• ফুটবল

বার্সেলোনা বনাম লিভারপুল প্রী ম্যাচ এনালাইসিস

পোস্টটি ২০৯৭ বার পঠিত হয়েছে

ইউরোপে বর্তমানে সেরা যে দলগুলো আছে তাদের মধ্যে বার্সেলোনা এবং লিভারপুল দুটি অন্যতম দল। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমিফাইনালে এই দুই দল মুখোমুখি হবে ফাইনালে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণের জন্যে। সালাহ মানে ফিরমিনোদের সাথে মেসি সুয়ারেজদের লড়াইটা কেমন হতে পারে?

মেসিকে আটকানো - 

ইউনাইটেড কোচ ওলে ফার্স্ট লেগে মেসিকে কেইজ তৈরি এবং জোনাল মার্কিং ব্যবহারের মাধ্যমে আটকাতে সক্ষম হয় যার প্রমাণ পুরো ম্যাচে মেসির একটি মাত্র অন টার্গেট শট, কিন্তু দ্বিতীয় লেগে ম্যান মার্কিং স্ট্র্যাটেজি ব্যবহারের ফলে তাকে আটকাতে পারে নি কারণ ওয়ান অন ওয়ান সিচুয়েশনে মেসি সহজেই নিজেকে মার্কিং থেকে ছাড়িয়ে নিতে পারে, পোষ্ট ম্যাচ এনালাইসিসে সাবেক ইউনাইটেড কোচ মরিনহো বলেন "মেসিকে আটকানোর জন্যে দুই তিনজন দিয়ে খাচা বানাতে হয় একজন যা মাঝে মাঝে যথেষ্ট হয় না সেখানে একজন দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করা উচিত না", কিন্তু দুই তিনজন দিয়ে আটকাতে গেলে মেসি সহজেই তার ভিশনের ব্যবহারের মাধ্যমে তার দলের অন্য খেলোয়াড় দিয়ে গোল বের করতে পারবে, এক্ষেত্রে একজন ডিফেন্সিভ মিড এবং জোনাল মার্কিং ব্যবহারের মাধ্যমে মেসিকে আটকানোর চেষ্টা করা যেতে পারে, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ১৪/১৫ এর শেষ ক্লাসিকোতে এবং ১৭/১৮ সিজনের স্প্যানিশ সুপারকাপে জিদানের মেসিকে সফল ভাবে আটকাতে সক্ষম হয়। তারপরেও মেসি তার দিনে যদি জ্বলে উঠে তবে কোনো পদ্ধতি কাজে আসবে কি না সেটা ঠাহর করা মুশকিল।

বার্সার অফসাইড ট্র্যাপ - 

বার্সা প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙার জন্যে অফসাইড ট্র্যাপ তৈরি করে যার জন্যে ভালভার্দে হাই ডিফেন্সিভ লাইন ব্যবহার করেন এবং এতে তাদের কিপার অনেক ভাইটাল রোল প্লে করে, যেহেতু স্টেগান সুইপার কিপার সেহেতু যদি ডিফেন্স কোনো বল মিস করে তবে সে তার লাইন ছেড়ে এসে তা ডিফেন্ড করে। কিন্তু বার্সাকে ইউনাইটেড এর রাসফোর্ড স্পিড সামাল দিতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে এবং সব সময় স্টেগান ১০০% সঠিক ক্লিয়ারেন্স করতে পারে না, আর ইউরোপের অন্যতম স্পিডি এটাক বর্তমানে লিভারপুলের, সালাহ মানেদের স্পিডের সামনে বার্সা হাই লাইন ডিফেন্স করলে গোল খাবার সম্ভাবনা বাড়বে বই কমবে না।

দুই দলের ফুলব্যাক - 

ক্লপ ভালভার্দে দুই জনই নিজেদের এটাক লাইন ন্যারো করে ফুলব্যাকদের দিয়ে আক্রমণ করাতে পছন্দ করে,  এই উপায়ে যদিও এটাক করার সময় প্রতিপক্ষের বক্সে ওভারলোড করা যায় কিন্তু যেসব দলে স্পিডি ফরোয়ার্ড আছে তাদের বিপক্ষে ফুলব্যাক দিয়ে আক্রমণ করলে তা বুমেরাং হয়ে আসতে পারে, কুইক কাউন্টার এটাকের মাধ্যমে ফুলব্যাকদের ফেলে আসা স্পেস ব্যবহার করে সহজেই গোল আদায় করে নেওয়া যায়, বার্সা এক্ষেত্রে কৌতিনহোকে বাদ দিয়ে দেম্বলেকে খেলাতে পারে কারণ কুইক কাউন্টার এটাকের জন্যে দেম্বেলের স্পিড কাজে লাগাতে পারবে।

ডিফেন্ডারদের নিজেদের স্পেস ছেড়ে আসা -

বার্সার পিকে এবং লিভারপুলের ম্যাতিপ দুই জনই প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডকে অনেক সময় ফলো করতে যেয়ে নিজেদের লাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসে প্রতিপক্ষের আক্রমনের জন্যে স্পেস দিয়ে দেয়, ইউনাইটেড এর সাথে বার্সার প্রথম লেগে যে একটি গোল এসেছে তা লুক শ মেসিকে ফলো করতে যেয়ে যে স্পেস ফেলে এসেছে তার ব্যবহার করে এসেছে। সুতরাং এইরকম ভুল যদি দুই দলের যেকোনো ডিফেন্ডার করে তবে উভয় দলেরই গোল খাবার চান্স বেড়ে যাবে।

সর্বোপরি বলা যায় যে এই ম্যাচটি ফুটবল ভক্তদের জন্যে একটি অসাধারন ম্যাচ হতে চলেছে। যেই হারুক বা জিতুক এটি একটি উপভোগ্য গেম হবে বলে আমার বিশ্বাস 

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।