• ফুটবল

মানবতার এক নাম: CR7 (একজন ক্রাই বেবির গল্প )

পোস্টটি ৩৬৭৬ বার পঠিত হয়েছে

মানবতার এক নাম: CR7 (একজন ক্রাই বেবির গল্প )

34843621_1991111357802341_7462670371615932416_n

মাদেইরা নামক ছোট একটি শহর, টিনের তৈরি একটি ছোট্ট বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে কোন রকমে দিনানিপাত করছেন এক মালি। মালির স্ত্রী সন্তানদের দেখবাল করেই সারা দিন কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে কাটিয়ে দেন। সামান্য মালির কাজ করে কতটুকুই আর রোজগার করা যায়? কাজ শেষে ক্লান্ত দেহ নিয়ে ঘরে ফিরে আসেন পিতা জোসে দিনিস। আর স্বামীর ঘামে ভেজা মুখের দিকে পরম মমতায় তাকিয়ে থাকেন স্ত্রী মারিয়া ডোলোরেস।এভাবেই কেটে যাচ্ছে হাসি আর কান্নায় তাদের অভাবের যাপিত জীবন।

পর্তুগালের আকাশে আজ ভরা পূর্ণিমা, মাঝে মাঝে মেঘের পট্টি এসে চাঁদটাকে ঢেকে দেওয়ার ব্যার্থ চেষ্টা করছে। মেঘ আর চাঁদের লুকোচুরিতে জোসে দিনিস খুবই মজা পাচ্ছেন। তিনি মনের আনন্দেমদের বোতল নিয়ে বাইরে বসে বসে পূর্ণিমার আলোয় গা ভাসিয়ে দিয়ে মদের বোতলের গায়ে হাত বুলাচ্ছেন।

এদিকে স্ত্রী মারিয়া তীব্র প্রসব বেদনায় কাতর। সময়টা ছিল ১৯৮৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখ। এই মহাবিশ্বে জন্ম নিলে এক তারকা। যে তারকা জমিনের বুকে জ্বলজ্বল করে উঠলো, আগামীর সম্ভাবনার একজন হয়ে।পিতা মদের বোতল ফেলে দিয়ে ছুটে গিয়ে আপন পুত্রকে কুলে তুলে নিলেন। জোসে দিনিস ছিলেন এক সময়ের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের বিশাল ভক্ত। পিতা তাই পুত্রের নাম রাখলেন আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও অভিনেতা রোনাল্ড রিগ্যান এর নামানুসারে । ছেলের নাম রাখলেন ক্রিস্টপুরো নাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ডোস সান্তোস আভেইরা। আভেইরা ছিল তাদের পারিবারিক বংশের নামের অংশ। আমদের সবার আজকের CR7। যদিও পর্তুগাল নামের সাথে এই নামটি কোন ভাবেই যায়না। যাই হোক পিতা রেখেছেন পুত্রের নাম এটাই আসল কথা।

তার অন্য পুত্র যেখানে গান বাজনায় মগ্ন থাকত সারাক্ষণ। তার এই পুত্র রোনালদো হলেন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। সারাদিন বল নিয়ে পড়ে থাকতেন। রাতে ঘুমাতেন বল নিয়ে সকালে যদি বলটা আর খুঁজে না পান। একটা কষ্টের কথা শেয়ার করি খুব কম মানুষই জানে, এমনকি তার ভক্তদের মধ্যে অনেকেই হয়ত জানেন না, একটা সময়ে কতটা কষ্টের মধ্যে দিয়ে তিনি গেছেন । আজ তার আলিসান বাড়ি, কোটি টাকা দামের গাড়িসহ অনেক কিছুই আছে।

34877785_1991111314469012_3097924421290033152_nখুব অল্প বয়স থেকে ফুটবল শুরু তার । মাত্র আট বছর বয়সে প্রথমে “আন্দোরিনহা” নামে একটি অপেশাদার দলে তার ক্রীড়াজীবন শুরু হয়, যেখানে তার বাবা কাজ করতেন । মাঠের ঘাস পরিস্কারের। রোনালদোর মা মারিয়া ডোলোরেস ছোটবেলা থেকেই তাকে ক্রাই বেবি বলে ডাকতেন, কারণ কোন ম্যাচ ভাল না খেললেই তিনি মাঠে বসে কান্নাকাটি করতেন । এখনো অবশ্য এই প্রচলনটি রয়ে গেছে, তার দলের অন্য খেলোয়াড়রা তাকে মজা করে এই নামেই ডাকেন । দিন যায় দিন আসে ছেলে ধীরে ধীরে বড় হয়, আস্তে আস্তে নাম ছড়াতে লাগল চারিদিকে। অবাক করার বিষয় মাত্র দশ বছর বয়সের মধ্যেই পর্তুগালে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়লো।

ন্যাশিওনালের হয়ে সেই সময়ে শিরোপা জেতার পর স্পোর্টিং দলের সাথে তিনি চুক্তিবদ্ধ হন । কিন্তু রোনালদোর ১৫ বছর বয়সে পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার হার্টে সমস্যা আছে । একেবারে গুরুতর সমস্যা। ডাক্তাররা তাকে বললেন বাঁচতে হলে ফুটবল খেলা ছেড়ে দিতে হবে। এছাড়া আর কোন উপায় নেই। তখন তার সামনে মাত্র দুইটি পথ খোলা ছিল, হয় ফুটবল ছেড়ে দাও, নাহয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হার্টের সার্জারি করাও । ফুটবল যার রক্তে মিশে গেছে এত সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নন তিনি। সে মৃত্যুর কথা না ভেবে হার্টের সার্জারি করালেন এবং সৌভাগ্যক্রমে সার্জারি সফল হয় ।

প্রিয় পাঠক অনেক্ষণ পড়লেন চাইলে এক কাপ চায়ের বিরতী নিতে পারেন। সামনে একটা করুণ গল্প আছে, তাই বললাম।

কিন্তু কিছু দিন পরেই যে তার জীবনে আর একটা কষ্টের অধ্যায় রচিত হবে আদতে তিনি কখনও তা কল্পনাও করেন নি।তার সবচেয়ে কাছের মানুষ, সবচেয়ে প্রিয় মানুষ তার বাবা অতিরিক্ত মদ খাওয়ার কারণে মারা যান। বাবার মৃত্যুতে রোনালদোকে অনেক বেশি ভেঙ্গে পড়েন কারণ তার জীবনে বাবা এমন একজন বন্ধু ছিলেন যার সাথে সে তার সব কথা শেয়ার করতে পারত । সেদিন থেকেই রোনালদো প্রতিজ্ঞা করেন যে তিনি নিজে কখনো মদ ছুঁয়েও দেখবেন না । এবং তিনি তাঁর প্রতিজ্ঞা রেখেছেন ।

এই গল্পটা হয়ত অনেকেই জানেন কিনা জানি না। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আজকের CR7 হওয়ার পিছনে বন্ধুত্বের এক বিরল নিদর্শন লুকিয়ে রয়েছে। সে অনেক দিন আগের কথা। সে সময় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো অন্ধুর্ধ্ব ১৮ চ্যাম্পিয়নশীপে খেলতেন। একই দলে অ্যালবার্ট ফ্যানত্রাও নামে রোনালদোর আরও এক বন্ধু খেলত। একদিন স্পোর্টিং লিসবন ক্লাবের ম্যানেজার তাদের খেলা দেখতে এসে বলেন “ফাইনালে তোমাদের মধ্যে যে বেশি গোল করবে তাকেই আমরা আমাদের একাডেমী দলে নিব।”

ম্যাচটা ৩-০ গোলে জিতে রোনালদোরা। যার মধ্যে ১ম গোলটি করেন রোনালদো এবং ২য় গোলটি করেন ফ্যানত্রাও। ৩য় গোলের সময়ই ফুটে উঠল বন্ধুত্বের উজ্জ্বল নিদর্শন। আহারে একেই বলে বন্ধুত্ব! ফ্যানত্রাও গোলকিপারকে কাটিয়ে ফাঁকা পোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, সামান্য একটা টোকা দিলেই গোল। ঐ যে বললাম আদর্শ বন্ধুত্ব! ফ্যানত্রাও কি করলেন বল পাস করলেন পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রোনালদোর দিকে। রোনালদো অবাক চোখে কিছুক্ষণ বন্ধুকে দেখলেন। তারপর ফ্যানত্রাও এর বাড়িয়ে দেওয়া পাসে রোনালদো সহজেই গোলটি করে এবং স্পোর্টিং লিসবন একাডেমীতে খেলার সুযোগ পেয়ে যায়। চিরকৃতজ্ঞ রোনালদো বন্ধুকে ভুলে যাননি, আসলে ভালবাসার কোন মূল্য হয়না। কিন্তু রোনালদো তাকে গাড়ী, বাড়ী অনেক উপহার দিয়েছেন বন্ধুত্বের এই অবদানের জন্য। ফ্যানত্রাও একটি সুন্দর কথা বলেছিলেন সেদিন গোলটা আমি দিতে পারতাম, কিন্তু এই পৃথিবী তোমাকে চায়। তুমি আমার চেয়ে অনেক ভালো খেল, তাই ওটা তোমার প্রাপ্য ছিল। এরই হল বন্ধুত্ব!

লেখাটা পড়তে খুব বিরক্ত লাগছে? লাগারি কথা আমি তেমন লিখতে পারিনা । এই পর্যন্ত যারা পড়েছেন আশা করি বাকিটুকু শেষ করে উঠবেন কি বলেন?

এবার আসুন অন্য একটা কঠিন আলোচনায় যাই, রোনালদোকে পরীক্ষা করা প্রয়োজন কি তার গোপন রহস্য? শুরু হল তাকে নিয়ে গবেষণা আর গবেষণা শুধুই গবেষণা। রোনালদোর ফরোয়ার্ডের পেশিবহুল শরীরের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী খেলোয়াড় আছে কি? আসলে নেই। নেই দেখেইতো এত গবেষণা।

রোনালদোর এই ৩৩ বয়সেও এত চমৎকার খেলার রহস্য কী? এত শক্তি কোথায় পায়? সেটা জানতেই তাঁর শরীর নিয়ে যেন রীতিমতো কয়েকবার গবেষণার কারুকাজ চলেছে অনেকদিন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম দেপোর্তেস কোপের সংবাদকর্মী আরাঞ্চা রদ্রিগেজ এর মধ্যে অনেক কষ্ট করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। তিনি বলেন ৩৩ বছর বয়সী এই রোনালদো যেন ২৩ বছরের টগবগে যুবক! তারা বলল ,কি বললেন বুঝলাম না ,আবার বলেন। তার গবেষক রদ্রিগেজ জানালেন রোনালদোর শরীরের গঠন বিশ্লেষণ করে কিছু অবিশ্বাস্য তথ্য পেয়েছি। 
বলেন কি? জলদি বলুন। তিনি বললেনযেমন ধরুন, ফুটবলারদের শরীরে সচরাচর চর্বির হার গড়ে যেখানে ১০-১১ শতাংশ, রোনালদোর সেখানে মাত্র ৭ শতাংশ।

রোনালদোর শরীরে পেশির অনুপাত ৫০ শতাংশ, যেখানে অন্য ফুটবলারদের ক্ষেত্রে তা সচরাচর ৪৬ শতাংশ টপকাতে পারেনি। তুরিনে বাইসাইকেল কিকে তাঁর গোলটি মনে আছে? আশা করি অনেকেই বলবেন হ্যা হ্যা মনে থাকবেনা আবার?গোলটি করতে রোনালদোকে বেশ উঁচুতে লাফাতে হয়েছে। রদ্রিগেজের মতে, লাফ দেওয়ার সময় তিনি যে পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করে যতটা উঁচুতে ওঠেন, তাতে শরীর বিজ্ঞানের হিসাবে রোনালদোর বয়স দাঁড়ায় ২৩ বছর!34845058_1991111417802335_5511310336398983168_n

এবার আসুন মানুষটার মানবতার কিছু কথা জেনে আসি। যেখানেই মানবতার আর্তনাদ, যেখানেই মানবতা বিপন্ন, সেখানেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কি কথাটা আজগুবী শুনাচ্ছে? কিন্তু এটাই সত্য এটাই বাস্তব। ফিলিস্তিন, মিয়ানমারসহ বিশ্বের অনেক শিশুদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন CR7 খ্যাত এই তারকা।নিজের এই ‘মানবপ্রেমের’ পরিচয় বহুবার দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের সুপারস্টার। দুস্থ, অসহায়, রোগাক্রান্ত শিশুদের জন্য ভালবাসা বিলিয়েছেন অনেকবার। করেছেন আর্থিক সহায়তা।

সিরিয়ার যুদ্ধ-বিধ্বস্ত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের সেই মানবিক গুণের পরিচয় আরও একবার দিলেন রোনালদো। শুধু পাশে থাকার ঘোষণাই নয়, এক ভিডিও বার্তায় রোনালদো সিরিয়ার রাসায়নিক গ্যাস হামলায় দগ্ধ শিশুদের জোগালেন অনুপ্রেরণা। দিলেন বেঁচে থাকার সাহস। ভিডিওটি ইউটিউবে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন।

রোনালদোপাঠিয়েছেন এক ভিডিও বার্তা। আবেগঘন সেই ভিডিও বার্তায় ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদো যুদ্ধ-বিধ্বস্ত শিশুদের বেঁচে থাকার আশা জুগিয়েছেন। ভিডিও বার্তায় রোনালদো বলেছেন,‘হ্যালো, সিরিয়ার শিশুরা, আমার এই বার্তাটা তোমাদের জন্য। আমরা জানি তোমরা অনেক সংগ্রাম করছ, কষ্ট করছ। আমি খুব বিখ্যাত একজন খেলোয়াড় হতে পারি। কিন্ত তোমরাই সত্যিকারের বীর, প্রকৃত যোদ্ধা। তোমরা আশা হারিও না। নিজেদের যত্ন নিও। বেঁচে থাকার চেষ্টা করো। পুরো বিশ্ব তোমাদের সঙ্গে আছে। আমিও তোমাদের সঙ্গে আছি। এই হল মানবতা! গেল বছরে ফিলিস্তিনিকে ৩মিলিয়ন ডলার দিয়ে সহায়তা করেছে এইমানুষটি। নাম তার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

তার ধর্ম কিন্তু ইসলাম না, সে খৃষ্টান। কিন্তু তার মানবতাবোধ আর সবার চেয়ে উন্নত। বিশ্বকাপের প্রীতি ম্যাচে এই তারকা ইসরায়েলি প্লেয়ারদের সাথে ক্ষোভে শার্টও বদলাননি। অনেকেই এই দৃশ্যটি দেখেছেন টিভি পর্দায়। ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতে মুসলিম হওয়া লাগে না। দরকার মানবতার!

রোনালদো তার ২০১০-১১ মৌসুমে অর্জিত গোল্ডেন বুটটি ফিলিস্তিনি মুসলমান অনাথ শিশুদের চিকিৎসা ও শিক্ষা বাবাদ দান করেন যার মূল্য ১৫কোটি টাকা। রোনালদো তার অর্জিত বাৎসরিক আয়ের একাংশ মুসলিমএতিম খানাইয় দান করেন। ইসলামের প্রতি এই উদারতা দেখে সৌদি রাষ্ট্রপতি তাকে উপহার হিসেবে পবিত্র কোরআন শরীফ দেন এবং রোনালদো তা সাদরে গ্রহন করেন।35102553_1991111361135674_6137863515613954048_n

PEPSI কোম্পানির আয় দিয়ে ইসরাইল তাদের যুদ্দের অস্ত্র তৈরি করে বলে, রোনালদো পেপসির এড করেন না। রোনালদো তার মানচেস্টারের বাড়ি বিক্রি করে সিরিয়ায় ৫ হাজার ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। রোনালদো চ্যাম্পিয়ানস লীগ জয়ের জন্য দল থেকে যে টাকা বকসিস পেয়েছিল, তা দাতব্য চিকিৎসালয়ে দান করেন। রোনালদো এক শিশুর ব্রেইন অপারেশনের জন্য নিজের অটোগ্রাফসহ জার্সি এবং ব্রান্ডের একজোড়া বুট বিক্রি করে সব টাক দান করে দেন।

এরই নাম মানবতা, এরই নাম CR7
সবাই ভালো থাকবেন।
ধন্যবাদ, 
মনির মোহাম্মদ!

তথ্য সুত্র ১।www.britannica.com/biography/Cristiano-Ronaldo
২।www.thefamouspeople.com/profiles/cristiano-ronaldo-4103.php
৩।www.youtube.com/watch?v=beHQ7-DppEk 
৪।www.sportskeeda.com/…/ronaldos-golden-rumour-unlikely-to-be…

৫।ছবিঃ Goal .com

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।