• ক্রিকেট

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো জুড়ে আইসিসির ভারত প্রীতির বহিঃপ্রকাশ !

পোস্টটি ৮২৭ বার পঠিত হয়েছে

ICC _India

ইংল্যান্ডে চলছে আইসিসি আয়োজিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯ এর মুল পর্ব। তাই ক্রিকেট সমর্থকদের মধ্যে চলছে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বাকযুদ্ধ-উত্তেজনা। এরই মধ্যে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ এবং টুইটারে বহিঃপ্রকাশ পাচ্ছে আইসিসির ভারত প্রীতি। যা প্রশ্ন তুলেছে আইসিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে।

গত বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে অভিযান শুরু করেছে ভারত। আর সেদিনই আইসিসি'র পোস্টকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

বিরাট কোহলিকে তো ‘কিং’ কোহলি নামে বিশ্ব অনেক দিনই চেনে। তবে বিশ্বকাপের মাঝেই বিরাটকে কিং বলে দেওয়ায় চটেছেন অন্য ক্রিকেট খেলিয়ে দেশের সমর্থকরা। অন্য কেউ নয়। কোহলিকে রাজা বলে দিয়েছে স্বয়ং আইসিসিই। বুধবার আইসিসি'র পক্ষে তাদের টুইটার হ্যান্ডলে একটি ছবি শেয়ার করা হয়। সেখানেই বিরাট কোহলির একটি স্কেচ পোস্ট করা হয়েছে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে ভারতীয় অধিনায়ক একটি মুকুট পরে সিংহাসনে বসে রয়েছেন। তাঁর হাতে ধরা ব্যাট। অন্য হাতে বল। পোশাকেও রাজকীয়তা স্পষ্ট। আইসিসি'র এমন পোস্টে ভারতীয় সমর্থকরা খুশি হলেও, অন্যান্যরা রীতিমতো ক্ষিপ্ত।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হওয়ার দিনে টিম ইন্ডিয়ার দলপতি কোহলিকে ‘কিং কোহলি’ বানিয়ে দিয়েছে আইসিসি। ভারতীয় দলপতিকে সম্মান জানিয়ে আইসিসি একটি ছবি টুইট করে। গ্রেট ব্রিটেনের এক শিল্পীর আঁকা ওই ছবিতে দেখা যায়, রাজার বেশে মুকুট পরে সিংহাসনে বসেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। তার এক হাতে ব্যাট, অন্য হাতে বল। কোহলির ছবির পেছনে একটি বোর্ড টাঙানো। যেখানে লেখা, ‘আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ী। ভারত ১৯৮৩, ২০১১।’ এর পরে কিছুটা জায়গা ফাঁকা। যেখানে আরও একটি সাল লেখার জায়গা রাখা হয়েছে।

ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার এই কাণ্ডে শুরু হয় বিতর্ক। কোহলির সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। সোশ্যাল মিডিয়াতেই কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে থাকেন, বিশ্বকাপ শুরু হতে না হতেই কীভাবে কোহলিকে সিংহাসনে বসিয়ে দিল আইসিসি?

এটি নিয়ে কথা তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন। তিনি ব্যঙ্গ করে টুইট করেন, ‘নিরপেক্ষতার চরম নিদর্শন!!!’

পরে ভনের সেই টুইটের জবাব দেয় আইসিসি। ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থাটি তিনটি তথ্য দিয়ে পাল্টা টুইট করে। যেখানে দেখানো হয়েছে, কোহলি ওয়ানডে এবং টেস্টের এক নম্বর ব্যাটসম্যান। তাছাড়া, তিনি আইসিসির তিনটি পুরস্কারজয়ী ক্রিকেটার।

অন্যদিকে, আইসিসির ফেসবুক ভেরিফাইড পেজ থেকে গত ২৬মে হিন্দি ভাষায় (ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯, হিন্দি) নামে তৈরি করা হয় একটি পাবলিক গ্রুপ। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংস্থা আয়োজিত বিশ্বকাপ যেখানে ১০ টি দেশ খেলছে সেখানে ক্রিকেটের এই সর্বোচ্চ সংস্থা কিভাবে নিজেদের পেজ থেকে হিন্দি ভাষায় গ্রুপ তৈরি করতে পারে? ভারত ব্যতীত কি অন্য কোনো দেশে ক্রিকেট সমর্থক নেই?

পাবলিক এই গ্রুপে যে কেউ ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে পোস্ট করতে পারে কিন্তু সেটা নিরপেক্ষতা থাকার কথা। আবার এই হিন্দি ভাষায় তৈরি করা গ্রুপের লিংক আইসিসির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এটাস্ট করা।

আইসিসির হিন্দি ভাষায় পরিচালনা করা গ্রুপ, কোহেলিকে রাজা বানানো সরাসরি আইসিসির ভারত প্রীতির বহিঃপ্রকাশ। যা আইসিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মনে হচ্ছে এটা আইসিসি আয়োজিত ক্রিকেট বিশ্বকাপ না বরং ‘ভারত জেতানোর কাপ’ ।

 

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।