• ফুটবল

মেসুত ওজিল : একজন শৈল্পিক ফুটবলারের ক্যারিয়ার

পোস্টটি ১৪৬১ বার পঠিত হয়েছে

বিশ্বের সবচেয়ে প্রিয় ফুটবলার তালিকায় অনায়াসে জায়গা করে নিয়েছে এই শৈল্পিক ফুটবলার। বল কন্ট্রোল, বিশাল রেঞ্জের নিখুঁত পাস, গোল করাতে সহায়তা এবং অসাধারণ ব্যাক্তিত্বের প্রকাশ দেখিয়ে কুড়িয়েছে অগণিত ভক্ত। তিনি গোল করার ছেয়ে গোল করাতে সহায়তায় সবচেয়ে বেশি পরিচিত। রিয়াল মাদ্রিদের প্রাক্তন ম্যানেজার হোসে মোরিনহো তাকে জিনেদিন জিদানের সাথে তুলনা করেছেন। গোল দিতে সহায়তায় শুধুমাত্র জিদান নয়, তিনি ছাড়িয়ে গেছেন রোনালদিনহো, ডেভিড বেকহাম থেকে শুরু করে সবাইকে।

 

ক্যারিয়ারের সূচনা 

জন্ম ১৬ অক্টোবর,  ১৯৮৮ সালে। দাদা তুরস্কের কিন্তু বাবা-মা ও তার জন্ম জার্মানি। বেড়ে উঠা জার্মানির  জেলসেনকির্সেন শহরে। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা। কলেজে ফুটবল খেলায় মেতেছেন এবং সেখান থেকেই ফুটবলার হবার স্বপ্ন বাড়তে থাকে। একটি মজার তথ্য, তিনি যে কলেজের মাঠে ফুটবল খেলতেন সেখানে সিনিয়র ছিলেন ম্যানুয়েল নয়্যার গোলরক্ষক এবং জুনিয়র ছিলো মিডফিল্ডার ড্রেক্সলার। ক্লাস থেকে শহরের জনপ্রিয় ক্লাব শাকল জিরো ফোরের মাঠ দেখা যেত।              

1551988173342

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার 

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে উঠে আসে কোন দেশের হয়ে তিনি খেলতে চান। ফোরফোরটু মাগ্যাজিনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ওজিল জানান তার জার্মানিতে খেলার ব্যাপারে, ‘জার্মানিতে আমি আমার তৃতীয় প্রজন্ম, আমার বাবা-মা এখানেই বেড়ে উঠেছেন। তুরস্ক সর্বদাই আমার জন্য একটি  বিশেষ দেশ, কিন্তু আমি কখনই জার্মানির সাথে খেলার ব্যাপারে সংশয়ে ছিলাম না।  এইজন্যই আমি জার্মানির যুব দলে খেলা শুরু করি।’ 

জার্মানির অ১৭ দলে ডাকপায় সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে। খেলায় নিপুণতা দিয়ে নজড় কাড়ে সকলের। এরপর ২০০৭ সালে খেলেন জার্মানির অ২১ এর হয়ে। ২০০৯ উয়েফা অ২১ চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’  নির্বাচিত হন। 

১১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সালে নরওয়ের বিপক্ষে একটি ফেন্ডলি ম্যাচে অভিষেক ঘটে জাতীয় দলে। প্রথম দু ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে কোন গোল পায়নি। তৃতীয় ম্যাচে দক্ষিন আফ্রিকার বিরুদ্ধে তার জাতীয় দলের হয়ে গোলের খাতা খুলে। দক্ষিন আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ২০১০ ফুটবল বিশ্বকাপে জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়। প্রত্যেক ম্যাচে শুরুর একাদশের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। বিশকাপের শেষ ১৬ তে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলায় থমাস মুলারের একটি গোলে সহায়তা করেন। জার্মানি সেই ম্যাচ ৪-০ গোলে জিতে। ফিফা গোল্ডেন বল এওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। 

২০১২ উয়েফা ইউরোর বাছাইপর্বের জন্য তিনি জার্মানির অন্যতম শক্তি ছিলেন। বাছাইপর্বে ৫ গোল করে ওজিল এবং জার্মানি ১০ খেলায় ১০টি জিত নিয়ে উক্ত প্রতিযোগিতায় অবস্থান নিশ্চিত করে। 

২০১৪ বিশ্বকাপে একজন মিডফিল্ডার হিসেবে জার্মানি শিবিরে অংশ নেয়। ২০১৪ বিশ্বকাপবাছাইপর্বে ৮ গোল দিয়ে ওজিল সর্বোচ্চ গোলদাতা হন৷ এবং সেই বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেছে জার্মানি ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে।     

 

 

ক্লাব ক্যারিয়ার 

ওজিল প্রথমদিকে তার শহরের বিভিন্ন যুব ক্লাবে খেলা শুরু করেন। এরপর ৫ বছর  তিনি রট-উইস এসেনের হয়ে খেলেন। 

শাকল জিরো ফোর 

কলেজের ক্লাস রুম থেকে দেখা সেই শাকল জিরো ফোরের মাঠেই তার খেলা শুরু। ২০০৫ সালে শাকলের যুব দলে যোগ দেন। এখানে তিন বছর কাটিয়ে ক্লাবের সাথে বনাবনি না হওয়ায় ২০০৮ সালে তিনি শাকল ছেড়ে চলে যান অয়ের্ডার ব্রেমেনে। 

অয়ের্ডার ব্রেমেন

২০০৮ সালে ৪.৩ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে চলে আসেন অয়ের্ডার ব্রেমেনে। দলকে ২০০৯ ডিএফবি পোকাল জেতাতে ও উয়েফা কাপের ফাইনালে উঠাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। ২০০৯-১০ মৌসুমে ব্রেমেন বুন্দেসলিগায় সম্মানজনক ৩য় স্থান লাভ করে,  ওই মৌসুমে ওজিল ৩১ খেলায় ৯টি গোল করে ও ১৭ গোলে সহায়তা করে।   

FB_IMG_1551989083592

রিয়াল মাদ্রিদ 

২০১০ সালের বিশ্বকাপে ওজিল মুগ্ধ করে ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাব গুলোকে। বড় বড় জায়ান্ট ক্লাব তাকে ভিড়ানোর জন্য বিভিন্ন গুজব ছড়ানো শুরু করে। শেষ সব গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে হোসে মোরিনহো তাকে রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবে ১৫ মিলিয়ন ইউরো ফি দিয়ে নিজেদের দলে নেয়। ক্লাবে যোগ দেওয়ার পরে ওজিল বলেন, ‘যখন রিয়াল মাদ্রিদে যোগদানের  প্রস্তাব আসে তখন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ছিলো না। সত্য কথা বলতে আমি কখনই ক্লাবটিকে না বলতে পারবো না। তারা একটি প্রতিষ্ঠান যাদের চমৎকার ইতিহাস রয়েছে, বিশ্বমানের খেলোয়াড় আর স্টেডিয়াম রয়েছে। সুযোগটি এতই চমৎকার ছিলো আমি সেটি লুফে নিতে ঝাপিয়ে পড়ি।’  

তার অভিষেকের দিন রিয়াল মাদ্রিদ হারকিউলিসের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয়ী হয়। কাকার পরিবর্তন হিসেবে তাকে খেলানোর চিন্তাভাবনা ছিল ক্লাবের। কিন্তু কাকা বেশিরভাগ সময় ইঞ্জুরি থাকার কারনে সুযোগ পায় ওজিল নিজেকে প্রমাণিত করার। এরপর পাড়ি জমান আর্সেনালে। 

FB_IMG_1551989167044

আর্সেনাল 

বর্তমানে আর্সেনালে রয়েছেন এবং ২০২১ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন নতুন করে। ২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দাম দিয়ে কিনে নেয় এই ক্লাবটি। তখন জার্মানির সর্বকালের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হন। আর্সেনাল তাকে ১১ নম্বর জার্সি ও সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারের ভূমিকা দেয়। 

 

877acece-8fc8-11e8-ad1d-4615aa6bc452_1280x720_141015

জাতীয় দল থেকে অবসর

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে অত্যন্ত খারাপ পারফরম্যান্স ও গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়া। এমন সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সাথে সৌজন্য মূলক সাক্ষাৎ জার্মানি মিডিয়া জগাখিচুরি বানিয়ে ফেলে। তখন জার্মানির সাথে তুরস্কের রাজনৈতিক তোলপাড় চলে। একই সাথে জার্মান দর্শক উগ্রবাদী হয়ে বর্ণবাদের দিয়ে নিয়ে যায়। ওজিল সবকিছুর ক্ষোভ প্রকাশ করে জার্মান জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষনা দিয়ে। জার্মানির এমন কার্যকলাপ সারা বিশ্বের কাছে ছিল একটি লজ্জাজনক ব্যাপার। অবসরে যাওয়ার পর ওজিল বলেন, ‘আমি জিতলে জার্মানি জিতে যায়, আর হারলে আমি হয়ে যাই শরনার্থী’।                         

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।