• ফুটবল

একজন জহুরীর গল্প - প্রথম পর্ব

পোস্টটি ৩০৫১ বার পঠিত হয়েছে

তিনি আমাদের জামানার আলেকজান্ডার, তিনি একজন জহুরীও, কারণ একজন জহুরী যেভাবে হীরে খুঁজে বের করেন ঠিক একই ভাবে তিনি সেরা খেলোয়ার তুলে আনতে পারতেন, বলছি স্যার এলেক্স ফার্গুসনের কথা, তিনি ফুটবলের ইতিহাসে সবথেকে সফল কোচদের একজন, চলুন তার খেলোয়াড়ী জীবন সম্পর্কে জেনে নিই আজ

খেলোয়াড়ী জীবন :

ফার্গুসনের খেলোয়াড়ী জীবনের শুরু হয় ১৬ বছর বয়সে কুইন্স পার্কের এমেচ্যার দলের হয়ে একজন ফরোয়ার্ড হিসেবে, তার প্রথম ম্যাচ সম্পর্কে তিনি বলেন "ওটা একটা দুঃস্বপ্নের মত ছিল", তিনি ওই ম্যাচে যদিও একটি গোল করেন তারপরেও তার দল ২-১ ব্যবধানে। কুইন্স পার্কের হয়ে তার সবচয়ে বড় হার ছিল কুইন অফ দ্যা সাউথ এর সাথে ৭-১ ব্যবধানে, কুইন্স পার্কের ওই একটি গোল এসেছিল ফার্গুসনের পা থেকেই, ওই বছর ৩১ ম্যাচ খেলে ২০ গোল করার পরেও তিনি টিমে রেগুলার হতে পারছিলেন না, এজন্যে ১৯৬০ সালে তিনি সেন্ট জনস্টনে চলে যান, যদিও সেখানে যেয়ে তিনি রেগুলার গোল পাচ্ছিলেন কিন্তু তারপরেও তিনি ফার্স্ট ইলিভেনে চান্স পাচ্ছিলেন না। ফার্গুসন আবার মুভ করার কথা চিন্তা করছিলেন কিন্তু তারপরের সিজনের শুরুর আগেই জনস্টন তাদের মেইন স্ট্রাইকারকে ছেড়ে দেয় এবং নতুন কাউকে আনতে পারে নি, তাই শেষমেষ তারা ফার্গীর উপরই ভরসা রাখেন এবং ফার্গী দলের ফার্স্ট ইলিভেনে চান্স পান। ১৯৬৪ সালে ডানফার্মলিন তাকে প্রথম প্রফেশনাল চুক্তি অফার করে এবং তিনি ডানফার্মলিনে জয়েন করেন এবং তার প্রফেশনাল ক্যারিয়ার শুরু হয়।

সেই সিজনে ডানফার্মলিন লিগ এবং স্কটিশ কাপ জেতার সুবর্ণ সুযোগ পেলেও জিততে পারে নি, স্কটিশ কাপ ফাইনালে তারা সেল্টিক এর কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় আর লিগ হারায় এক পয়েন্ট এর জন্যে, এর পরের সিজনে ফার্গুসন খেলেন ৫১ ম্যাচ খেলেন আর গোল করেন ৪৫ টি, লিগে ছিল ওই সিজনের স্কটিশ লিগের সর্বোচ্চ ৩১ গোল। 

এর পরের সিজনে তিনি ৬৫০০০ পাউন্ডের বিনিময়ে রেঞ্জার্সে যোগদান করেন যা ঐ সময়ের সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি ছিল, এর পরের রেঞ্জার্সের সাথে তার সময় তত ভালো যায় নি, তার স্ত্রী ক্যাথলিক ছিল সেই জন্যে তাকে ক্লাবে বৈষম্যের মুখে পড়তে হয়, স্কটিশ কাপ ফাইনালে তাকে দায়িত্বে দেয়া হয়েছিলো সেল্টিক এর ক্যাপটেন কে মার্ক করার জন্যে কিন্তু সেই ম্যাচে সেল্টিক ক্যাপটেন বিলি ম্যাকনেইল এর জোড়ে সেল্টিক স্কটিশ কাপ জিতে যায় এবং রেঞ্জার্সের ফার্গুসনকেই তাদের হারের জন্যে দায়ী করে এবং ফলস্বরূপ রেঞ্জার্স তাকে জুনিয়ার টিমে ডিমোট করে। তার ভাই এই ব্যাপারে বলেন " ও এটা শুনে এতটাই আপসেট ছিল যে স্কটিশ কাপ রানার্স আপের মেডেল ও ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল", আর সেই বছরই ফার্গুসন রেঞ্জার্সের সাথে তার সব সম্পর্ক ছিন্ন করেন, 

ওই বছরের অক্টোবর মাসে নটিংহ্যামফরেস্ট তাকে সাইন করাতে চেয়েছিলো, কিন্তু তার স্ত্রী তখনই ইংল্যান্ড যাওয়ার জন্যে প্রস্তুত ছিলেন না, যার ফলে তিনি ফলকার্ক এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হন, তিনি এই ক্লাবের হয়ে যথাযথ প্লেইং টাইম পাচ্ছিলেন এবং লিগ গেম গুলোতেও বেশ ভালো সময় পাচ্ছিলেন, তিনি সেখানে ৪ বছর ছিলেন এবং এই সময়টাতে তাকে তার অভিজ্ঞতার জন্যে ফলকার্ক তাকে খেলোয়াড় এবং কোচ দুটোতেই নিয়োগ দেয়, কিন্তু ১৯৭৩ সালে জন প্রেন্টিস ফলকার্কের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলে ফার্গুসন তার ট্রান্সফারের জন্যে অনুরোধ করেন এবং সেই বছর তিনি এয়ার ইউনাইটেডে যোগদান করেন এবং এক বছর খেলে তিনি খেলোয়াড়ী জীবন এর ইতি টানেন, তিনি সিনিয়র ক্যারিয়ারে খেলেছেন  ৩১৭ ম্যাচ এবং গোল করেছেন ১৭১ টি।

এই তো গেলো তার খেলোয়াড়ী জীবনের গল্প, পরবর্তী পোষ্টে তার ইউনাইটেড পূর্ববর্তী কোচিং ক্যারিয়ার নিয়ে লেখার চেষ্টা করবো,

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।