• ক্রিকেট

"ক্লান্ত" ডি ভিলিয়ার্স!

পোস্টটি ২৪৬৩ বার পঠিত হয়েছে

৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটসম্যান খ্যাত আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি ভিলিয়ার্স। আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার।  ব্যাটিং কিংবা ফিল্ডিং যেকোনো স্থানে তার রিপ্লেসমেন্ট খুঁজে পাওয়া দায়। তিনি দলের প্রয়োজনে তো আবার উইকেট কিপিং করতেও ওস্তাদ। ৪২০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার রান ২০০১৪, যার মধ্যে ৪৭টি  শতক এবং ১০৯টি অর্ধশতক। আর ক্রিকেটের রেকর্ড বইতেও তার নাম বেশ উজ্জ্বল। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দ্রুততম ১৫০(৬৪ বলে), দ্রুততম শতক(৩১ বলে) এবং দ্রুততম অর্ধশতক(১৬ বলে) এর মালিক ডি ভিলিয়ার্স। এছাড়াও তিনি খুব ভালো গলফার, ভালো টেনিস ও রাগবি খেলোয়াড়।

২০১৮ সালের ২৩শে মে গোটা বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে এবং কোটি ভক্তকুলকে হতাশ করে দিয়ে হটাত অবসরে চলে যান ডি ভিলিয়ার্স। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার দিয়ে তিনি তার অবসরের  ঘোষণা করেন। সেখানে নিজের বিদায়ের কারণ হিসেবে জানান ‘ক্লান্তি’। যদিও গোটা পৃথিবী তাকে ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলতে দেখার জন্য তাকিয়েছিলো। অনেকেই চেয়েছিলো টেস্ট থেকে অবসর নিয়ে শুধুমাত্র ওয়ানডে এবং  টি-টুয়েন্টি খেলুক ডি ভিলিয়ার্স, অন্তত ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। 

সবাই ভেবেছিলো হয়তো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ গুলোতেও আর ডি ভিলিয়ার্স কে দেখা যাবে না। তখন যদিও আইপিএল ছাড়া অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতেন না তিনি। আর এখন তো বাদ যাচ্ছে না একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগও। খেলে ফেলেছেন বিপিএল এবং পিএসএল। আবার নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন জুন-জুলাইতে ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ টি-টুয়েন্টি ব্লাস্ট এ খেলার জন্য। হয়তো সামনে সিপিএল এবং বিবিএল ও বাদ যাবে না।

২০১৯ সালের শুরু হতে বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত তার জাতীয় দল দক্ষিণ আফ্রিকা খেলবে ১০টি একদিনের আন্তর্জাতিক এবং ৬টি টি-টুয়েন্টি, মোট ১৬টি ম্যাচ। বিশ্বকাপে খেলবে ৯টি ম্যাচ(সেমিফাইনাল খেললে ১০টি এবং ফাইনাল খেললে ১১টি)। অর্থাৎ বিশ্বকাপ সহ সর্বমোট ২৫টির মতো ম্যাচ।

পিএসএল এ ইঞ্জুরিতে পড়ার আগ পর্যন্ত ২০১৯ সালে বিপিএল এবং পিএসএল মিলে এ পর্যন্ত ১৩টি টি-টুয়েন্টি খেলে ফেলছেন তিনি(ইঞ্জুরিতে না পড়লে আরো ৩ থেকে ৫টি ম্যাচ খেলতেন)। ইঞ্জুরি মুক্ত থাকলে আইপিএল এ খেলতে হবে কোয়ালিফায়ার ছাড়াই আরো ১৪টি ম্যাচ। জুন-জুলাইতে আসছে  টি-টুয়েন্টি ব্লাস্ট

দেখা যাচ্ছে যে, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো খেলার জন্য যে কয়দিন তাকে মাঠে থাকতে হচ্ছে, শুধুমাত্র জাতীয় দলের হয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটগুলো খেলে গেলে তাকে আরো কম দিন মাঠে থাকতে হতো। এখানে তার অবসরের মূল কারণ "ক্লান্তি" টা প্রশ্নবিদ্ধ যে কারো চোখে। নির্দ্বিধায় তিনি ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলে যেতে পারতেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে খেলা অবসরের আগ পর্যন্ত বন্ধ রাখতে পারতেন। যেমন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ম্যাক্সওয়েল, ফিঞ্চ, স্টার্করা বিশ্বকাপ এর খেলাতে নিজের ক্লান্তিমুক্ত বা ফিট রাখতে খেলছেন না এবারের আইপিএল

 

 

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।