• ফুটবল

আমার দেখা সেরা ফুটবল ম্যাচ

পোস্টটি ১৬৫৭ বার পঠিত হয়েছে

আমাকে যখন ই কেউ প্রশ্ন করে তোমার দেখা সেরা ম্যাচ কোনটা, আমি তখন ২০০৬ সালের ৯ জুলাই রাত ১২ টায় ফিরে যাই। সেদিন ছিল বিশ্বকাপ ফাইনাল,খেলেছিল ইতালি আর ফ্রান্স। আমার বয়স ছিল ১২ বছর, পুরা এলাকায় ইটালি র একমাত্র পতাকা ছিল আমার বাসায়, খুব excited ছিলাম বিকাল থেকেই,আম্মুর কাছ থেকে সারা রাত জাগার অনুমতি নিয়ে রেখেছিলাম আগে থেকেই। রাত ১২ টায় এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ শাকিরার ‘ hips don’t lie’ গানের পর ফাইনাল শুরু হয়ে গেল। আগে আমি ইটালি র টট্টি ছাড়া আর কাওকে চিনতাম না,কিন্তু আগের ৬ টা খেলা দেখার পর প্রায় সবাইকেই চিনে গেছিলাম, বিশ্বকাপ শুরু হয়ার আগে কেও কল্পনাও করে নাই যে ইটালি আর ফ্রান্স ফাইনাল খেলবে কিন্তু সেই অকল্পনীয় কল্পনা টা সেদিন রাতে সত্যি ছিল। রেফারির বাঁশি দেবার পর খেলা শুরু হয়ে গেল, প্রথম কয়েক মিনিট সমানে সমানে খেলা চলছিল, কিন্তু ১২ মিনিটে বার্থেজ এর লং বল হেড করে মালুদা কে দেন থিয়েরি অরি, মালুদা বল নিয়ে পেনাল্টী বক্স এ ঢুকে পরলে তাকে ফেলে দেন মাতেরাজ্জি। পেনাল্টি পায় ফ্রান্স, এভাবে পিছিয়ে পড়বে ইটালি এটা ভাবতে কষ্ট হচ্ছিল খুব। পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসলেন জিনেদিন জিদান, অবসর ভেঙ্গে যিনি সেবারের বিশ্বকাপ এ এসেছিলেন, মঞ্চটা তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল, ঠাণ্ডা মাথায় বলকে চিপ করে বিশ্বকাপের সেরা গোলকিপার বুফন কে বোকা বানালেন তিনি,বল বারে লেগে গোলের ভিতরে গিয়ে পড়ল, রিফারি গোলের বাঁশি দিলেন ফ্রান্স ১-০ তে এগিয়ে গেল। অনেক হতাশ হয়ে পড়লাম, কিন্তু আমি হতাশ হলেও ইটালি দল ছিল উজ্জীবিত ,তাদের বিশ্বাস ছিল তারা সমতা ফেরাতে পারবে। গোল খাবার পর একের পর এক আক্রমন চালাতে থাকে তারা ফ্রান্সের গোলমুখে, এর এ মধ্যে কর্নার আদায় করে নেন কামেরনেজ্জি, কর্নার নিতে আসেন পিরলো, যিনি তার সেট পিচ ডেলিভারি দিয়ে এই বিশ্বকাপে সবাই কে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। অনেকটা উঁচু করে কর্নার করলেন অনেক উচু তে লাফ দিয়ে হেড করলেন মাতেরাজ্জি, বল চলে গেল ফ্রান্সের জালে , স্কোরলাইন ১-১। কিছুক্ষন আগে ফ্রান্স কে পেনাল্টি উপহার দিয়ে ভিলেন বনে যাওয়া  মারকো মাতেরাজ্জি তখন হয়ে ইটালিয়ান হিরো। আসলে ফাইনাল টা ছিল জিদান আর মাতেরাজ্জির, সে বিষয়ে পরে আসছি ।  খেলায় সমতা আসার পর দুই দল ই একের 

পর পর আক্রমন করতে থাকে কিন্তু স্কোরলাইনে কোন পরিবর্তন আনতে বার্থ হয়। মাঝে লুকা টনির হেড গোললাইন থেকে ফিরে আসে, থিয়েরি অরির নিচ্ছিত গোল বাচিয়ে দেন জাম্ব্রতা। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে ,আসল নাটকের শুরু তখন থেকেই। খেলা শুরুর কিছুক্ষনের মধ্যেই জিদানের হেড অবিশ্বাসও ভাবে ঠেকিয়ে দেন বুফন। খেলার একপর্যায়ে হটাত করেই খেলা থেমে যায়, খেয়াল করে দেখি মাতেরাজ্জি মাঠে শুয়ে কাতরাচ্ছে আর ইটালি র প্লেয়ার রা সবাই জিদানের দিকে ছুটে যাচ্ছে। রেফারি সবাইকে শান্ত করার পর সহকারি রেফারির কাছে যান ফিরে এসে জিদানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান তিনি। রিপ্লেতে দেখা যায় কোন এক বিষয়ে মাতেরাজ্জির সাথে কথা কাটাকাটী হয় জিদানের,এর এক পর্যায়ে মাতেরাজ্জিকে বুকে ঢুস দেন জিদান, লাল কার্ড দেখার ফলে বাকিটা সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় জিদানকে,কে জানে হয়ত জিদান থাকলে ফ্রান্স এর ঝুলিতে এখন ৩ টা বিশ্বকাপ থাকত। জিদানের মত লেজেন্ড এর এভাবে বিদায় নিতে হবে হয়ত কেও কল্পনাও করে নি কখনও। কিন্তু সেই রাত টাই ছিল সকল অসম্ভব কে সম্ভব করার রাত। ঘটনাবহুল এক্সট্রা টাইম এর পর খেলা গড়ায় ট্রাইবেকারে, সবাই গোল করলেও ফ্রান্সের হয়ে দুই নাম্বারে পেনাল্টি নিতে আশা ত্রেজেগে পেনাল্টি মিস করে বসেন, জিদানের মত তার কিক ও বারে লাগে কিন্তু গোল থেকে ফিরে আসে। নির্ধারক পেনাল্টি নিতে আসেন ইটালি র ফাবিও গ্রোসো, পাহাড় সম চাপ মাথায় নিয়ে পারফেক্ট পেনাল্টি মারেন তিনি, ইটালি র জার্সি র স্টার তিন থেকে চারে পরিণত হয়ে যায় তখনি। এর চেয়ে আরও অনেক উত্তেজনাপূর্ণ  ম্যাচ আমি দেখেছি কিন্তু এই ম্যাচটা আমার কাছে খুব স্পেশাল । অন্য কিছুর জন্য না হোক জিদানের পাগলাটে ঢুস এর সবাই এই ম্যাচটাকে সারা জীবন মনে রাখবে।  zinedine-zidane-france-italy-2006-world-cup-final_1fya0xdd5xyjt1o60h8w7z3ya1 (1)

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।