• অন্যান্য

বাংলাদেশ এবং কাবাডি

পোস্টটি ১০৯০ বার পঠিত হয়েছে

আমরা প্রত্যেকেই ছোটবেলায় সাধারনজ্ঞান বই তে পড়ে আসছি বাংলাদেশ এর জাতীয় খেলা হা-ডু-ডু । কিন্তু হা-ডু-ডু কিংবা কাবাডি সম্পর্কে আমাদের অধিকাংশ দের জ্ঞান ওই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। হা-ডু-ডু এবং কাবাডি প্রায় এক ই রকম কোর্ট এর সাইজ এর পার্থক্য ছাড়া আর কোন মৌলিক পার্থক্য নেই, হা- ডু- ডু র কোর্ট  অনেক সময় কাবাডির চেয়ে ছোট হয়ে থাকে।

 

এখন আমরা কাবাডির নিয়ম কানুন এবং খেলার ধরন সম্পর্কে একটু ধারণা নেব। কাবাডি তে প্রত্যেক দলে ৭ জন খেলোয়াড় থাকে, খেলা টিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় অফেন্স এবং ডিফেন্স। অফেন্সের একজন খেলোয়াড় যাকে রাইডার বলা হয় সে প্রতিপক্ষের কোর্টে গিয়ে ডিফেন্ডার দের টাচ করতে চেষ্টা করে এবং ডিফেন্ডার রা রাইডার তার নিজের কোর্টে ফিরে যাবার আগে তাকে আটকানোর চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে রাইডার কে একদমে ডিফেন্ডার দের টাচ করে নিজের কোর্টে ফিরে আসতে হবে। রাইডার যতজন ডিফেন্ডার কে টাচ করবে তত পয়েন্ট কাউন্ট হবে এবং প্রতিপক্ষ রাইডার কে আটকানোর মাধ্যমে পয়েন্ট পাবে। যাদের টাচ করা হয় তারা খেলা থেকে বাদ হয়ে যায় কিন্তু তারা পয়েন্ট পেলে আবার খেলায় ফিরে আস্তে পারে। কাবাডির কোর্ট সাধারণত ১০ বাই ১৩ মিটার এর হয়ে থাকে এবং দুই হাফ এ খেলা হয়ে থাকে প্রত্যেক হাফ ২০ মিনিট করে এবং মাঝখানে ৫ মিনিট বিরতি থাকে।

 

আমাদের জাতীয় খেলা কাবাডি হলেও এই সম্পর্কে আমাদের আগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য একেবারে শূন্যের কোটায়। এই পর্যন্ত ৩ বার কাবাডি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রত্যেক বার এ ইন্ডিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এশিয়ান গেমস এ সিলভার আমাদের কাবাডি তে সেরা সাফল্য। আগে বাংলাদেশ ইন্ডিয়া র প্রধান প্রতিপক্ষ হলেও এখন সে জায়গা ইরান দখল করে নিয়েছে। বাংলাদেশ এর কাবাডি তে এই করুন অবস্থা যদিও অনুমিতই, বাংলাদেশ ক্রিড়া প্রশিক্ষণ অধিদপ্তর এর কোন কাবাডি ডিপার্ট্মেন্ট নেই, পুরা বাংলাদেশ এ কাবাডির কোচ মোট ৫ জন, নেই কোন স্পন্সর।বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জ থেকে এক সময় কাবাডির অনেক খেলোয়াড় উঠে আসলেও ,  ১৯৯৫ এর পর থেকে ডিফেন্স সার্ভিস এর বাইরের কোন প্লেয়ার আমাদের কাবাডি জাতীয় দলের খেলে নাই।  

 

আমাদের পাশের দেশ ভারত এর কাবাডি তে উন্নতি দেখে আমাদের হিংসা হওয়া দোষের কিছু নয়, মার্কেটিং এর মাধ্যমে যে কাবাডি র মত খেলা গুলাকেও জনপ্রিয় করা যায় তার উজ্জ্বল উদাহরণ ইন্ডিয়া র প্রো কাবাডি লিগ। ২০১৪ সালে আই পি এল এর আদলে গড়ে তোলা হয় ফ্রাঞ্চাইসি ভিত্তিক এই কাবাডি লিগ, ইন্ডিয়া র ধোনি, কোহলি এবং বলিউডের অভিষেক বচ্চন এর মত সেলেব্রেটিরা এই কাবাডি লিগ কে দর্শক দের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন। ২০১৪ সালে প্রায় ৪৩৫ মিলিয়ন দর্শক এই লিগ দেখেছেন । এই লিগ থেকে প্লেয়ার রাও আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন, এর মাধ্যমে অনেকে আবারও কাবাডি খেলার প্রতি আগ্রহি হচ্ছেন। শুধু ইন্ডিয়া না পাকিস্তান ও ২০১৮ সাল থেকে সুপার কাবাডি লিগ নামে ফ্রাঞ্চাইসি ভিত্তিক কাবাডি লিগ চালু করেছে এবং ব্যাপক সাফল্য লাভ করেছে।

 

আমাদের দেশের মৃতপ্রায় কাবাডি কে বাঁচাতে চাইলে ফ্রাঞ্চাইসি ভিত্তিক লিগ এর কোন বিকল্প নেই। প্লেয়ার দের আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী করতে এটা আবশ্যক । বাংলাদেশ ক্রিড়া প্রশিক্ষণ অধিদপ্তর কে কাবাডি কে বাঁচাতে এগিয়ে আসতে হবে,  স্পন্সর এর বাবস্থা করতে হবে ,উন্নতমানের প্রশিক্ষণ এবং কোচের অধীনে খেলোয়াড় দের প্রশিক্ষণ এর সুযোগ করে দিতে হবে। জনমনে কাবাডি সম্পর্কে আগ্রহের সঞ্চার করতে হবে। নতুবা কাবাডি অথবা হাডুডু শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান এর বইয়ের পাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে আজীবন।kabaddi-1534768713052

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।