন। স্পেনের বিদায়।Image result for zidane 2006 world cup spain
ফর্মে ফিরেছেন জিদান। কিন্তু সামনে যে ব্রাজিল! ব্রাজিলকে পেলে জিদান যেন তেতে উঠেন আরো বেশি। এই ম্যাচে জিদান গোল পান নি। কিন্ত ম্যাচটি যারাই দেখেছেন তাঁদের সিংহ ভাগ বলেন জিদানের ফ্রান্স এর জার্সি গায়ে সেরা ম্যাচ এটি। জিলবার্তো সিলভা, কাকা, রোনালদিনহো আর যে রবার্তোকে নিয়ে গড়া মিডফিল্ড ৯০ মিনিট জিদানকে সামলাতে হিমশিম খেল। ক্লাব সতীর্থ রবার্তো কার্লোস আর প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে বন্ধু হয়ে যাওয়া রোনালদোকে দুই চারবার শিশুদের মত ঘোরালেন বলের পেছনে। শেষে থিয়েরি অরিকে জোগান দিলেন এমন এক বল যেটায় ব্রাজিলের অন্যতম সেরা দলের বিদায় বার্তা লিখে দিল। সেমিফাইনালে পর্তুগাল আর আরেক সতীর্থ ফিগোকে বিদায় করে যখন ফাইনালে পা রাখলেন তখন জিদান যেন বিশ্বকাপ জিতেন এই প্রার্থনা ফ্রান্স এর সীমানা ছাড়িয়ে যেন বিশ্ব দাবি! জিদান পেনাল্টিতে গোল করে একধাপ এগিয়েও গেলেন।

 

কিন্তু জিদান এর জীবন এ কোন পারফেক্ট স্ক্রীপ্ট মনে হয় নেই। যেদিন কেউ তাঁর সম্ভাবনা দেখেনি সেদিন তিনি নায়ক হয়ে বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছিলেন। আর যেদিন সবাই ধরেছিল তিনি বিশ্বকাপ জিতবেন সেদিন? সেদিন ফরাসি এলিগেন্ট জিদান এর ভিতরে বাস করা moment of magic জিদান বেরিয়ে এলেন Moment of madness মাথায় নিয়ে। এই দৃশ্য সবাই অনেকবার দেখেছেন। মাতারাজ্জিকে ঢুস মেরে ফেলে দিলেন পুরো টুর্নামেন্ট এ সর্বোচ্চ কার্ড পাওয়া জিদান। টুর্নামেন্ট এ তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। হয়েছেন সেরা খেলোয়াড়। অথচ কয়েক মিনিটের জন্য জিদান এর কেন তর সইল না? সইল না কারণ জিদান এমনই। নিজের বিচারে যা সঠিক তিনি তাই করেন। জিদান নাটকীয়তায় বিশ্বাস না করেই পারেন না। বিশ্বকাপের পাশ দিয়ে মুখ এ হাত দিয়ে জাদুকর বেরিয়ে গেলেন। মাঠের অলস জাদুকর যেন বেরিয়ে গেলেন যত দ্রুত পারেন!হাতের ব্যান্ড টা খুলতে খুলতে- কে জানে, হয়তো মনে মনে বলে গেলেন All right, I owe you another world cup!

Image result for zidane 2006 world cup final

 

জিদান ৪৫ বছর বয়সেও আজ বদলাননি। এখনো জন্মগতভাবে বিজয়ী। যে রিয়াল মাদ্রিদ এর জন্য জাতীয় দলের ক্যারিয়ার ছোট করেছিলেন সেই রিয়াল মাদ্রিদ এর বিপদে তাঁদের হাল ধরে খেলোয়াড় এর পরে কোচ হিসাবেও অমরত্বের হিসাবটা গুছিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু জিদান আজও নাটকীয়! আজও moment of madness তাকে তাড়িত করে, চালিত করে। নাহলে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ইতিহাসের সফলতম কোচদের ছুঁয়ে ফেলতে যার মাত্র আড়াই বছর লাগল তিনি এভাবে চলে যাবেন কেন? তবে কী আবার নীল জার্সির ডাক শুনতে পাচ্ছেন? তাঁর মনের কোনায় কি উকি দিতে শুরু করেছে যে তিনি ফরাসীদের কাছে একটা বিশ্বকাপের দেনা হাতে নিয়ে বার্লিনে বের হয়ে এসেছিলেন? জিদানের জীবন অন্তত একটিবার স্ক্রীপ্ট এ লেখা হোক না স্বাভাবিক ভাবে। অলস জাদুকরের অমরত্ব আরো দীর্ঘায়ু হোক।

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।